মেইন ম্যেনু

রক্তশূন্যতা ও দুর্বলতা দূর করবে কাঁচকলা

আমরা প্রতিদিন যা খাই তার উপরই নির্ভর করে আমাদের শরীরের সুস্থ্যতা। শরীর সুস্থ্য রাখতে ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ সবজির কোনো জুড়ি নেই। আর তা যদি পাওয়া যায় সারা বছর তাহলে তো কথাই নেই। এমনি একটি সবজি কাঁচকলা। সারা বছর জুড়ে সুলভ কাঁচকলা রক্তশূন্যতা দূর করে, হজমে সহায়তা করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়াও এর রয়েছে নানারকম পুষ্টিগুণ।

প্রতি ১০০ গ্রাম রান্না করা কাঁচকলার ক্যালোরি ১১৬। ফ্যাট ০.৩ গ্রাম,শর্করা ৩১ গ্রাম, আমিষ ১.৩০ গ্রাম,খাদ্য আঁশ ২.৩ গ্রাম, চিনি ১৪ গ্রাম, সোডিয়াম ৫ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৪৬৫ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ৩৭ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-এ ১১২৭ আইইউ, ভিটামিন-সি ১৮.৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-ই ০.১৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-কে ০.৭ মাইক্রোগ্রাম, লৌহ ০.৬০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৩৪ মিলিগ্রাম, জিংক ০.১৪ মিলিগ্রাম, ফোলেট ২২ মাইক্রোগ্রাম, নিয়াসিন ০.৬৮৬ মিলিগ্রাম, রিবোফ্রাভিন ০.০৫৪ মিলিগ্রাম, থায়ামিন ০.০৫২ মিলিগ্রাম। আসুন দেখে নেই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ কাঁচকলার কিছু উপকারিতা।

– কাঁচকলা শর্করা ও শক্তির উৎস। তাই এটি শরীরের দুর্বলতা দূর করে। ডায়রিয়ার জন্য কাঁচকলা একটি ভাল পথ্য হিসেবে পরিচিত।

-কাঁচকলা খনিজ পদার্থ যেমন ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাসে সমৃদ্ধ হওয়ায় রক্তশূন্যতা দূর করে।

– এর খাদ্য আঁশ হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করে।

-পাকা কলার চেয়ে কাঁচা কলায় ভিটামিন সি এর পরিমাণ বেশি। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও জীবাণুর সংক্রমণ রোধ করে।

-কাঁচকলায় আছে প্রচুর ভিটামিন এ যা শরীরে এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এছাড়া ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে, মস্তিষ্কের মেমব্রেনকে সুস্থ রাখে এবং ত্বক মসৃণ করে।

-কাঁচকলা ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের ভাল উৎস। বিশেষ করে ভিটামিন বি-৬ কাঁচাকলায় অনেক বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় যা নিউরাইটিস, রক্তশূন্যতা ইত্যাদি রোগ থেকে রক্ষা করে এবং শরীরে হোমোসিস্টাইন কমাতে সাহায্য করে যা করোনারী ধমনীর ক্ষতি এবং স্ট্রোকের অন্যতম কারণ।

-কাঁচকলায় আরো আছে ফোলেট বা ফলিক এসিড, নিয়াসিন, রিবোফ্লাভিন এবং থায়ামিন। এগুলো শরীরে রক্তকণা তৈরীতে সহায়তা করে। গর্ভাবস্থায় নারীদের সুস্থ রাখে ফলিক এসিড।

– কাঁচকলায় থাকা মিনারেল হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালশিয়াম হাড় মজবুত করে। আয়রন রক্তকণা তৈরীতে সহায়তা করে।

– কাঁচকলায় থাকা পটাশিয়াম শরীরের হৃদস্পন্দনের সঠিক মাত্রা বজায় রাখে এবং রক্তচাপের মাত্রা সঠিক রাখে এবং শরীরে অতিরিক্ত লবণের নেতিবাচক প্রভাব রোধ করে।

-কাঁচকলা কিডনি এবং রেচনতন্ত্রের সমস্যা দূর করে।

-কাঁচকলার মিনারেলস মাসিক ঋতুস্রাবের সময় রক্তকণা বৃদ্ধি করে শরীরের অস্বস্তি দূর করে।






মন্তব্য চালু নেই