মেইন ম্যেনু

যে ৭ টি কৌশলে আপনাকে কেনাকাটায় বাধ্য করছে শপিং মলগুলো

কেনাকাটা করতে কার না ভাল লাগে? শপিং মলে ঘুরতে, নতুন জিনিস কিনতে পছন্দ করি আমরা সবাই। প্রায়ই এমন হয় যে আমরা যা কিনতে যাই তার চেয়ে অনেক বেশি জিনিস কিনে ফেলি। যেমন, হয়তো সুপারশপে গিয়েছি মাছ কিনতে। কিন্তু সাথে ফিস বল, ফ্রোজেন চপ, সমুসা এগুলোও কিনে ফেললাম। চকচকে প্যাকেজিং-এর ভেতরের খাবারগুলো টানতে থাকে আমাদের। কিংবা হয়তো গেছি বন্ধুর সাথে তার শপিং এ । নিজের কিছুই কেনার কথা না। কিন্তু কানের দুল, আইলাইনার, লিপ্সটিক কিনে পকেট খালি করে ফেললাম। আবার হয়ত অফিস হেকে ফিরছি বাসায় । কাপড়ের দোকানে বড় ডিস্কাউন্টের বিলবোর্ডটা দেখে ঢুকে একটা ফতুয়া না কিনে পারলাম না।
কেন এমন হয়? আমরা ঘরে ফিরে মন খারাপ করি, নিজের উপর রাগ করি যে কেন আরো সচেতন হলাম না খরচের ব্যাপারে। কিন্তু জানলে আপনি অবাক হবেন যে আমাদের হাতেই আমাদের পকেট কাটায় এই সুপার শপগুলো নানা দুষ্টু কৌশলে। মানুষের মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষন করে এরা এমন কিছু উপায় বের করেছে যা আপনাকে টাকা খরচ করাতে বাধ্য করে। নিজের পকেট রক্ষার্থে আসুন জেনে নিই বিপণি বিতানগুলোর এমনই ৭ টি কৌশল।

১। SALE বিলবোর্ড:
একটা বড় বোল্ড ‘Sale’ বিলবোর্ড আমাদের কিনতে অর্থাৎ খরচ করতে উৎসাহী করে। ব্রান্ড শপ গুলো শুধু বড় বিলবোর্ডে Sale লিখেই ক্ষান্ত হয় না, তারা একটি সময় সীমা দিয়ে দেয়, যা আমাদের মনে একটা উদ্বেগ তৈরি করে যে হয়তো আমাদের পছন্দের জিনিসটি এখনই না কিনলে শেষ হয়ে যাবে। আসলে তারা এই ডিস্কাউন্টের নাম করে বিক্রী করে নিজেদের সেই পণ্যগুলো যেগুলো ভালো মার্কেট পায় নি।

২। বড় শপিং কার্ট:
স্টোরে আমরা যখন বাজার করতে যাই তখন প্রথমেই আমাদের হাতে ধরিয়ে দেয়া হয় বড় একটা শপিং কার্ট। কার্টটি আমাদের মানসিকতাকে প্রভাবিত করে আরো কিনতে। স্টোরের দরজার কাছেই রাখা হয় তাজা সব্জি, খাবার। যেহেতু তখন আমরা মাত্র স্টোরে ঢুকি এবং হাতে বড় খালি শপিং কার্ট আমরা সেখান থেকে কিছু না কিছু ঠিকই নিয়ে ফেলি।

৩। জরুরী পণ্য থাকে পেছনের সারিতে:
সুপার শপ গুলো নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় পন্যগুলো রাখে একেবারে শেষের সারিতে, যাতে এগুলো নিতে হলে আপনাকে পুরো স্টোর হেটে একদম শেষ লাইনে যেতে হয়। এতে নানান রকম, প্যাকেজিং এর পণ্য আপনার চোখ পড়ে এবং আপনি কিনতে উৎসাহী হন।

৪। আই লেভেলে পণ্য সাজানো:
শপিং মল গুলো যে পণ্য বেশি বিক্রী করতে চায় সেগুলো তারা রাখে মানুষের চোখের লেভেল অনুযায়ী। যেমন মোবাইলের দোকানে নতুন মডেলের মবাইল সেটতি রাখা হয় একেবারে আই লেভেলে যাতে দোকানে ঢুকেই প্রথমে চোখে পরে। বাচ্চাদেরও আই লেভেল আছে। তাই খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন প্রতিটি স্টোরে খেলনা জিনিসগুলো সাজে এমন ভাবে যাতে বাচ্চাদের চোখে পরে।

৫। হাতের নাগালে পণ্য:
স্টোরগুলো পণ্য ক্রেতার হাতের নাগালে রাখে। এতে ক্রেতা নেড়চেড়ে দেখতে পারে। কাপড়চোপর একসাথে অনেক গাদাগাদি করে রাখা থাকলে সেখান থেকে খুজে নেওয়া কষ্ট, যা আমাদের কিনতে অনাগ্রহী করতে পারে। তাই শোরুমে পণ্য সুন্দর করে সাজিয়ে হাতের নাগালে রাখা হয়। গবেষনায় দেখা গেছে সেইসব পণ্য বেশী বিক্রী হয় যেগুলো হাতে স্পর্শ করা যায়।

৬। কৌশলী রঙ:
রঙ আপনার খরচকে প্রভাবিত করে। লাল, হলুদ, কমলা রঙ এর আলো স্টোরের প্রতি ক্রতার আকর্ষণ বাড়ায়। কিন্তু ভেতরে প্রবেশের পর নীল সবুজের মত ঠান্ডা রঙ গুলো চোখে আরাম দেয় এবং কেনা কাটায় উৎসাহী করে।

৭। মিষ্টি সুরের যাদু:
গবেষণায় দেখা গেছে দ্রুততম সঙ্গীত মানুষের মধ্যে মানসিক তাড়া তৈরি করে। আর শান্ত ধীর মিউজিক তাকে দীর্ঘ সময় কাঁটাতে বাধ্য করে। খেয়াল করে দেখুন, শোরুমগুলোতে একটা ঠান্ডা মিউজিক চালিয়ে রাখা হয়। এটি আমাদের মস্তিষ্ককে আরাম দেয়, আমরা এক জায়গায় বেশিক্ষণ থাকি, দেখি এবং কিনে ফেলি যা কেনার কথা নয়!

এইভাবে সুকৌশলে রোজ আমাদের খরচ বাড়ায় শপিং মলগুলো। এবার ত জেনে গেলেন আপনি। এবার তাহলে সাবধান হয়ে যান আর নিজের মানিব্যাগ সামলে ফেলুন।






মন্তব্য চালু নেই