মেইন ম্যেনু

যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া মানেই ভালোবাসার কমতি নয়

দাম্পত্য জীবনের চাহিদাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যৌন আকাঙ্ক্ষা। তবে দুজনের মধ্যে যৌন আকাঙ্ক্ষার পার্থক্য। এর ফলে অনেক সময় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ পরিণতি হয়ে দেখা দেয়।

মানুষ যৌন আকাঙ্ক্ষা অনুভব করে টেসস্টোরেন হরমোনের কারণে। এটা মূলত পুরুষ দেহের হরমোন। নারীদেহে ভিন্নভাবে এর উপস্থিতি বিরাজমান। তাই স্বাভাবিকভাবেই তাদের যৌন আকাঙ্ক্ষায় ভিন্নতা দেখা দেয়।

বহু নারীর দেহে অতি কম মাত্রায় টেসস্টোরেন থাকে। ফলে তারা যৌনতায় আগ্রহ অনুভব করেন না। আবার অনেক নারীর যোনিপথের ক্লিটোরাস ভিন্ন ধাঁচের যা স্বাভাবিকভাবেই স্পর্শকাতর নয়। অথবা স্পর্শে এতে ব্যথার উদ্রেগ হয়। মূলত পরিপূর্ণ যৌন আকাঙ্ক্ষা অনুভবে কতটুকু টেসস্টোটেরন প্রয়োজন তার কোনো নির্দিষ্ট পরিমাপ নেই। পুরুষের দেহে যে পরিমাণ টেসস্টোটেরন থাকে তার এক-দশমাংশ থাকে নারীদেহে। যৌনতায় ইচ্ছা, তাড়না এবং অনুভূতি সবকিছুই নারীরা অনুভব করেন এই হরমোনের মাধ্যমে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে নারীর ডিম্বাশয় ইস্টোজেন ও টেসস্টোরেন হরমোন উৎপাদন কমিয়ে দেয়। সেক্স হরমোন প্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে পারে। কিন্তু মেনোপজের কারণে এ অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়ায়।

নারীদেহে সমস্যা সৃষ্টি করে হরমোন-ভিত্তিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। পিল, সার্ভিক্যাল রিং, ইঞ্জেকশন এবং হরমোন-কোটেড আইইউডি রয়েছে এ তালিকায়। এগুলো দেহে প্রোটিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে যা ইস্ট্রোজেন এবং টেসস্টোরেন হরমোন শুষে নেয়। এতে খুব অল্প পরিমাণ হরমোন দেহের কাজে অবশিষ্ট থাকে। এসব জন্মনিয়ন্ত্রণকরণ ব্যবস্থায় বিশেষ করে সেক্স হরমোন ব্যাপক হারে শোষণ করে। যৌন আকাঙ্ক্ষা নিঃশেষ হওয়ার কারণে বিষণ্নতা, ইস্ট্রোজেনের কারণে তৈরি হওয়া টিউমার, হেপাটাইটিস, নিম্নমুখী থায়রয়েড, স্ট্রোক এবং পিটুইটারি গ্ল্যান্ডের নানা রোগ দেখা দেয়।

অনেক ক্ষেত্রেই স্বামীর যৌন আকাঙ্ক্ষার সঙ্গ তাল মেলাতে হিমশিম খান স্ত্রী। এতে স্বামীদের মনে ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুরুষরা মনে করেন, সঙ্গিনী তার সঙ্গে যৌনতায় আগ্রহী নন। এতে মারাত্মক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। অথচ নারীর এই সমস্যা শারীরবৃত্তিয় কারণেই ঘটে চলেছে। কাজেই এখানে সম্পর্কের ফাটল বলে কিছু নেই। অর্থাৎ, যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া মানেই সঙ্গীকে ভালোবাসেন না, তা নয়। বিষয়টি পুরুষদের বুঝতে হবে। তাদের দৃষ্টিভঙ্গী বদলাতে হবে।

নারীরা এ সমস্যায় কিছুটা মুক্তির পথ পেতে পারেন। ক্রিম বা পিল বা তরল আকারে হালকা মাত্রার টেসস্টোরেন গ্রহণ অসংখ্য নারীর সমস্যা সমাধান করেছে। বিশেষজ্ঞদের নানা ওষুধের সঙ্গে নিয়মিত ব্যায়াম, যথেষ্ট পরিমাণ ঘুম, ওজন ধরে রাখা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে প্রাকৃতিক উপায়ে দেহে টেসস্টোরেনের মাত্রা দিব্যি ঠিকঠাক রাখা যায়।






মন্তব্য চালু নেই