মেইন ম্যেনু

যৌতুকের জন্য স্ত্রীর চোখ তুলে ফেলার চেষ্টা

ময়মনসিংহের ভালুকায় যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহবধূ জিন্নাত ফাতেমা রুনার (২৮) চোখ তোলে ফেলার চেষ্টা করেছেন তারা স্বামী। এতে তার বাম চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় স্বামী বুলবুল আহমেদ রাজুকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার রাতে উপজেলার মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নের গাদুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছে।

আহত গৃহবধূ ওই উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের বানদিয়া গ্রামের আ. রাজ্জাক মাস্টারের মেয়ে। তিনি এক ছেলে সন্তানের জননী।

রুনার বড় বোন জিন্নাত রুজি জানান, উপজেলার মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের গাদুনিয়া গ্রামের এয়াকুব আলীর ছেলে বুলবুল আহমেদ রাজুর সঙ্গে ২০০৯ সালে পারিবারিকভাবে রুনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই রুনাকে যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করে প্রারাই মারধর করে আসছিল রাজু। বোনের সুখের কথা চিন্তা করে তিন দফায় যৌতুক দেয়া হয় তাকে। এতেও তার মন পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, গত রোববার রাত ১০টার দিকে রুনাকে আবারও ৫০ হাজার টাকার জন্য চাপ দেয় রাজু। এতে রাজি না হওয়ায় রুনার সঙ্গে রাজুর কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় তাকে মারধর করে একটি ঘরে আটকে রাখে। পরে গভীর রাতে আবারও মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে চামচ দিয়ে রুনার চোখ তুলে ফেলার চেষ্টা করে রাজু। এ সময় রুনার চিৎকারে বাড়ির লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে ভর্তি করে।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের চক্ষু চিকিৎসক হাবিবুল্লার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ইন্টার্নি চিকিৎসক জানান, কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষার কথা বলা হয়েছে। মঙ্গলবার রিপোর্ট পেলে চোখের অবস্থা সম্পর্কে বলা যাবে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা.ফেরদৌস হাসান জানান, পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা গেছে তার বাম চোখ বেশ আঘাতপ্রাপ্ত। চোখটা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য রুনাকে ঢাকায় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসা পেলে হয়তো চোখটা ভালো হতেও পারে।

এ ব্যাপারে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ জানান, এ ঘটনায় রুনার ভাই বাদী হয়ে সোমবার ভালুকা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।






মন্তব্য চালু নেই