মেইন ম্যেনু

রাজধানীতে মেসে মেসে পুলিশি তল্লাশি

রাজধানীর ফার্মগেটে একটি মেসে থাকেন বিজয় কুমার। প্রায় দুই বছর যাবৎ তিনি মেসে থাকেন। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ প্রকৌশল বিভাগে পড়ালেখা করছে সে।

সম্প্রতি তার মনে ভয় ঢুকে গেছে। সে মেস ছেড়ে দিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যেতে চাইছে। কারণ গত কয়েকদিন ধরে ওই মেসে পুলিশি নজরদারি বেড়েছে। এর মধ্যে একদিন রাত ১২টায় পুলিশ মেসে গিয়ে তাদের ঘুম থেকে জাগিয়ে রুম তল্লাশি ও মেসের বাসিন্দাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এতে আরও ঘাবড়ে যায় বিজয়।

এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে ছবিসহ জীবন বৃত্তান্ত চেয়ে ফরম দেয়া হয়েছে তাদের। বিজয়ের ভয়, এই তথ্য দিলে না জানি তাকে আবার কোনো মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়া হয়। এই ভয় শুধু বিজয়ের নয়, ওই মেসে বসবাসরত প্রায় তিন শ’ পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীর মনে একই ভয়।

সম্প্রতি প্রকাশক, ব্লগার ও দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নড়েচড়ে বসেছে। অপরাধী ধরতে বিভিন্ন জায়গায় তারা অভিযান চালাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে রাজধানীর মেসগুলোতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে দাবি পুলিশের।

জানতে চাইলে পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপ-কমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ যে কারো কাছ থেকে তথ্য চাইতে পারে। পুলিশকে তথ্য দিলে পুলিশ কেন একজন নিরাপরাধ মানুষকে অহেতুক হয়রানি করবে। নিরীহ মানুষদের পুলিশকে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই।

তবে মেসের বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশ তো আসল ‘ক্রিমিনাল’কে ধরতে পারে না। ধরা খায় নিরীহ লোকজন। এখানেই শঙ্কার বিষয়।

রাজধানীর পল্টন এলাকার একটি মেসে বসবাস করেন আবদুর রহমান। তিনি একটি বেসরকারী হাসপাতালে চাকুরি করেন। গত বুধবার দিবাগত রাত ১২ টার সময় পুলিশ তল্লাশীর নামে ওই মেসে অভিযান চালায়। পরে মেসে অবস্থানকারীদের নাম-ঠিকানা সম্বলিত একটি ফরম পূরন করে তাতে ছবি সংযুক্ত করে দিতে বলেন। তারা ওই বাসায় ওঠার আগে বাড়ির মালিককে তাদের ব্যক্তিগত জীবনবৃত্তান্ত দিয়েছে। তবুও পুলিশকে তাদের নির্ধারিত ফরমে তথ্য দেওয়ার চাপ দেয়। এতে তাদের মধ্যে একটি ভীতিকর অবস্থা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি তারা বাড়ির মালিককে জানালেও কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।ঢাকাটাইমস






মন্তব্য চালু নেই