মেইন ম্যেনু

যে কারণে কমলা হলো নদীর পানি!

দেখলে মনে হবে কমলা রংয়ের নদী! আসলে কিন্তু বাস্তবে তা নয়। কলোরাডোর পরিত্যক্ত এক সোনার খনিতে জমে থাকা ময়লা পানি একটি নদীতে ছেড়ে দেয়া হয়। মুহুর্তেই পাল্টে যায় নদীর চিরাচরিত রূপটি। গোটা নদীর পানি গাঢ় কমলা রংয়ের হলো গেল। অনেকে বলছেন, অনেক ওপর থেকে দেখলে মনে হচ্ছে এটি একটি সর্ষে ক্ষেত। কাজেই একে সর্ষে নদীও বলা যায়।

আমেরিকার ফেডারেল এনভায়রনমেন্টাল বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সোনার খনি থেকে যে পানি ছাড়া হয়েছে তাতে উচ্চমাত্রায় সীসা এবং আর্সেনিক পাওয়া গেছে।

এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সি (ইপিএ)-এর রিজিওনাল ডিরেক্টর শন ম্যাকগ্রাথ জানান, এখন পর্যন্ত এ পানি পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্যে কতটা ক্ষতিকর হতে পারে তা বিশ্লেষণ করা হয়নি। এ পানিতে আরো পাওয়া গেছে ক্যাডমিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, কপার এবং ক্যালসিয়াম।

এদের মধ্যে অন্তত দুটো পদার্থ মানুষের স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে। এ পানির আর্সেনিক ক্যান্সারসহ দৃষ্টিশক্তির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এ ছাড়া প্যারালাইসিসের সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ নদীর নর্দান নিউ ম্যাক্সিকোর অংশে পানি পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে পরীক্ষার ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ইপিএ-এর তত্বাবধানে ওই সোনার খনিতে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছিল। দুর্ঘটনাক্রমে সেখান থেকে ১০ লাখ গ্যালোন বর্জ পানি ছেড়ে দেওয়া হয়। এই পানি ছড়িয়ে পড়ে পাশের নদীতে। স্থানীয়রা এ নদীর পানি নানা কাজে ব্যবহার করেন।

স্থানীয় অধিবাসীরা এ নদীর পানি সংগ্রহ বন্ধ করে দিয়েছেন। সেচের কাজে এ পানি ব্যবহার করা হতো। কৃষকরা বন্ধ করে দিয়েছেন জমিতে পানি প্রবাহের গেট।

এ নদীতে সরকারের পক্ষ থেকে ১০৮ জন বিশেষজ্ঞকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাসহ পানির নিচে নামিয়ে দিয়েছেন। তারা নদীর নিচের পরিবেশে কেমন প্রভাব পড়েছে তা নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন।

এখন নদীর কি হাল হয় তা শিগগিরই দেখা যাবে। কিন্তু গোটা নদীর এমন অভূতপূর্ব চেহারা দেখে বিস্মিত সবাই। টলটলে পানির নদীটা হঠাৎ করেই কমলা রংয়ের নদী হয়ে গেল। সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার






মন্তব্য চালু নেই