মেইন ম্যেনু

যে লক্ষণগুলো দেখে বোঝা যায় আপনার দেহ বিষে পরিপূর্ণ

আপনি যদি আপনার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বুঝতে চান তাহলে আপনার কিছু লক্ষণের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে যা আপনার শরীর পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যবান আছে কিনা তা নির্দেশ করে। আপনার শরীর প্রতিদিনই খাদ্যের মাধ্যমে বিষ শোষণ করছে এবং যকৃৎ সেগুলো দেহ থেকে বাহির করে দেয়ার কাজ করে। কিন্তু কখনো কখনো অনুপযুক্ত খাদ্য এবং অপর্যাপ্ত শারীরিক কর্মকাণ্ডের জন্য বিষগুলো মুক্ত হয়ে শরীরে জমা হতে থাকে। কেউই চায়না তার শরীর বিষাক্ত বর্জ্যের ভাগাড় হোক। চারটি সবচেয়ে সাধারণ সংকেতের মাধ্যমে আপনি বুঝে নিতে পারেন যে, আপনার শরীর বিষে পরিপূর্ণ হয়ে আছে কিনা। আসুন জেনে নেই শরীরের বিষাক্ততার নির্দেশ প্রদানকারী সেই চারটি শারীরিক সংকেত সম্পর্কে।

১। ওজন নিয়ে সংগ্রাম করা

অনেক মানুষই ওজন কমাতে সক্ষম হন না। এর কারণ সাধারণত ব্যায়াম না করা, অনুপযুক্ত খাদ্য নির্বাচন এবং হরমোনের সমস্যা ইত্যাদি। কিন্তু আপনি কি জানেন শরীরে বিষের উপস্থিতিও এর একটি কারণ হতে পারে? বিশেষজ্ঞরা বলেন, কিছু বিষাক্ত পদার্থ যা কীটনাশকে পাওয়া যায় তা চর্বি কোষকে সমন্বিত করে। তাই ওজন কমানোর সহজ উপায় হচ্ছে স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচন, স্বাস্থ্যকর জীবনধারা এবং অবশ্যই নিয়মিত ব্যয়াম করা। শরীরের বিষাক্ততা কমে গেলে আপনি দেখবেন অতিরিক্ত ওজনও কমে যাবে।

২। গন্ধের প্রতি খুব বেশি সংবেদনশীলতা

যদি আপনি সিগারেটের ধোঁয়া ও সুগন্ধি দ্রব্যের প্রতি অন্যদের চেয়ে বেশি সংবেদনশীল হন, তাহলে আপনার শরীরে অনেক বেশি পরিমাণে বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতির নির্দেশিকা এটি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কোন নির্দিষ্ট গন্ধের প্রতি আপনার খুব বেশি সংবেদনশীলতা এটাই নির্দেশ করে যে, আপনার লিভার ও নিষ্কাশনকারী অন্যান্য অঙ্গ সন্তোষজনক ভাবে কাজ করছেনা। আপনার নাক গন্ধের প্রতি খুব বেশি সংবেদনশীল বলেই খুব সহজেই গন্ধ টের পান এবং এর ফলে আপনার মাথাব্যথা ও বমিবমি ভাব হয়। আপনার শরীরকে বিষমুক্ত করতে পারলে এই সমস্যাটিও দূর হতে সাহায্য করবে।

৩। দুর্গন্ধযুক্ত নিঃশ্বাস

সাধারণত খাদ্যকণা ও গন্ধ মুখে ব্যাকটেরিয়ার সৃষ্টি করে যা দুর্গন্ধের জন্য দায়ী। আপনার শরীর বিষাক্ত পদার্থে পরিপূর্ণ হয়ে আছে বলেই এমন হতে পারে। আপনার পরিপাক তন্ত্র ও যকৃৎ যা শরীরের প্রাথমিক বর্জ্য নিষ্কাশনি অঙ্গ তারা সঠিক ভাবে বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশন করতে পারছেনা বলেই এমন হয়। আপনার শরীরে কি হচ্ছে এটা শুধুমাত্র শ্বাসের মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়না। প্রায়ই আপনার জিহবাতেও সাদা আবরণ দেখা দিতে পারে। ঠিকমত দাঁত মাজা, ফ্লস ব্যবহার করা এবং জিহবা পরিষ্কার করার মাধ্যমে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করা যায়। তারপর আপনি আপনার পাকস্থলী ও যকৃৎকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করতে পারেন স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে। এছাড়াও জাঙ্কফুড ও প্রসেসড ফুড খাওয়া বাদ দিতে পারেন কারণ এগুলো বিষ সঞ্চয়ে সাহায্য করে।

৪। ঘন ঘন টয়লেটে যাওয়া

খুব ঘন ঘন টয়লেটে যাওয়ার লক্ষণ দেখে বুঝা যায় যে, আপনার শরীর বিষাক্ত পদার্থে পরিপূর্ণ হয়ে আছে এবং শরীর এই বিষ বাহির করে দেয়ার চেষ্টা করছে। যদিও এটি শরীর থেকে অবাঞ্ছিত উপাদান বাহির করে দেয়ার একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। কিন্তু এটি যখন খুব বেশি মাত্রায় হবে তখন আপনার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এটি হতে পারে অনেক বেশি তরল পান করার মাধ্যমে যা মূত্রের পরিমাণ বৃদ্ধি করবে। এর ফলে আপনার কিডনি কার্যকরীভাবে রক্ত পরিশোধন করতে পারবে। প্যাকেটজাত চিনিযুক্ত পানীয় যাতে কৃত্রিম রঙ, সুগন্ধি ও রাসায়নিক মেশানো থাকে তার পরিবর্তে পানি, চা ও তাজা ফলের রস পান করুন।

শরীরের বিষাক্ততা কমানোর সবচেয়ে ভালো প্রাকৃতিক উপায় হচ্ছে ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করা। ফাইবার বিষের ক্ষেত্রে স্পঞ্জের মত কাজ করে। প্রতিদিন ৩৫-৬০ গ্রাম ফাইবার গ্রহণ করার চেষ্টা করুন। ফাইবার সমৃদ্ধ শাকসবজি খাওয়ার চেষ্টা করুন। এগুলোতে শুধুমাত্র ফাইবারই থাকেনা এগুলোতে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও থাকে। শরীরকে বিষ মুক্ত করার সময়টাতে(১-৩মাস) আরো কিছু পুষ্টিকর উপাদানও গ্রহণ করতে হবে যা আপনার যকৃৎ, মস্তিষ্ক ও সাদা মেদকলাকে সুরক্ষা দিবে। আর তা হল :

· ক্লোরেলা শৈবাল
· কোয়ারসেটিন(যা পাওয়া যায় পেঁয়াজের ত্বকে)
· আঙ্গুরের নির্যাস
· ভিটামিন ডি৩(সূর্যরশ্মি)






মন্তব্য চালু নেই