মেইন ম্যেনু

রহস্যে ঘেরা ক্রুকিড ফরেস্ট বিস্মিত করে মানুষকে

পৃথিবী রহস্যময়। প্রকৃতি তার রহস্য ভাণ্ডারের দ্বার উন্মোচন করে বিস্মিত করে মানুষকে। আর এই প্রকৃতিকে যতটুকু সুন্দর করেছে গাছ, তার চেয়ে মানুষকে তৃপ্ত করেছে তার রূপ, ফুল, ফল দ্বারা।

গাছ একই সঙ্গে আমাদের চমক দিতেও কার্পণ্য করেনি। তেমনি কিছু চমকপ্রদ গাছ রয়েছে ক্রুকিড ফরেস্ট বা বাঁকা বনে। এসব ফরেস্টের গাছপালা খুব অস্বাভাবিকভাবে বাঁকানো। পোলান্ডের গাইফিনো ফরেস্ট তেমনি একটি ক্রুকিড ফরেস্ট। এই ফরেস্টের ৪০০ পাইন গাছ অনেকটা ইংরেজি ‘জে’ এর আকার হয়ে আছে। মাটি থেকে কয়েক ইঞ্চি ওপর থেকে বাঁকা ‘জে’ আকারে ওপরে উঠে গেছে অস্বাভাবিক আকৃতিতে, যেন প্রকৃতির এক রসিকতা। অদ্ভুত হলেও সত্যি, এমন রহস্যময় ফরেস্ট সৃষ্ট হবার কোনো সমাধান মেলেনি। ধারণা করা হয়, চারা অবস্থায় থাকাকালে তুষার ঝড়ের কবলে পড়ে গাছ চাপা পরে, একি সঙ্গে সব চারা বাঁকা হয়ে যায়। কিন্তু তার সত্যতা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

123

লোকমুখে প্রচলিত, আনুমানিক ১৯৩০ সালের দিকে কিছু কৃষক এই গাছগুলো চারা অবস্থায় বাঁকা করে রোপন করেন কোনো বিশেষ ফার্নিচার বানানোর উদ্দেশ্যে। পরবর্তীতে তারা এই গাছ কেটে নেননি, যার পরিণতি হিসেবে সৃষ্টি হয়েছে রহস্যময় ক্রুকিড ফরেস্ট। খুবি হাস্যকর যুক্তি, দীর্ঘ ৮০ বছর পরেও গাছ কেটে নেবার সময় হয়নি কৃষকদের! গ্রামবাসীর সম্পূর্ণ অজানা থেকে গেল ৪০০ পাইন গাছ বাঁকা করে লাগানোর ইতিহাস।

323

এ রকমই আরেকটি ক্রুকিড ফরেস্টের দেখা মেলে কানাডার সাসকাচেওয়ানে। এই ফরেস্টের আস্পেন পপুলাস ট্রিমুলোয়িডস খুবই অদ্ভুত শেপ ধারণ করে রয়েছে। গাছগুলো শুধু যে বাঁকানো তা নয়, রহস্যজনকভাবে আকারে পেঁচিয়ে রয়েছে। এই ফরেস্টের এমন অদ্ভুত বাঁকানো গাছ কোনো মানুষের হাতে করা নয়।

12

প্রশ্ন থাকতে পারে কেন এমন হল? গবেষণায় দেখা গেছে, কানাডার এই ফরেস্টের গাছ পপুলাস চারা থেকে পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাওয়ার সময়ে গাছের কিছু কিছু ব্রাঞ্চ কোনো শক্তি পাচ্ছে না। গাছের যে ব্রাঞ্চ শক্তিহীন এবং তুলনামূলকভাবে নরম সেই অংশ বাদে ঠিক তার পরের অংশ তর তর করে বেড়ে উঠছে। দুর্বল অংশ থেকে গাছ বাঁকা হয়ে যাচ্ছে, কিছু কাণ্ড আবার মরে যাচ্ছে বা শুঁকিয়ে যাচ্ছে। আর এর কারণ হিসেবে গাছের জিন দায়ী।

index

জিনগত সমস্যার কারণে গাছের কোনো শাখা দুর্বল ও নরম হয়ে পড়লে গাছের পঞ্চানুভূতি অন্যান্য শাখায় সিগনাল দিয়ে থাকে এবং পরবর্তী অংশ শক্ত আকারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর এভাবেই গাছগুলো এমন অদ্ভুত আকার ধারণ করেছে। ফরেস্টের পপুলাসের সঙ্গে স্বাভাবিক পপুলাসের ক্রস বা গ্রাফটিং করে দেখা গেছে, সেগুলো খুব স্বাভাবিক আকারে বৃদ্ধি পায়। এই ধরনের গাছের পক্ষে অন্য কোনো গাছের নিচে পড়লে নিজ কাণ্ডের বৃদ্ধি ঘটিয়ে বেড়ে উঠা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে গাছ মারা যায়। ফরেস্টে ক্রুকিড গাছের থেকে অন্য গাছের বেশ খানিকটা ব্যবধান রয়েছে। আর তাই গাছ বেড়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই