মেইন ম্যেনু

যে ভাই-বোনের কাছে ঘুম হলো মৃত্যুর আতঙ্ক!

ঘুম মানুষের একটি স্বাভাবিক চাহিদা। কিন্তু এই প্রশান্তির ঘুমই কারো কারো কাছে ভিন্ন রূপে দেখা দেয়। তেমনি একটি ভিন্ন ধরণের ঘটনা উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। যেখানে ভাই-বোনের কাছে ঘুম হলো মৃত্যু আতঙ্ক! কোনো একদিন সকালে ওদের ঘুম আর ভাঙবে না।

রোজ রাতে এই ভয় নিয়েই ঘুমোতে যান আমেরিকার দুই ভাই–বোন ল্যাথাম এবং হ্যালি ওয়েব। বিরল জিনের অসুখে ভুগছেন দু’জনে। কিন্তু এর পেছনে আসল কারণটা কি? ঘুমোলেই নষ্ট হয়ে যায় প্রচুর স্নায়ুকোষ। ঘুম থেকে ওঠেন তীব্র স্নায়ুবৈকল্য নিয়ে। ওদের দাদাও এই রোগেই মারা যান।

সম্ভবত ওদের কাকাও, যিনি মারা গিয়েছিলেন ঘুমের মধ্যে। ভাই ল্যাথামের রোগটা ছোটবেলায় ধরা পড়ে, বলেছেন বড় বোন হ্যালি। রোজ সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরেই ওর স্নায়বিক দৌর্বল্য দেখা যেত। পরে কিশোরী বয়সে হ্যালির মধ্যেও এই রোগের লক্ষণ ধরা পড়ে।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বিরলের মধ্যে বিরলতম এই রোগ প্রতি দশ লক্ষ মানুষের মধ্যে একজনের হয়। স্নায়ুকোষের ক্ষয় হলে তা আর নতুন করে শরীরে তৈরি হয় না। তাই এই রোগের চিকিৎসাও সম্ভব নয়। যেকোনো দিন মারা যাবেন, সেই ভয়ে ওদের ব্যক্তিগত জীবন বলেও কিছু নেই।

হ্যালি বলেছেন, আমার কোনো প্রেমিক নেই। সংক্রমণ হওয়ার ভয় কেউ আমার কাছে আসতে চায় না। এই রোগ যে সংক্রামক নয়, সেটা কেউ মানতে চান না। আমার ভাইয়েরও কোনো প্রেমিকা নেই। মৃত্যুর জন্যে অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই আমাদের।

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা রোগটা নিয়ে পরীক্ষা–নিরীক্ষা করছেন। তারা বলেছেন, খুব বেশি হলে ওদের হাতে ১০ বছর সময় আছে। যদি না তার মধ্যে এই রোগের কোনও চিকিৎসা খুঁজে পাওয়া যায়!‌‌‌






মন্তব্য চালু নেই