মেইন ম্যেনু

রাজশাহীতে কাকের গণমৃত্যুর কারণ বার্ড ফ্লু

অবশেষে রাজশাহীতে কাকের গণমৃত্যুর কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বার্ড ফ্লু এর কারণে রাজশাহীতে সম্প্রতি ঝাঁকে ঝাঁকে মরছে কাক।

এইচ-৫ নামের ভাইরাসটিকে এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা নামেও অভিহিত করা হয়। মৃত কাকের দেহ থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রাণি সম্পদ অধিদফতরের রোগতত্ত্ব¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) কাকের গণমৃত্যুর কারণ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের গবেষণা বিভাগের পরিচালক ড. মাহমুদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রাণি সম্পদ অধিদফতরের উদ্যোগে এ ব্যাপারে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই কমিটি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাস পরিদর্শন করবে।

প্রসঙ্গত, গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে পরের কয়েকদিন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় গণহারে কাকের মৃত্যু ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, কাকগুলো গাছ থেকে আকস্মিক মাটিতে পড়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশের পর প্রাণি সম্পদ দফতর মৃত কাকের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় গবেষণাগারে প্রেরণ করে।

ড. মাহমুদুর রহমান আরো জানান, গঠিত কমিটি রাজশাহী মেডিক্যাল হাসপাতাল এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষণ করবে। কাক থেকে অন্য কোনো প্রাণি অথবা মানবদেহে এ ভাইরাস যাতে কোনো অবস্থাতেই বিস্তার না ঘটাতে পারে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া কাকের দেহে কীভাবে এই বিপজ্জনক ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে সেটাই কমিটি খতিয়ে দেখবে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গবেষণা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কাক মুরগির নাড়ি-ভুড়ি খেয়ে থাকে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বার্ড ফ্লু আক্রান্ত মুরগির নাড়ি-ভুড়ি খেয়ে কাকও বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে।

এদিকে এখনো রাজশাহী মেডিক্যালে কাকের মৃত্যু ঘটছে বলে জানা গেছে। এই প্রাণঘাতি ভাইরাসটি কোনোভাবে যাতে অন্য প্রাণি বা মানবদেহে ছড়াতে না পারে এজন্য দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, ২০০৯ সালে ঢাকার ধামরাই ও সাভার এবং ২০১১ সালে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় এবং উপকূলীয় এলাকা পটুয়াখালীতে এইচ-৫ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ব্যাপকহারে কাকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জায় বাংলাদেশে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও এ পর্যন্ত ৮ জনের দেহে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই