মেইন ম্যেনু

রওশন-এরশাদকে বাদ দিয়েই হচ্ছে জাপা গঠন! নেপথ্যে যারা…

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও দলটির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদকে বাদ দিয়েই পৃথক জাপা গঠনের চিন্তা করছে দলটির একাংশ। রওশন এরশাদ পৃথক জাপা গঠনেদর পক্ষে থাকবেন না— এই চিন্তা থেকেই সরকারে থাকা দলটির দুই মন্ত্রী ও কিছু নেতা তাকে বাদ দিয়েই জাপার নতুন বলয় সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

পৃথক দল গঠন ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাপা থেকে বেরিয়ে যাওয়া কিছু নেতার সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকও করেছেন সংসদের বিরোধী দলের আসনে থাকা জাপার কয়েকজন নেতা। ১৭ জানুয়ারি এরশাদ তার ছোট ভাই জিএম কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যান ঘোষণার পর ১৯ জানুয়ারি রওশন এরশাদকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছিলেন জাতীয় পার্টির তৎকালীন মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। তিনি দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের ঘনিষ্ঠ।

পরে ২১ জানুয়ারি বিবৃতি দিয়ে সেই পদ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন রওশন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রওশনকে বাদ দিয়েই নতুন জাপার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের বলয়ের জাপার ৫-৬ জন প্রেসিডিয়াম সদস্য।

জাপা সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। এরা জাতীয় পার্টিতে সরকার-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তবে প্রকাশ্যে না থাকলেও জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে রয়েছেন বলে জানা যায়।

জাপা’র এরশাদপন্থী কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, জাতীয় পার্টির সরকার-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও তাজুল ইসলাম চৌধুরী রওশন এরশাদকে তাদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে নতুন কৌশল অবলম্বন করছেন। এর অংশ হিসেবে এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি ত্যাগ করে নতুন জাতীয় পার্টি (জেপি গঠন) করা আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সঙ্গেও কয়েক দফা বৈঠক করেছেন আনিসুল-বাবলু ও তাজুল ইসলাম।

জাপা সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু দল গঠনের বিষয়ে আরও ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে পরামর্শ দিয়েছেন। মঞ্জু নিজের দল গঠনের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে ব্যারিস্টার আনিসকে বলেছেন, এখনো জাপা মানেই এরশাদ। আমি, নাজিউর রহমান মঞ্জু এবং কাজী জাফরও তো চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি। তাই ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নেন।

তবে এমন বৈঠকের খবর অস্বীকার করে বনমন্ত্রী ও জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘এ ধরনের কোনো বৈঠক হয়নি। তবে জাতীয় পার্টির কয়েকজন নেতা সরকারের মন্ত্রী থাকায় কেবিনেট মিটিংয়ে তাদের সঙ্গে কথা হতেই পারে।’

প্রসঙ্গত, সরকার-ঘনিষ্ঠ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর বড় ভাই ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের ছেলে জাপা নেতা ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মেয়ের জামাই।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর-এর সভাপতি এস এম ফয়সল চিশতী বলেন, ‘বৈঠকের কথা আমি শুনেছি। তবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সাহেব দল গঠনের বিষয়ে তাদের নিরুৎসাহিত করেছেন।’

জাতীয় পার্টিতে বিভেদ সৃষ্টিতে কিছু নেতার তৎপরতার খবরের সত্যতা স্বীকার করে দলের মহাসচিব ও মুখপাত্র এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘আমি একটি বৈঠকের খবর শুনেছি। তবে জাতীয় পার্টির পিতা হলেন এরশাদ। জাপা মানেই এরশাদ। এরশাদ মানেই জাতীয় পার্টি। কেউ অন্য কিছু চিন্তা করলে তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে চলে যাবে। অতীতের ইতিহাস তাই বলে।’

সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য তাজুল ইসলাম চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা দল ভাঙার পক্ষে কখনো ছিলাম না, এখনো নেই। আমরা চাই পার্টি নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলুক। নিয়মের মধ্যে পার্টিকে আনার জন্য আমরা চেষ্টা করছি।’

জাতীয় পার্টির আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ এমপি বলেন, ‘এরশাদ-রওশন ৬০ বছর যাবৎ সংসার করছেন। এত কিছুর পরও তাদের সংসার ভাঙেনি। তারা এক আছেন। এখন কেউ যদি তাদের নিয়ে খেলেন, তারাই বিপদে পড়বেন। আমি কোনো খেলাধুলার মধ্যে নাই। আমি কোনো গ্রুপেও নাই, দলাদলির মধ্যেও নাই। আমি আমার মতো চলি।’

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের এ বিষয়ে বলেন, ‘প্রত্যেকেই স্বতন্ত্র ব্যক্তি, সবার মতামত আলাদা হবে— এটাই স্বাভাবিক। তবে একটি পার্টি করতে হলে পার্টির অধিকাংশের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে। এটা মানতে না পারলে হয় তাকে পার্টি ছাড়তে হবে, না হয় তাকে পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হবে। আর এ বিষয়ে আমি কিছু বলব না।’দ্য রিপোর্ট






মন্তব্য চালু নেই