মেইন ম্যেনু

যে মানচিত্রের রহস্য আজও ভেদ হয়নি

হরিণের চামড়ার উপরে অঙ্কিত এই মানচিত্রটির পরীক্ষা করে জানা যায়, ১৬শতকের তুর্কি নৌবহরের এক অ্যাডমিরাল পিরি রিস এই মানচিত্রটির রচয়িতা।

১৯২৯ সালে গুস্তাভ অ্যাডলফ ডেইসম্যান নামের জনৈক জার্মান ধর্মতত্ত্ববিদের নেতৃত্বে কয়েকজন ইতিহাস অনুসন্ধিৎসু এক আজব মানচিত্রের সন্ধান পান তুরস্কের এক গ্রন্থাগারে। হরিণের চামড়ার উপরে অঙ্কিত এই মানচিত্রটির পরীক্ষা করে জানা যায়, ১৬শতকের তুর্কি নৌবহরের এক অ্যাডমিরাল পিরি রিস এই মানচিত্রটির রচয়িতা। এবং এ-ও জানা যায়, ১৫১৩ সালে মানচিত্রটি রচিত হয়েছিল।

পিরি রিস ছিলেন সেকালের নামজাদা কার্টোগ্রাফার বা মানচিত্র-নির্মাতা। তাঁর সেই মানচিত্রে আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল, দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এবং আন্টার্কটিকার উত্তর উপকূলের খুঁটিনাটি যথাযথভাবে অঙ্কিত রয়েছে। এইখানেই খটকা লাগে ঐতিহাসিকদের। তাঁরা অবাক হয়ে যান, কীভাবে ১৫১৩ সালে পিরি রিস আন্টার্কটিক অঞ্চলের অত নিখুঁত মানচিত্র নির্মাণ করেছিলেন, যেখানে ওই অঞ্চল ভৌগোলিকভাবে আবিস্কৃতই হয় এই মানচিত্রের ৩০০ বছর পরে! কার্যত অ্যান্টার্কটিকার সত্যিকারের কোঁজ পাওয়া যায় ১৮২০ সাল নাগাদ। ১৮৯১ সালের আগে সেখানকার কুইন মড ল্যান্ড সম্পর্কে কিছু জানাই যায়নি। অথচ পিরি রিসের মানচিত্রে কুইন মড অঞ্চল তার খুঁটিনাটি-সহ উপস্থিত। তার উপরে, দক্ষিণ আমেরিকার ওই উপকূল এবং কেপ হর্ন সম্পর্কে ১৫১৩ সালে কেউই কিছু জানতেন বলে মনে হয় না। কীভাবে সেই এলাকারও হদিশ পেলেন এই তুর্কি নৌবিশারদ, সেটাও রহস্যবৃতই থেকে যাচ্ছে।

তাহলে কি অ্যান্টার্কটিকা বা দক্ষিণ আমেরিকার ওই অঞ্চলে নৌ-অভিযান ঘটেছিল আমাদের জানা ইতিহাসের আগেই? পিরি রিস কি সেই অভিযানের নায়ক? হরিণের চামড়ায় আঁকা নীরব ম্যাপ কোনও উত্তর দেয় না। রহস্য বাড়ে, রহস্য বেড়েই চলে…।- এবেলা






মন্তব্য চালু নেই