মেইন ম্যেনু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ছাত্রীনিবাসে অগ্নিকান্ড

ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে পুড়ে গেছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের তৃতীয় তলার একাধিক কক্ষ। প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকালের দিকে আয়শা সিদ্দীকা মহিলা ছাত্রীনিবাসের ৩১৫ নম্বর রুম থেকে এ অগ্নিকান্ডের সূচনা ঘটে। বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিটের মাধ্যমেই এ অগ্নিকান্ডে সূচনা হয় বলে জানা যায়।
অগ্নিকান্ড দেখতে পাওয়ার সাথে সাথে স্টুডেন্টরা ছোটাছুটি করতে থাকে এবং হোস্টেলের কর্মচারীদের জানান হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কর্মচারীদের কেউই জানে না কিভাবে বৈদ্যুতিক মেইন সুইচ অফ করতে হয়। অনেকক্ষন খোজাখুজির পর বৈদ্যুতিক সুইচের সন্ধান মিললেও পাওয়া গেল না সুইচ বোর্ডের তালার চাবি। অন্যদিকে কর্মচারীরা এইটুকু পর্যন্ত জানে না কিভাবে ফায়ার সার্ভিস কিভাবে খবর দিতে হয়। শেষ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস খবর পেলেও গেটেও এসে ঘটল আর এক বিপত্তি। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ডোকানোর জন্য ছাত্রীনিবাসের
প্রধান গেটের চাবি মিলল না। যেগুলোর আয়োজনে জলে পুড়ে ছারখার হয়ে গেল বেশ কয়েকটি রুম। খোজ নিয়ে জানা যায় যেসব রুমে আগুন ধরেছে এই রুমগুলো ছিল শেষ বর্ষের শিক্ষার্ত্রীদের। যাদের চলছিল ফাইনাল পরীক্ষা। তাদের ৫ বছরের বই খাতা, কাপড় চোপড়সহ সমস্ত জরুরী কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট রুমের ৫৪ তম ব্যাচের শেষ বর্ষের ছাত্রী কলি এ ঘটনা দেখে তাৎক্ষনিকভাবে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে । যার দরুন তাকেমেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। ঐ হোস্টেলেরই ৫৩ তম ব্যচের ছাত্রী নাইমা ও নূরফারিহা আইরিন জানান এর আগেও ছোট ছোট কিছু অগ্নিকান্ড ঘটলেও প্রশাসনকে জানান হলেও প্রশাসন থেকে কোন ধরনের ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলেই এতবড় দূর্ঘটনা ঘটল। এধরনের ঘটনার যাতে পূনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যাপারে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দাবি জানান তারা।
রাজশাহী মেডিক্যালের অধ্যাক্ষ ডাঃ মাসুম হাবিবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান ঘটনার তদন্ত করে পরবর্তীতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে তিনি প্রয়োজনীয় উদ্যেগ নিবেন বলে জানান। অন্যদিকে বিল্ডিং অগ্নি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তড়িৎ প্রকৌশলী খন্দকার
মারছুছজানান “ এ ধরনের অগ্নিকান্ডের প্রধান কারন বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট। ত্রুটিপূর্ন বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং অধিক ক্ষমতাসম্পন্য বৈদ্যুতিক
যন্ত্রপাতির অসবাধান ব্যাবহারও এ সমস্ত অগ্নিকান্ডের জন্য দায়ী। সম্পূর্ন বিল্ডিংয়ে লোড পরিমাপ করে সমস্ত পুরানো বৈদ্যুতিক ফিউজ বাদ
দিয়ে আধুনিক উচ্চক্ষমতা সম্পন্য স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক ব্রেকার ব্যবহারে সহজেই এ ধরনেরঅগ্নিকান্ড থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। তাছাড়া
প্রতি তলায় প্রয়োজনীয় ফায়ার এক্সটিংগুইশার, ফায়াল এলার্ম, পানির হোস পাইপ সর্বোপরী সংশ্লিষ্টদের ফায়ারের উপর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষন এ ধরনের অগ্নিকান্ড ঠেকাতে সক্ষম।”ভবিষ্যতের ডাক্তার তৈরীর কারখানা এই মেডিক্যাল কলেজগুলো ।






মন্তব্য চালু নেই