মেইন ম্যেনু

রাজন হত্যা: সাক্ষ্য গ্রহণ প্রায় শেষ, ফাঁসির অপেক্ষায় দেশ

সিলেটের আলোচিত শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলায় ৩৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। মামলার সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ওসি (ডিবি) সুরঞ্জিত তালুকদারের সাক্ষ্যগ্রহণ করলেই কেবল এ পর্বের সমাপ্তি ঘঠছে।

বৃহস্পতিবার আদালতে সাক্ষ্য দেন এসএমপির জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসেন, রাজন হত্যা মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা একই থানার

বরখাস্তকৃত ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন, একই থানার এসআই আরিফুল আমিন, এসআই শামীম আকঞ্জি, এএসআই সোহেল রানা ও সুনামগঞ্জের দিরাই থানার উপ পরিদর্শক(এসআই) মহাদেব বাঁছাড়।

এসএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) আব্দুল আহাদ চৌধূরী জানান, আজকের পর শুধু মামলার সর্ব শেষ তদন্ত কর্মকর্তা সুরঞ্জিত তালুকদারের সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি থাকল।

এদিকে, এ মামলায় সৌদি আরবে পলাতক প্রধান আসামি কামরুলকে নিয়ে আজ দুপুরে দেশে ফিরেছে পুলিশ।

দুপুর সোয়া তিনটার দিকে কামরুলকে নিয়ে ঢাকায় পৌছায় পুলিশের প্রতিনিধি দলটি।

কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত সুপার মাহাবুবুল করিম, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার এএফএফ নেজাম উদ্দিন গত সোমবার রিয়াদে পৌঁছান।

পুলিশ জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যম হয়ে বন্দি বিনিময়ের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি কর্তৃপক্ষ আসামি কামরুলকে ফেরত দিতে সম্মত হয়।

তাকে দেশে ফিরিয়ে অনার পর আবারও জোড়ালোভাবে রাজনের খুনিদের ফাঁসির দাবি উঠেছে।

সিলেট হ সারা দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে রাজনের খুনিদের ফাঁসি দেখার জন্য।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন, সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন,

ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে আমরা মনে করি এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হোক। কামরুলকে দেশে ফেরানোর মাধ্যমে এই মর্মান্তিক ঘটনার বিচার আরও তরান্বিত হলো।

প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই সিলেট নগরীর কুমারগাঁওয়ে শিশু সামিউল আলম রাজনকে ভ্যান চুরির অভিযোগে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়।

রাজন হত্যাকাণ্ডের পর পরই ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশে বিদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পুরো দেশব্যাপী এ ঘটনার সাথে জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন জোড়ালো হয়।

রাজনকে পিটিয়ে হত্যার পর পালিয়ে গিয়ে গত ১৩ জুলাই সৌদি আরবে আটক হন কামরুল।

কামরুল ছাড়াও রাজন হত্যা মামলার বাকি আসামিরা হলেন- মুহিদ আলম, আলী হায়দার, শামীম আহমদ, পাভেল আহমদ, ময়না চৌকিদার, রুহুল আমিন, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল, দুলাল আহমদ, নুর মিয়া, ফিরোজ মিয়া, আছমত উল্লাহ ও আয়াজ আলী।

এর আগে গত ১ অক্টোবর প্রথম তারিখে রাজনের বাবা শেখ আজিজুর রহমান ও জালালাবাদ থানার বরখাস্তকৃত এসআই আমিনুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এ মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।






মন্তব্য চালু নেই