মেইন ম্যেনু

রমনা বটমূল থেকে চারুকলা

অশুভ শক্তি রুখে দিয়ে মানবতার কথা উঠে এসেছে এবারের পহেলা বৈশাখ। মানুষের কথা, মানবিকতার কথা, ভালোবাসা আর সাম্যের কথা বলা হয়েছে এ বৈশাখে। ‘অন্তর মম বিকশিত করো, অন্তর তর হে’স্লোগানকে সামনে রেখে শুরু হতে যাচ্ছে মঙ্গলশোভাযাত্রা।

নতুন বছরের প্রথম প্রহরে মানবতার মর্মবাণী ধারণ করে স্বাগত জানানো হলো ১৪২৩ বঙ্গাব্দকে। বৃহস্পতিবার সকালে রাগালাপ দিয়ে শুরু হয় পহেলা বৈশাখে ছায়ানটের আয়োজন। সকাল সোয়া ৬টায় এ আয়োজন শুরু হলেও ভোর থেকেই মানুষ জমায়েত হয় রমনায়।

সকালে যারা এসেছেন তাদের সবারই আগ্রহ ছিলো ছায়ানটের প্রভাতী আয়োজনের দিকে। ছায়ানটের অনুষ্ঠানটি সংরক্ষিত হলেও বাইরে দাঁড়িয়ে অনেকেই তা উপভোগ করেছেন।

নতুন বছরে সুখী সমৃদ্ধ আর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কথা উঠে এসেছে এ অনুষ্ঠানে। জাতিসত্তার অনিন্দ্য প্রকাশের দিনটির সূচনা হলো রমনা বটমূলে ছায়ানটের প্রভাতী সঙ্গীতায়োজনে।

প্রায় দেড়শ’শিল্পীর অংশগ্রহণে এ অনুষ্ঠানে ১৫টি একক গান, ১২টি সম্মিলিত গান, ৩টি আবৃত্তি ও পাঠ দিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের অনুষ্ঠান।

দিনে দিনে বাংলা নবর্বষের অনুষ্ঠান প্রসারিত হয়েছে সারাদেশে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন আজ বাঙালির সবচেয়ে বড় মিলনমেলা, রূপান্তরিত হয়েছে জাতীয় উৎসবে।

সকালের শুরুতে রাগালাপের পর পরিবেশিত হয়-‘আনন্দধ্বনি জাগাও গগনে, মানুষ মানুষের জন্য, দুর্গম গিরি কান্তার মরু, আমরা তো উজ্জ্বল সূর্য, ভোর ক’রে যাই কালরাত্রি, আমি ভয় করব না ভয় করব না, আমি মারের সাগর পাড়ি দেব, ওই মহামানব আসে, টলমল টলমল পদভরে বীরদল চলে সমরে, হবে জয়, হবে জয়, হবে জয় রে’ ইত্যাদি গান পরিবেশিত হয়।

এ আয়োজনে মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন শাহ এবং ভুপেন হাজারিকার মানবিক গান প্রাধান্য পায়।

বটমূলের এ আয়োজনের এবার ৪৯তম বছরে। ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান আমলে প্রতিকূল পরিবেশে বাঙালির আপন সত্তা জাগিয়ে তোলা এবং আপন সংস্কৃতিতে বাঁচবার বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করার মানসে বাংলা বছরকে আবাহন জানাবার উদ্যোগ নেয় ছায়ানট।

এদিকে ঢাকের বাদ্যের তালে তালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার সামনে চলছে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি। শোভাযাত্রার জন্য বানানো রং-বেরঙের মুখোশ ও বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিকৃতিকে সাজানো হচ্ছে শেষবারের মতো।

আর নববর্ষকে বরণ করে নিতে এই মুখোশ ও প্রতিকৃতি বানাতে যারা গত ক’দিন রাতজেগে কাজ করেছেন, তারা নববর্ষের ভোরে সেই ক্লান্তি মুছে দিয়েছেন উদযাপনের উল্লাসে মেতে।

বৃহস্পতিবার ভোরে চারুকলার সামনে দেখা যায়, গত পনের দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর ভোরে প্রতিকৃতিগুলো নিয়ে এসে সড়কের ওপরে আনন্দ-উল্লাসে মাতেন শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন চারুকলার অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থীও।

ঢাকের বাদ্যের তালে তালে চারুকলা অনুষদের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা উল্লাস ধ্বনি করতে থাকেন। আনন্দে মাতোয়ারা কেউ কেউ আবার নাচতে নাচতে কাঁধে তুলে নেন বন্ধুকে। কেউবা আবার বন্ধুর সঙ্গে গোল হয়ে হাত ধরাধরি করে নেচে-গেয়ে মেতেছেন নববর্ষের আগমনী আনন্দে।

এই উচ্ছ্বাসী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিলেন চারুকলা অনুষদের একুশতম ব্যাচের নোমান তিনি বলেন, অনেক আনন্দ লাগছে। দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আমরা সবাই মিলে কাজটা ভালোভাবে শেষ করতে পেরেছি। দিনের প্রথম আলোতে তাই প্রতীকগুলো নিয়ে সবাই আনন্দ করছি।

চারুকলার প্রাক্তন শিক্ষার্থী আশিক রণো বলেন, নতুন বছরের শুরু থেকে শান্তি চাই, চাই অন্তরের শুদ্ধতা। আজকের এই ভোরের মতই জীবন যেন হয় স্নিগ্ধ। সহিংসতা চাই না।

শিশু ও নারীর প্রতি সবধরনের সহিংসতা বন্ধের শপথ নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে এ বছরের মঙ্গল শোভাযাত্রা। চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা ১৯৮৯ সাল থেকে বাংলা নতুন বছর অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করে আসছেন।






মন্তব্য চালু নেই