মেইন ম্যেনু

যে ৭ টি লক্ষণে বুঝবেন আপনার নতুন বালিশ প্রয়োজন

আপনি শেষবার কখন আপনার বালিশটি পরিবর্তন করেছিলেন তা হয়তো আপনার মনে নেই। আপনি হয়তো জানেন না যে বালিশেরও মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে পারে। তাই বালিশের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও সে বালিশ ব্যবহার করলে আপনার শরীরে ব্যথা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসমস্যা হতে পারে। যে লক্ষণগুলো দেখে আপনি বুঝবেন যে আপনার নতুন বালিশ প্রয়োজন সেগুলোর বিষয়েই জানবো আজ।

১। সু টেস্ট

বর্তমানে তুলা ছাড়াও বিভিন্ন উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয় বালিশ যেমন- পালক, ফোম, সিনথেটিক ইত্যাদি। পাখির পালক বা সিনথেটিক উপাদান দিয়ে তৈরি বালিশ ভালো থাকে ১৮ মাস পর্যন্ত। ফোমের তৈরি বালিশ ৩ বছর পর্যন্ত ভালো থাকে। আপনি যদি নাই জানেন যে আপনার বালিশটি কী উপাদান দিয়ে তৈরি তাহলে একটি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে এটি ব্যবহারের উপযুক্ত আছে কিনা তা জেনে নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন ক্লিনিক্যাল স্লিপ স্পেশিয়ালিস্ট, পিএইচডি এবং ‘দ্যা পাওয়ার অফ হয়েন’ এর লেখক মাইকেল ব্রুয়াস। তিনি বলেন, আপনার বালিশটিকে ভাঁজ করে এর উপরে একটি জুতা (নতুন বা পরিষ্কার) রাখুন। যদি জুতাটি পড়ে যায় তাহলে বুঝবেন যে আপনার বালিশটি ভালো আছে।

২। ঘুমের ভঙ্গি পরিবর্তন

আপানার ঘুমের ভঙ্গি দেখেও বোঝা যায় যে আপনার বালিশটি আরামদায়ক কিনা। যারা চিত হয়ে শোয় তাদের পাতলা বালিশ হলেই ভালো যেন মাথা সমান হয়ে থাকে। যারা পাশ ফিরে ঘুমান তাদের বালিশ একটু মোটা হওয়াই ভালো যাতে কাঁধ ও মাথা সমান থাকে, মাথা যেন ঝুঁকে না থাকে। চারলটসভিলে নিউরোলজি এন্ড স্লিপ ক্লিনিক এর প্রেসিডেন্ট, এমডি এবং ‘দ্যা স্লিপ সলিউশন : হোয়াই ইয়োর স্লিপ ইস ব্রোকেন এন্ড হাউ টু ফিক্স ইট’ বইটির লেখক ডব্লিউ ক্রিস্টোফার উইন্টার বলেন, যখন আপনি আপনার স্বাভাবিক ঘুমের ভঙ্গিকে সমন্বয় করার চেষ্টা করেন যেমন- নাক ডাকা বন্ধ করার জন্য পাশ ফিরে ঘুমান অথবা কাঁধের ব্যথা কমানোর জন্য চিত হয়ে শোন তাহলে বুঝতে হবে যে, আপনার পুরনো বালিশটি হয়তো আপনার মেরুদন্ডকে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকতে সাহায্য করেনা।

৩। ব্যথা নিয়ে ঘুম ভাঙ্গা

বালিশ দীর্ঘদিন ব্যবহার হতে হতে এর আকার পরিবর্তিত হয়ে যায়। সারারাত মেরুদন্ড বাঁকা করে রাখলে ঘুম থেকে জাগার পর ঘাড়, কাঁধ বা পিঠে ব্যথা হতে পারে এবং এই ব্যথা কোমর ও হাঁটুতেও ছড়িয়ে যেতে পারে।

৪। সকালে সতেজ অনুভব করেন না

গভীর ঘুমের সময় মস্তিষ্কের তরঙ্গ ধীর গতির হয়, যা আপানার শরীরকে মেরামত ও পুনরুজ্জীবিত হতে সাহায্য করে। কিন্তু বালিশের কারণে সৃষ্ট ঘাড়ে ব্যথা গভীর ঘুমের ব্রেইনওয়েভে বাঁধার সৃষ্টি করে। ব্রুয়াস বলেন, যখন মানুষ ব্যথায় ভোগে তখন তা তার ঘুমের ধরনেও হস্তক্ষেপ করে।

৫। নিয়মিত মাথাব্যথা

আপনার বালিশটি যদি ঠিক না থাকে তাহলে এর কারণে আপনার শরীরের উপরের অংশে টেনশন তৈরি হয়। ক্রমান্বয়ে এই স্ট্রেসের ফলে টেনশন হেডেক তৈরি হয়।

৬। ঘুমের ভঙ্গি ঠিক না থাকা

আপনার ঘুমের ভঙ্গি যদি ঠিক না থাকে এবং ঘুমের সময় যদি আপনার শরীর বিশেষ করে কাঁধ এর আশেপাশের অংশ যদি ঝুলে থাকে তাহলে আপনার বালিশটি পরিবর্তনের সময় হয়েছে বুঝতে হবে।

৭। সবসময় ঘুম থেকে উঠেই হাঁচি দেয়া

আপনার পুরনো বালিশটি হতে পারে ধুলোর পরজীবীদের প্রজননক্ষেত্র। এই ধরনের বালিশে ঘুমালে এই মাইটগুলো অ্যালার্জি ও অ্যাজমার সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ডা. উইন্টার বলেন, ডাস্ট মাইট অ্যালার্জির কারণে কাশি, হাঁচি বা রাতে ভালো অনুভব নাও করতে পারেন আপনি। সাধারণত বিছানা ছাড়ার পড়ে এই উপসর্গগুলো দূর হয়ে যায়। তাই বালিশ বেশি পুরনো হয়ে গেলে তা পরিবর্তন করে ফেলুন।






মন্তব্য চালু নেই