মেইন ম্যেনু

যে সব গাছ সৃষ্টি করে চলেছে মানুষের সামনে দুর্বোধ্য সব রহস্য!

গাছ আমাদের খুব কাছের আর অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও পৃথিবীর আরো অনেককিছুর মতন প্রতিনিয়ত মানুষকে অবাক করে দিয়ে আসছে এই সবুজ প্রাণগুলোও। একটু একটু করে প্রকৃতি নিজের ইচ্ছেমতন গাছকে দিয়ে চলেছে নতুন মাত্রা আর সৃষ্টি করে চলেছে মানুষের সামনে দুর্বোধ্য সব রহস্য। চলুন আজ দেখে আসি এমনই দুইটি রহস্যকে।

১. চ্যান্ডেলিয়ার ট্রি

সান ফ্রান্সিসকোর ১৮৫ মাইল উত্তরে, ক্যালিফোর্নিয়ার ল্যাগেটের কাছেই অবস্থিত ড্রাইভ থ্রু ট্রি পার্কে গেলে ২০০ মাইল জুড়ে ছড়ানো অসম্ভব সুন্দর রেডউডের সারির সাথে সাথে আপনি পাবেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নয়নভরানো আকর্ষণও। কেবল প্রকৃতিই নয়, আপনার সুবিধার জন্য এই পার্কটিতে রাখা আছে বিশ্রামঘর থেকে শুরু করে আধুনিক জীবনযাত্রার সমস্ত সুযোগ-সুবিধাও। তবে এতকিছুর পরেও কেবল যে জিনিসটিকে দেখবার জন্যে মানুষ প্রতিবছর এই ড্রাইভ থ্রু ট্রি পার্কে ছুটে আসে। আর সেই একেবারে অন্যরকম আর অদ্ভূত আকর্ষণ ক্ষমতার অধিকারী হচ্ছে একটি গাছ। বলছিলাম চ্যান্ডেলিয়ার ট্রি বা ঝাড়গাছের কথা। ভাবছেন কি এমন আছে এই গাছটিতে? ২৭৬ ফুট লম্বা আর ৬ ফুট চওড়া এই গাছটির নীচের দিকে রয়েছে প্রায় ৬ ফুট ৯ ইঞ্চির একটি গর্ত। যার ভেতরে দিয়ে ছোটখাটো কোনকিছুই শুধু নয়, চলে যেতে পারে আস্ত একটি গাড়িও!

ঝাড়গাছ শুনলে ছোটখাটো কোন গাছ মনে হলেও বাস্তবে এই গাছের পাতার শুরুই হয়েছে প্রায় ১০০ ফুটের পর থেকে। ভাবছেন, তাহলে এর নাম ঝাড়গাছ কেন? কারণ আর কিছু না, গাছের মাথার ওপর চেপে বসে থাকা ঝাড়ের মতন দেখতে পাতার সম্ভার। ১৯৩০ সালে চার্লি আন্ডারউডের হাতে এই গাছের বেড়ে ওঠা শুরু হয়েছিল বলে মনে করা হয়। এমনিতে লাগেট ছাড়াও লস অ্যাঞ্জেলসে আরেকটি ঝাড়গাছের সন্ধান পাওয়া যায়। তবে লস অ্যাঞ্জেলসের গাছটি মানবসৃষ্ট। আর অন্যদিকে লাগেটের চ্যান্ডেলিয়ার বা ঝাড়গাছটি সেই ১৯৩০ সাল থেকে দাড়িয়ে আছে নিজের পায়ে। আদি ও অকৃত্রিমভাবে!

২. ইউ গাছ

গাছের বয়স ঠিক কত বছর হতে পারে? এবার যে গাছগুলোর কথা বলব সেগুলোর বয়স অনেকের মতে হাজারকেও পার করে ফেলেছে। আর এই গাছগুলো হচ্ছে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের পশ্চিম সাসেক্সের চিচেস্টারের প্রায় ৩ মাইল উত্তর-পশ্চিমের গ্রাম ওয়েস্ট স্টকের কাছে অবস্থিত স্টক ডাউন ও বো হিলের মাঝখানে আটকে পড়া কিংলে উপত্যকার প্রাকৃতিক সংরক্ষনভূমির ভেতরে অবস্থিত ইউ গাছ। এক বা দুইটি নয়, বেশকিছু ইউ গাছ রয়েছে এখানে। ইউ গাছের বনই বলা চলে এটিকে। ১৯৫২ সালে ব্রিটেনের প্রথম প্রাকৃতিক সংরক্ষণভূমি হিসেবে তৈরি হয়েছিল এই স্থানটি। নিজের আওতায় মোট ১৬০ হেক্টর জমি পেয়েছিল সংরক্ষণভূমিটি। যার ভেতরে ছিল পশ্চিম ইউরোপের অন্যতম মন মাতানো ও সেরা ইউ গাছের জঙ্গল। এখানকার অনেক ইউ গাছের বয়সই ১,০০০ বছরের বেশি। নিজেদের বিশাল চওড়া গুড়িগুলো নানারকম বিপর্যয় আর বয়সের ভারে হারিয়েছে তারা প্রায়ই। তবে তাই বলে ভেঙে পড়েনি কখনোই। বরং নিজেদের পাশাপাশি ঘন ছায়ায় আবৃত করে রেখেছে ভেতরের পুরো স্থানটিতে। যেখানে কোন ছোট গাছ কেন, চাইলে একটি ঘাসকেও খুঁজে পাওয়া যাবেনা। কিংলে উপত্যকার ইউ গাছগুলোর সঠিক বয়স কত সেটা কারো জানা নেই। সাধারনত ৪০০ থেকে ৬০০ বছর বয়সী হলেও ইউ গাছ মাছে মাছে আরো অনেক বেশি সময় ধরে বেঁচে থাকে। বয়সের সাথে সাথে ইউ গাছের ভেতরটা ফাঁপা হয়ে যায়। ফলে গাছের রিংগুলো গোনা কিংবা আর কোনভাবে বয়স বের করাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, ইউ গাছ ইচ্ছেমতন নিজেদের বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাই চারপাশের পরিবেশ প্রতিকূল দেখলে হুট করে বৃদ্ধি বন্ধ করে দেয় এরা। এসময় বন্ধ থাকে গাছগুলোর রিং তৈরি আর গুড়ির বৃদ্ধিও। সবকিছু অনুকূল হলে তবেই আবার বাড়তে থাকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়। এসবকিছু দেখেশুনে অনেকে এদের বয়সকে ৫,০০০ থেকে ৯,৫০০ পর্যন্ত অনুমান করে থাকেন। তবে সঠিকভাবে কিছুই বলা যায়না।






মন্তব্য চালু নেই