মেইন ম্যেনু

রক্ত দিয়ে ফেরার পথে ট্রাক চাপায় প্রাণ গেল চার বন্ধুর

শ্রীমঙ্গল থেকে এক বন্ধুর ফোন পেয়ে ওই বন্ধুর আত্মীয়র জীবন বাঁচাতে রক্ত দিতে সিলেট থেকে রওয়ানা হয়েছিলেন পাঁচ বন্ধু আদিল, ধ্রুব, সঞ্জীব, সুদীপ ও আকৃতি। কিন্তু ফেরার পথে তাঁদের মধ্যে চারজনের জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন অপরজন।

শনিবার দিবাগত রাত (রোববার) আনুমানিক দুইটার দিকে দক্ষিণ সুরমার মোগলবাজারে ট্রাকের সাথে প্রাইভেট কারের সংঘর্ষে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান – ব্যাংক কর্মকর্তা ধ্রুব জ্যোতি দাস (৩২), ব্যবসায়ী আদিল চৌধুরী (৩৩), সঞ্জীব (৩০) ও ব্যবসায়ী আকৃতি ঘোষ (৩২)। আহত হয়েছেন সুদীপ।

তাঁদের বন্ধু ছাত্রলীগ নেতা মিঠু তালুকদার জানিয়েছেন, “নিহত সবাই আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, তারা আমাদের শ্রীমঙ্গলের বন্ধু পাপ্পুর আত্মীয়কে রক্ত দিতে গিয়েছিল, আমারও তাঁদের সাথে যাওয়ার কথা ছিল”

নিহতদের বন্ধু অসীম দাস জানান, প্রাইভেটকারটি ছিল ব্যাংক কর্মকর্তা ধ্রুব জ্যোতি দাসের। আর চালাচ্ছিলেন আদিল চৌধুরী।

অসীম জানান, “আমারও ওদের সাথে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কাজ পড়ে যাওয়ায় যেতে পারিনি, সকালে উঠেই এই ভয়ংকর খবরটি পাই”।

হতাহতদের বন্ধু জনি দেব জানান, “দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটল তা এখনো পরিষ্কারভাবে জানা সম্ভব হচ্ছে না, কারণ একমাত্র জীবিত সুদীপের অবস্থা কথা বলার মত নয়”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাত (রোববার) দিকে যাত্রীবাহী একটি প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো-গ-১১-১২১২) সিলেটের দিকে আসছিল। এর সামনে মাল বোঝাই ট্রাক (মৌলভীবাজার ন-১১-০১০৮) সিলেটের দিকে আসছিলো। প্রাইভেট কারটি মোঘলাবাজারের হাজীগঞ্জ আসলে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে প্রচন্ড গতিতে পেছন থেকে ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয়। এসময় প্রাইভেট কারের প্রচন্ড গতি থাকায় পুরো প্রাইভেটকারটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ধ্রুব ও আদিল মারা যান। এছাড়াও সঞ্জীব ও আকৃতি ওসমানী হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান।

মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাইরুল ফজল জানিয়েছেন দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি ইতিমধ্যে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তবে ট্রাকের চালক ও হেল্পার পালিয়ে গেছে।






মন্তব্য চালু নেই