মেইন ম্যেনু

রাজধানীতে ক্লিনিকে ১৫ হাজার টাকায় নবজাতক কেনাবেচার অফার

রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় নন্দীপাড়া ব্রিজের পাশে তালুকদার জেনারেল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অবশ্য কোনো সাইনবোর্ড না থাকায় এবং মূলরাস্তা থেকে আরো ভেতরে দোতলার ভবনের নিচ তলায় হওয়ার কারণে খুঁজে পেত একটু কষ্টই হবে। তারপরও স্বল্প আয়ের মানুষেরা এখানে চিকিৎসা নিতে যায়।

আর এই সুযোগটিই নেন হাসপাতালের মালিক কাম ‘সার্জন’ আনোয়ারা আক্তার। আসলে তিনি মাত্র এসএসসি পাস, কিন্তু অবলীলায় মানুষের পেটে ছুরি-কাঁচি চালিয়ে দিতে পারেন। তাই এখানে অনেকে আসে সিজার করাতে। তবে এটাই তার আসল ব্যবসা নয়। তার মূল ব্যবসা নবজাতক কেনাবেচা।

শনিবার দুপুরে এই হাসপাতালে অভিযান চালায়। গোপন খবরের ভিত্তিতে একমাস আগে থেকেই নাকি এটির উপর নজরদারি করা হচ্ছিল বলে জানান র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক এডিশনাল এসপি মুক্তার আহমেদ।

তিনি জানান, নবজাতক কেনাবেচা হচ্ছে এমন খবর নিশ্চিত হয়েই তিনি অভিযান চালান। আনোয়ারাকে হাতেনাতে ধরেও ফেলেন তিনি। সঙ্গে আটক করা হয় হাসপাতালের আরো তিন কর্মচারীকে। পরে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্টেট সারোয়ার আলমকে খবর দেয়া হয়। তিনি এসে আনোয়ারাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন। কর্মচারীরা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এসপি মুক্তার আহমেদ জানান, সন্তানসম্ভবা সাবিনা ও সোহেল দম্পতি কয়েক দিন আগে এখানে আসেন। সাবিনার সিজার করার পর তাদের জানানো হয়, বাচ্চার অবস্থা খুব খারাপ। চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা লাগবে, তাদের সে সামর্থ্য নেই। তারচে তাদের কাছে বড়লোক পার্টি আছে, তারা বাচ্চাটাকে কিনে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা দেবে। এ জন্য ১৫ টাকা অফার করেন আনোয়ারা। এর মধ্যে র‌্যাব এসে টাকাসহ আনোয়ারাকে আটক করে।

এই ক্লিনিকের সরকারি অনুমোদনের কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি আনোয়ারা। তার ডাক্তারি পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণেরও কোনো প্রমাণও নেই।

ক্লিনিকের খিলগাঁও থানাধীন নন্দীপাড়া দক্ষিণগাঁও ৩নং রোডের ১/১ নন্দীপাড়া ব্রিজের পাশে এবং মূল রাস্তা থেকে ৫০ গজ ভেতরে অবস্থিত। আমেরিকা প্লাজা নামে একটি দোতলা ভবনের নিচতলায় তিনটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে এই ক্লিনিক। উপরতলায় বিভিন্ন পণ্যের দোকানপাট রয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই