মেইন ম্যেনু

মোবাইল ফোনে ধারন করা ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকী

রাজবাড়ীতে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষন

রাজবাড়ীতে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়–য়া এক ছাত্রী (৯) কে ধর্ষণ করা হয়েছে। একই সাথে ওই ছাত্রী যাতে বিষয়টি কথা কাউকে বলতে না পারে সে জন্য ধর্ষণের ওই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করার পাশাপাশি তা ছড়িয়ে দেয়ার হুমকিও প্রদান করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় ওই ছাত্রীকে রাজবাড়ী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত রবিবার দুপুরে এ ঘটনায় ধর্ষক এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারনকারী দুই জনের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত সোমবার সকালে ওই ছাত্রীর মামা বলেন, তার বোনের স্বামী বিদেশ থাকেন। যে কারণে তার বোন দুই মেয়েকে নিয়ে তাদের বাড়ীতে বসবাস করেন। বোনের বড় মেয়ে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীতে পরে। গত ১৪ জুন বিকালে ওই মেয়ে বাড়ীর উত্তর পাশের কলাবাগান দেখতে যায়। এ সময় জেলা সদরের খানগঞ্জ ইউনিয়নের খোদ্দর্দাদপুর গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে বখাটে শান্ত (১৮) এবং স্থানীয় কামালের ছেলে সজীব (১৪) মুখ চেপে ধরে জোর পূর্বক তাকে একটি পাট ক্ষেতের মধ্যে তুলে নিয়ে যায়।

এ সময় শান্ত তাকে ধর্ষণ করে এবং সজীব ওই ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে। তারা বলে বিষয়টি প্রকাশ করলে এ ভিডিও ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া হবে। যে কারণে ভয় পেয়ে ওই মেয়ে ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের কাছে পুরোপুরি ভাবে চেপে যায়। তাবে ওই ঘটনার দিনই তার প্রচন্ড জ্বর আসে এবং পেটে ব্যাথা শুরু হয়। এক পর্যায়ে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছ থেকে ওষুধ এনে তাকে খাওয়ানো হয়। তবে এতেও সে সুস্থ্য না হওয়ায় গত শনিবার বিকালে তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালে চিকিৎসক মেয়েটিকে নানা রকম প্রশ্ন করায় সে ভয় ও জড়তা নিয়ে ওই ধর্ষণের ঘটনাটি প্রকাশ করে।

রাজবাড়ী হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার গাইনী ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ওই মেয়েটি বলে, শান্ত ও সজীব তার মুখ চেপে ধরে জোর পূর্বক একটি পাট ক্ষেতের মধ্যে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে জামা-পাজামা খুলে ফেলে শান্ত তাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে এবং সজীব ওই ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করে। সে সময় চিৎকার করা এবং অন্য কাউকে এ ঘটনা বলে দিলে তারা ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকী। যে কারণে সে ভয় পায় এবং ওই ঘটনার পর প্রচন্ড অসুস্থ্য হয়ে পরলেও তা পরিবারের কারও কাছে প্রকাশ করেনি।

রাজবাড়ী হাসপাতালের গাইনী কনসালটেন্ট ডাঃ সেলিমা কামাল রিমা জানান, মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। তারপরও প্যাথোলজিক্যাল টেষ্ট গুলো হাতে এলে বিষয়টি পরিস্কার ভাবে বলা সম্ভব হবে। মেয়েটি অনেক ছোট এবং প্রচন্ড ভয়ে ভেঙ্গে পড়েছে। চিকিৎসা চলছে। তার পরিপূর্ণ সুস্থ্য হতে সময় লাগবে।

রাজবাড়ী থানার এসআই ফরিদ আহম্মেদ বলেন, এ ঘটনায় মেয়েটির মামা বাদী হয়ে শান্ত ও সজীবের বিরুদ্ধে একে অপরের সহযোগীতায় ধর্ষণ করা এবং তা মোবাইল ফোনে ভিডিও কারার অপরাধে মামলা দায়ের করেছে। ২২ ধারায় আদালতে মেয়েটির জবানবন্দী রেকর্ড করার কার্যক্রম চলছে। একই সাথে আসামীদের গ্রেপ্তারে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই