মেইন ম্যেনু

যৌন হয়রানি নিয়ে ৪টি ভুল ধারণা

সেক্সুয়াল এসল্ট বা যৌন হয়রানী বিষয়টি অনেকের কাছেই পরিষ্কার নয়। অভিযুক্তদের বলতে শোনা যায় ‘আমি তো মেয়েটিকে স্পর্শও করি নি।’ অথবা ‘আমি এমন কিছুই করি নি যা হয়রানি হতে পারে’। প্রথম কথা হল, যৌন হয়রানি ছেলে-মেয়ে উভয়ের সাথেই হতে পারে। দ্বিতীয়ত, একজন মানুষকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে চুমু দেওয়া বা তাকে স্পর্শ অথবা যৌণতা বিষয়ক কথা বলাও হয়রানির আওতাধীন।

ইয়ালন্ডা মসেস, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের প্রফেসর। তিনি বলেন, ধর্ষণই একমাত্র যৌন হয়রানী নয়। বরং বিচার বিভাগ অনুযায়ী, গ্রহিতার স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া করা যে কোন যৌন আচরণ এই ধরণের অন্যায় বলে গণ্য হবে।

যৌন হয়রানি বিষয়ে এই ৪টি ভূল ধারণা করে থাকি আমরা-

যৌন হয়রানি সাধারণত অপরিচিতদের দ্বারা সংঘটিত হয়
Rape, Abuse & Incest National Network (RAINN) এর হিসেব মতে, এক-তৃতীয়াংশ যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে অপরিচিত ব্যক্তিদের দ্বারা। বাকি ৪৭ শতাংশ ঘটনার জন্য দায়ী থাকেন বন্ধু বা পরিচিতবর্গরা। ২৭ শতাংশ ঘটে বর্তমান বা অতীত সম্পর্কের হাতে।

মসেস নিজেও ইউসি রিভারসাইডে সেক্সুয়াল হেরেসমেন্ট বিষয়ক কনসাল্টেন্ট হিসেবে কাজ করেন। তিনি যখন এই বিষয়ে কথা বলেন, তখন তিনি মানুষের মাঝে এই বার্তা দিতে চান, যে কেউই তার জন্য ক্ষতিকর হতে পারেন। তবে অনেকের জন্যই এটা মেনে নেওয়া কঠিন যে তাদের পরিচিতরা তাদের সাথে এমন কিছু করতে পারেন।

শুধু নারী বা মেয়ে শিশুদের সাথে ঘটে
নারী এবং মেয়ে শিশুদের বেলায় এই অভিযোগ সবচেয়ে বেশী আসে একথা সত্য। কিন্তু তার মানে এই নয় যে পুরুষ বা ছেলেদের বেলায় এমন কোন ঘটনা ঘটে না। RAINN এর পরিসংখ্যানমতে প্রতি ৬ জন আমেরিকান নারীর মাঝে একজন জীবনে কোন না সময় ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হন। পুরুষের বেলায় এই সংখ্যা ৩৩ জনে ১ জন।

ভিক্টিমের কোন না কোন আচরণের কারণেই সে হয়রানির শিকার হন
অনেকেই আছেন যারা মানতেই চাইবেন না যে সেক্সুয়াল এসল্টের পেছনে ভিক্টিমের কোন ভূমিকা থাকে না। অবচেতন মনেই আমরা প্রশ্ন করে বসি ‘ও ওখানে গেল কেন? ওর কি দরকার ছিল এটা করার?’ সব মিলিয়ে দোষ দিই ভিক্টিমকেই। পিনেরো বলেন, ‘Sexual assault is never caused by what a victim is doing, saying or wearing. Rather, an assault is the result of a choice made by the perpetrator — someone chose to inflict harm upon the victim or chose to push the victim into an unwanted situation’।

ভিক্টিম কোন প্রতিবাদ করে নি তার মানে এটা এসল্ট নয়
ভিক্টিম যদি হয়রানি হওয়ার সময় চুপ করে থাকেন, কোন প্রতিবাদ না করেন তবুও সেটা হয়রানি। আমরা মনে করি, যে ধর্ষিত হচ্ছে, মতের বিরুদ্ধে হলে সে তো অবশ্যই লড়াই করে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, একজন ভিক্টিমকে বলা হয়, সাথে সাথে হাসপাতালে যেতে যাতে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন শণাক্ত করা যায়, যা থেকে বোঝা যাবে তিনি যথেষ্ট বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

মসেস বলেন, আঘাতের চিহ্ন না থাকা মানে এই নয় যে হয়রানির ঘটনা ঘটে নি। অনেক সময় ভিক্টিমকে অজ্ঞান করে নেওয়া হতে পারে। অনেক সময় সে এতই মানসিকভাবে আঘাত পায় যে কোন শারীরিক প্রতিরক্ষা তৈরি করে না।

আমাদের এসব ভ্যল ধারণার কারণে একজন ভিক্টিম নিজেকেই দোষারোপ করেন। আত্মহত্যার মত ঘটনাও ঘটে। তাই আমাদের উচিৎ আরও জানা, জেনে কথা বলা এবং অনেক বেশী সহানুভূতিশীল হওয়া।






মন্তব্য চালু নেই