মেইন ম্যেনু

যে তিন ধরণের কর্মচারী আপনার অফিসে রাখা উচিৎ নয়

অফিসের প্রতিটি মানুষই এক রকম হবে এমনটা নয়। প্রতিষ্ঠানটি খুব ভালোভাবে চললেও দেখা যায় এমন দুই-একজন মানুষ তাতে কাজ করছে যারা অতিরিক্ত ঝামেলা তৈরি করছে। আপনি হয়তো এখন বুঝতে পারছেন না, কিন্তু এরা যে ঝামেলা তৈরি করছে সেদিকে মনোযোগ দিতে গিয়ে আপনি খরচ করছেন মুল্যবান সময় ও শ্রম। Inc.com এর মতে অফিসে বেশ কিছু ধরণের মানুষ থাকেন যারা কাজে এমন ক্ষতি করেন, কিন্তু এর মাঝে আবার কেউ কেউ থাকেন যাদেরকে একেবারেই বরদাস্ত করা যায় না। Business Insider এর মতে, এই তিন ধরণের মানুষ সাধারণত অফিসের জন্য মোটেই উপকারি নন এবং এদেরকে আপনার প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে ফেলাটাই ভালো।

১) অতিরিক্ত নাটুকে মানুষ

জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই এসব আবেগপ্রবণ মানুষ দেখা যায় যারা খুব বেশি মাত্রায় নাটকীয়তার চর্চা করতে ভালোবাসেন। তাদের কাছে জীবনটা হলো নাটকের একটা মঞ্চ। যে কোনো পরিস্থিতিকে তারা ঘাঁটাঘাঁটি করে আরও উত্তপ্ত করিয়ে ফেলেন। এদের কারণে প্রায়শই দেখবেন অন্য কর্মচারীদের মাঝে ঝগড়া লেগে গেছে, যদিও আসল ঘটনাটা একেবারেই তুচ্ছ। এদের কারণে কাজে ক্ষতি তো হয়ই, তার পাশাপাশি অন্যদের মাঝেও তাদের নেতিবাচক আচরণ সংক্রমিত হয়। এমনকি এদের কারণে কর্মকর্তাদের ওপরেও অসন্তুষ্ট হয়ে উঠতে পারে বাকি কর্মচারীরা। এমন নাটুকে কর্মচারীকে বাদ না দিয়ে তাক সামলাতে গেলে সমস্যা হতে পারে, দেখা যেতে পারে অন্য কর্মচারীরা মনে করবেন তাদের ওপর খবরদারী করা হচ্ছে। কিন্তু ওই কর্মচারীর কারণে অফিসে যেসব সমস্যা তৈরি হয়েছে সেগুলো নিয়ে তার সাথে সরাসরি কথা বললে এমন সমস্যা এড়ানো যেতে পারে।

২) ছিঁচকাঁদুনে কর্মী

যে কোনো সমস্যায় নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে তুলে ধরা ছিঁচকাঁদুনে এসব মানুষকে সামলে চলা বেশ বড় একটা ঝামেলা। নিজেদের কাজের দায়িত্ব তারা নিতে চান না। বরং কোনো ভুল করলে তারা অন্য কারো ওপরে সেই দোষ চাপিয়ে নিজেকে নিষ্পাপ প্রমান করতে চান তারা। এদের ক্রমাগত অজুহাত দেখতে দেখতে অন্য কর্মীরাও এমন মানসিকতা তৈরি করে ফেলতে পারেন। এর পাশাপাশি এমন কিছু মানুষ আছেন যারা নিজেদেরকে অসুস্থ বলে জাহির করে কাজ এড়িয়ে যান অথবা অফিসেই আসেন না। অনেক সময়ে দেখা যায় তার এমন অসুস্থতার দাবি একেবারেই ভিত্তিহীন। এই একজন মানুষের কাজের প্রতি অনীহা দেখতে দেখতে অনেক সময়ে বাকিদেরও কাজ ফাঁকি দেবার প্রবণতা চলে আসতে পারে। এইসব সমস্যা এড়াতে অফিসে অনুপস্থিত থাকা এবং কাজে অংশগ্রহণ করার ব্যাপারে নির্দিষ্ট নিয়মনীতি ঠিক করে রাখুন। যদি এর পরেও সমস্যা হতে থাকে তাহলে ওই কর্মচারীকে আলাদা করে নিয়ে কথা বলে সমস্যাটার সুরাহা করার চেষ্টা করুন।

৩) নিয়মের প্রতি অনীহা দেখান যে কর্মচারী

কোনো কারণ ছাড়াই নয়ম ভাঙতে ওস্তাদ এসব মানুষ। পোশাক-আশাক থেকে শুরু করে কাজের নিয়ম পর্যন্ত সবকিছুতেই তারা গোলমাল করবেন ইচ্ছে করেই। তারা নিয়মনীতিকে শৃঙ্খল হিসেবে দেখেন এবং এগুলো ভাঙাটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন। অনেক সময়ে তারা নিরীহ হয়ে থাকেন। তাদের কারণে অফিসের কোনো ক্ষতি হয় না। কিন্তু যদি ক্ষতি হতে থাকে তাহলে অবশ্যই এই একটি মানুষের জন্য নিয়ম ভাঙাটাকে মেনে নেবেন না। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন তার বিরুদ্ধে। Inc.com এর মতে, কোম্পানির নিয়মনীতি যাই হোক না কেন, কর্মচারী তা মেনে না চললে তাকে বাদ দেওয়াটাই শ্রেয়।

এই তিন ধরণের কর্মী ছাড়াও career24 বলে কর্মীদের মাঝে দুই ধরণের গুণ থাকা চাই। হয় ভালো দক্ষতা বা ভালো আচরণ ও কাজ করার মানসিকতা। যার মাঝে একটি গুণ আছে, তাকে অন্যটি শিখিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু যার মাঝে এই দুইটি গুণের কোনোটিই নেই তাকে শেখানো কষ্ট।

পরিশেষে এটাই বলা যেতে পারে যে কর্মচারীদেরকে সামলে চলাটা খুবই কঠিন একটা কাজ। যেসব কর্মচারী নিজের কাজটাও ঠিকভাবে করেন না এবং অন্যদের কাজের ক্ষতি করেন, প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করেন তাদেরকে সরিয়ে দিলেই বরং আপনি তাদের জায়গায় নিয়ে আসতে পারবেন এমন কোনো দক্ষ কর্মচারীকে যে আপনার প্রতিষ্ঠানে লক্ষ্য পূরণে কাজে আসবে।

লেখক
কে এন দেয়া






মন্তব্য চালু নেই