মেইন ম্যেনু

যে কারণে হাশমি পছন্দ করেন ফারিয়াকে !

এখন আলোচনার শীর্ষে নুসরাত ফারিয়া। এবার কলকাতার এই সময় পত্রিকায় তাকে নিয়ে লিখেছেন- শতরূপা বসু কথায় বলে বিধির বিধান খন্ডাবে কে৷ দাদু ছিলেন আর্মি জেনারেল৷ মা শিক্ষিকা, বাবার ব্যবসা৷ ছোট থেকেই কঠোর নিয়মানুবর্তিতায় বড় হওয়া৷ তাই কর্পোরেট ওম্যান হওয়ার ইচ্ছেটা বোধহয় বেমানান নয়৷ হিসেব মিলিয়ে ব্যাচেলর অফ বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পড়ছিলেনও বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে৷ পর পর দুবার জাতীয় ডিবেটে চ্যাম্পিয়ন৷ আর সেখানেই বাধল গোল৷ শুরু হল নানা অনুষ্ঠানে ভিডিও জকি-র অফার পাওয়া৷ তারপর আড়াই বছরে ৩৬০টা ইভেন্ট আর ২০০রও বেশি টেলিভিশন শো৷ সেই সমস্ত ইভেন্টে পারফর্ম করেছেন এ আর রহমান, সুনিধি চৌহান, এডওয়ার্ড মায়া৷ সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় রেডিও চ্যানেলে দেড় বছর সেলিব্রিটি শো-য়ের উপস্থাপন৷ মডেলিং-এর অফার৷ এই সমস্ত করতে করতেই ভাবছিলেন যথেষ্ট হয়েছে- এসবের এবার ইতি টানবেন৷ অস্ট্রেলিয়ায় যাবেন উচ্চশিক্ষার খাতিরে৷ মানে, আর যাই হোক, অভিনয়ে কোনওদিনই তেমন মতি ছিল না নুসরাত ফারিয়ার৷ তাই যথারীতি আবার বাধল গোল৷ অতঃপর সাঁ করে কলকাতার গোলপোস্টে৷
থুড়ি, আশিকি-ট্রু লাভ-এর পোস্টারে৷ নায়ক অঙ্কুশের বাহুতে৷ আর কলকাতার সিনেমা দর্শকের চোখের আলোয়৷ সারা শহর জুড়ে মিষ্টি মেয়ের মিষ্টি হাসি৷ নুসরত ফারিয়ার প্রথম ছবি আর কয়েক ঘন্টার মধ্যে মুক্তির অপেক্ষায়৷ বাংলাদেশে আমার ছবি দেখে হিমাংশু আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন ছবি নিয়ে৷ ভাবলাম, এখানেও একটা ঢিল মেরে যাই! দেখি না কী হয়, বলছেন নুসরাত৷
নুসরাতের আগে ববিতাকে কলকাতা পেয়েছিল সত্যজিতের অশনি সঙ্কেত-এ৷ তারপর এক এক করে আসাদ, ফেরদৌস, এখন জয়া এহ্সান৷ ববিতা বাংলাদেশে একজন লেজেন্ড৷ যদিও আমার সঙ্গে কোনওদিন কথা হয়নি৷ আর ফেরদৌসকে আমি আঙ্কেল বলে ডাকি৷ বলি, তুমি তো হিরো! আমাদের মধ্যে নানারকম ব্যাপার নিয়ে আড্ডা হয়৷ নানা টিপস দেন আমাকে, বললেন নুসরাত৷ আর আশিকি? আমার চরিত্রের নাম শ্রুতি৷ খুব মিষ্টি একটা মেয়ে৷ লন্ডনে থাকে৷ খুব ওয়ের্স্টানাইজড হলেও নিজের বাঙালি শিকড়টাকে ভোলেনি৷ প্রাচ্য আর পাশ্চাত্য- দুই সংস্কৃতির খুব সুন্দর এটা মিশেল, বলছেন নুসরাত৷
ছবির প্রযোজক হিমাংশু ধানুকাকে জিজ্ঞেস করা হল তাঁর সংস্থার নুসরাত নামের ওপর কোনও দুর্বলতা আছে কি না? এর আগেও আরেক নুসরতকে তাঁরা লঞ্চ করেছিলেন৷ যিনি এখন প্রতিষ্ঠিত নায়িকা৷ লঞ্চ করেছিলেন এই ছবির যিনি নায়ক সেই অঙ্কুশকেও৷ হাসতে হাসতে বলছেন হিমাংশু, হতেই পারে৷ নুসরত ফারিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসলে আমরা একজন অল্পবয়সী আর ফ্রেশ মুখ খুঁজছিলাম৷ শ্রাবন্তী, শুভশ্রী, নুসরত- সবার সঙ্গেই কাজ করেছি৷ ওদের পর আরেকটা ফ্রেশ মুখের দরকার ছিল৷ সেখানে নুসরত ফারিয়ার আসা নিশ্চয়ই তাত্পর্যপূর্ণ৷ কোথায় পেলেন এঁকে? বাংলাদেশে যখন গিয়েছিলাম দেখেছিলাম প্রায় সারা শহরের হোর্ডিং জুড়ে নুসরাত৷ বিজ্ঞাপনে বা ব্র্যান্ডের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে৷ তারপর ওর সঙ্গে যোগাযোগ করি৷ বাংলাদেশে আর কলকাতায়, দুজায়গাতেই অডিশন হয়েছে৷ সেই দুর্দান্ত অডিশন দেখেই ওকেই সিলেক্ট করি, বলছেন হিমাংশু৷
পুরো ছবিই শ্যুট হয়েছে ইংল্যান্ড আর ওয়েলস জুড়ে৷ মাঝে সিনে ফেডারেশনের সঙ্গে ঝামেলার জেরে একদিন শ্যুট বন্ধ থাকে৷ সমস্ত ঝড়ঝাপটা সামলে হিমাংশু আশাবাদী ছবি নিয়ে৷ আমরা কার্ডিফ ক্যাসল-এও শ্যুট করেছি৷ মূলত রোম্যান্টিক প্রেমের গল্প৷ আমাদের ওখানে শ্যুটিং চলার সময় ইমরান হাশমি শ্যুট করছিলেন৷ ইমরানের নুসরতকে এত পছন্দ হয় যে নুসরতকে নিয়ে ছবি সই করবার কথা বলেন৷ নুসরাত ছাড়া পায়েলও তো ছবি সাইন করেছে৷ অবশ্য নুসরাত ছাড়া আরেকটা চমকও আছে৷ আদিল শেখ, যিনি বজরঙ্গি ভাইজান-এ সলমন খানের কোরিওগ্রাফি করেছেন, তিনিই আশিকির টাইটেল ট্র্যাক তোর আশিকি কোরিওগ্রাফি করেছেন, বলছেন হিমাংশু৷
আর নায়ক অঙ্কুশ? কী বলছেন তিনি? আমার চরিত্রের নাম রাহুল৷ খুব মজা করতে ভালোবাসে৷ একটা নিজস্ব অ্যাটিটিউড আছে৷ কলেজ পড়ুয়ারা, বিশেষ করে য়ো-য়ো দর্শকদের খুব ভালো লাগবে৷ পুরোটাই বিদেশে শ্যুট হয়েছে৷ প্রথম হাফ-টা রাহুল আর শ্রুতির জার্নি নিয়ে- কীভাবে ওদের দুজনের দেখা হয়, ওদের প্রেম ইত্যাদি৷ দ্বিতীয় হাফ অপেক্ষাকৃত সিরিয়াস, বলছেন অঙ্কুশ৷ নাচ তো আপনার কমফর্ট জোন৷ সেটা নিশ্চয়ই থাকছে? হ্যাঁ, সেটা আছে, হেসে জানাচ্ছেন অঙ্কুশ৷ এটা অঙ্কুশের এসকে মুভিজ-এর সঙ্গে ছ নম্বর ছবি- ইডিয়ট, কানামাছি, খিলাড়ি, আমি শুধু চেয়েছি তোমায়, রোমিও ভার্সাস জুলিয়েট-এর পর আশিকি৷ হ্যাঁ, এসকে-র সঙ্গে একটা কমফর্ট জোন তৈরি হয়ে গিয়েছে৷ তবে সেটা ছেড়েও আমি বেরিয়েছি- জামাই ৪২০ করেছি, বলছেন তিনি৷ সঙ্গে এও বলছেন যে এত রকম ছবির জন্য একটা ভালো ব্যাপার হয়েছে- দর্শকের ছবির দেখার কোনও কমতি নেই৷ অবশ্য নায়িকা নুসরাতের বেশ লেগেছে অঙ্কুশকে৷ খুব ভালো কো-অ্যাক্টর অঙ্কুশ৷ খুবই ডাউন-টু-আর্থ৷ কলকাতায় আসার পর আমার ফোন করে খোঁজ নিয়েছে ঠিক আছি কিনা, বলছেন নুসরাত৷
ছবির সঙ্গীত পরিচালক সৌভিক গুপ্ত, যিনি স্যাভি নামেই পরিচিত৷ বলছেন স্যাভি, ছবিতে পাঁচটা গান আছে৷ বাণিজ্যিক আর মাসালা ছবির পাশাপাশি আশিকি রোম্যান্টিক ছবিও বটে৷ তাই সব কটা গানই রোম্যান্টিক রাখার চেষ্টা করেছি৷ হিন্দি আশিকির সবকটা গানই সুপারহিট৷ তাই সেটার একটা চাপ তো ছিলই৷ পাঁচটা গানের মধ্যে তিনটে রোম্যান্টিক, দুটো চুলবুলি৷ টাইটেল ট্র্যাকটা তোর আশিকি গেয়েছে জুবিন নওটিয়াল, যিনি বজরঙ্গি ভাইজান-এ জিন্দেগি কুছ তো বতা আর দ্য শৌকিনস-এ মেহেরবানি গেয়েছেন, বলছেন সৌভিক৷
তবে বলতেই হচ্ছে, সব মিলিয়ে অবশ্যই চোখ থাকবে নুসরাতের ওপর৷ যিনি মনে করেন যে শেষ পর্যন্ত একজন বাংলাদেশি হিসেবেই সবার কাছে পৌঁছতে চান৷ আমার দাদা (দাদু) বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন৷ তাঁর মতো আমিও নিজের পরিচয় একজন বাংলাদেশি হিসেবেই রাখতে চাই৷ পৃথিবীর যেখানেই থাকি না কেন, যে কাজই করি না কেন, এই পরিচয়েই পরিচিত হতে চাই, স্পষ্ট বললেন নুসরাত৷






মন্তব্য চালু নেই