মেইন ম্যেনু

যে ৬টি প্রশ্নে নিজেকে করবেন নিরপেক্ষ মূল্যায়ন

আমাদের মস্তিষ্কে কত কিছুই না চলে! আমাদের চিন্তা সম্পর্কে আমরা যত সচেতন হব তত আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। নেতৃত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষক এবং কোচ ফ্রাংক ম্যাকরি এই বিষয়টি মাথায় রেখে ৬টি প্রশ্নের একটি তালিকা করেছেন যা আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে মানসিক শক্তি বাড়াতে সাহায্য করবে।

১। আপনার সব অভিজ্ঞতার আলোকে বলুন এই পৃথিবীর জন্য আপনার করণীয় কী?
যখন জীবনের উদ্দেশ্যের প্রশ্ন আসে আমরা সাধারণত বিষয়টিকে ঈশ্বরের হাতে ছেড়ে দিই। অথবা আমরা খুবই বিভ্রান্ত থাকি। আমাদের একেক সময় একেক কথা মনে হয়। আমার হয়ত এটা করার কথা, হয়ত ঐটাই আমার জীবনের উদ্দেশ্য, অথবা ৩য় কোনকিছু হয়ত যা এখনও খুঁজে পাওয়া যায় নি। এমন করতে থাকলে আমরা আসলে ঘুরতে থাকব একই জায়গায়। তাই, থামুন। স্থির হোন। হয়ত জীবনের উদ্দেশ্য আপনি ইতিমিধ্যেই পেয়ে গেছেন। সেটিকে চিহ্নিত করুন।

২। দিনের কতটা সময় আপনি “কী করা উচিৎ” তার পেছনে ব্যয় করেন আর কতটা সময় ব্যয় করে “কী করতে চান” তার জন্য?
আপনি যা যা কাজ করেন তাঁর পেছনে আপনার কী কী যুক্তি কাজ করে? আপনার চারপাশ থেকে তৈরি করে দেওয়া ‘উচিৎ’ এর ছক নাকি আপনার নিজের অভ্যন্তরের চাওয়া? একটা হল বাধ্যবাধকতা আর অন্যটি হল অনুপ্রেরণা। নিজের আগ্রহ থেকে কাজ করুন। অন্যের তৈরি করে দেওয়া কাজের ছকে কাজ করতে গেলে কিছুদিন পরই আর ভাল লাগবে না আপনার।

৩। আপনার নিজেকে প্রাধান্য দেওয়া কীভাবে অন্যদের জীবনকে উন্নত করতে পারে?
আপনার কী নিজের প্রয়োজনের কথা ভাবতে গেলে বা নিজের জন্য কিছু করতে গেলে নিজেকে স্বার্থপর মনে হয়? বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে যা হয়, তারা অন্যদের সহযোগিতা করতে থাকে কিন্তু আসলে তাদের নিজেদের সহায়তা খুব প্রয়োজন। নিজের কাছ থেকেও, আবার অন্যের কাছ থেকেও। অথচ আপনি যদি নিজেকে সময় দেন এবং শক্তিমান একজন মানুষ হিসেবে দাঁড়ান তাহলে আপনি আরও ভাল্ভাবে অন্যদের কাজে লাগতে পারবেন। তাই আগে নিজেকে তৈরি করুন।

৪। আপনাকে যদি কেউ বিচার করতে না আসে তাহলে আপনাকে নিয়ে আপনার সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হবে কি?
শান্ত পরিবেশে বসে নিজের সমগ্র মনোযোগ একত্রীভূত করে নিজেকে প্রশ্ন করুন তো, যা করছেন তা কি আপনার মনের চাওয়া? ধরুণ, আমরা যদি ব্যবসা করতে চাই, আমাদের চারপাশের অনেকেই বলবে, ঝুঁকি আছে! আমরা যদি একটা নতুন চাকরীতে জয়েন করি অনেকেই বলবে, আরও ভাল চাকরি পেতে পারতে! এমন অনেক বক্তব্য দিয়ে আমাদের মন প্রভাবিত থাকে। সাথে থাকে পারিবারিক দায়িত্ব। কিন্তু এর কিছুই যদি না থাকে? আপনাকে যদি কেউই কিছুই না বলে, সম্পূর্ণ মুক্ত পরিবেশে যদি জীবনের উদ্দেশ্য ঠিক করার সুযোগ থাকে তাহলে কি হবে আপনার পছন্দ?

৫। কেন খারাপটা সবচেয়ে খারাপ নয়?
আপনি যখন দেখছেন আপনার জীবনে সবই ভুল ঘটছে, একটা সুখবর নেই বলে বোধ হচ্ছে, তখন নিজেকে করুন এই প্রশ্নটি। খুঁজে পাবেন যে, যা যা ভুল ঘটছে এর চেয়েও ভুল হতে পারত সবকিছু। হচ্ছে না কারণ, খারাপগুলোর পাশে ভাল অনেক কিছুই আছে, হতাশার কারণে তা আপনি দেখতে পাচ্ছেন না। নিজের ভাল কাজগুলো দেখুন, দক্ষতাকে চিনুন। এভাবেই দুঃসময়গুলো পার করে ঘুরে দাঁড়াতে শেখে মানুষ। এভাবেই আবার সফলতার পথ খুঁজে নিতে হয়।

৬। ক্যারিয়ার আর সাফল্যের এর পার্থক্য করেন কীভাবে?
ক্যারিয়ার হচ্ছে কাজ, যার বিনিময়ে আপনি অর্থ উপার্জন করেন। এর সাথে আপনি সামাজিক মর্যাদা এবং স্থিতিশীলতা লাভ করেন। আর সাফল্য হচ্ছে পুরষ্কারের মত, কারণ এটি এটি স্বীকৃতি আমরা কে এবং কী হতে চাই তার। নিজেকে প্রশ্ন করুন আপনার পেশা আপনাকে কী দেয়? একটি ভাল ক্যারিয়ার নাকি সাফল্য?






মন্তব্য চালু নেই