মেইন ম্যেনু

রাজশাহীতে বিক্ষোভের মুখে পিছু হটল ভ্রাম্যমাণ আদালত

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে গণহারে জরিমানা করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

এসময় বিক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তরিকুল ইসলামসহ তার সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা।

জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ইউএনও তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে তাহেরপুর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। শুরুতেই ব্রিজ মোড় এলাকার মিষ্টি ব্যবসায়ী গফুরের দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি বিক্রির দায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক তরিকুল ইসলাম।

এরপর পান-সিগারেট ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাকের কাছ থেকে আদায় করা হয় এক হাজার টাকা। সেখান থেকে আদালত বের হয়ে গণহারে একের পর এক ব্যবসায়ীদের জরিমানা করতে শুরু করেন।

এর মধ্যে একজন বাইসাইকেল মিস্ত্রির কাছে থেকে ২শ টাকা, ফুটপাতের ফল বিক্রেতার কাছ থেকে তিন হাজার টাকা, ফুটপাতের একজন কাপড় বিক্রেতার কাছ থেকে ৫শ টাকা জরিমানা করা হয়। এভাবে একের পর এক সাধারণ খুচরা বিক্রেতা থেকে শুরু করে বড় বড় দোকানে গিয়ে জরিমানা করতে থাকেন ইউএনও।

এসময় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নামে ইউএনও সাধারণ ব্যবসায়ীদের গণহারে জরিমানা করতে থাকেন। এর ফলে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতারাও আতঙ্কে দোকানে প্রবেশ করছিলেন না। ব্যবসায়ীরা ইউএনওকে বেশ কয়েকবার অনুরোধ করেন, ঈদের বাজারের এ সময় অভিযান না চালানোর জন্য। কিন্তু তিনি ব্যবসায়ীদের অনুরোধ না শোনে একের পর এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জরিমানা করতে থাকেন। এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে থাকা পুলিশ দিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারেরও হুমকি দেন তিনি।

এরপর ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। অবস্থা বেগতিক দেখে ইউএনও তার দলবল নিয়ে সেখান থেকে পিছু হটেন। এ ঘটনার পরেও আধাঘণ্টা ধরে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও ইউএনও তরিকুল ইসলামের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয় নি।

তবে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের মুখে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম বন্ধ করে বাজার থেকে চলে আসতে বাধ্য হন বলে স্বীকার করেন তাহেরপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল খালেক।






মন্তব্য চালু নেই