মেইন ম্যেনু

রাজাপুরে ঈদকে ঘিরে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা বেপরোয়া, বাড়ছে চুরি-ডাকাতি

রহিম রেজা, রাজাপুর (ঝালকাঠি) থেকে: ঝালকাঠির রাজাপুরে কোরবানির ঈদকে ঘিরে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে যাওয়ার ফলে সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দিনদিন বাড়ছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ, ইভটিজিং, ব্লাকমেইলিং, চাদাবাজি ও যৌন হয়রানিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে ছোটখাটো মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের ধরলেও তারা আবার কয়েকদিনের মধ্যেই জেল খেটে বের হয়ে সুদে-আসলে উসুল করার লক্ষে আবার এ পেশা-নেশায় উঠে পড়ে লাগে। আর প্রকৃত রাগব বোয়ালরা দলীয় ছত্রছায়ায় থাকায় পুলিশ নিজেরা হয়রানির হাত থেকে বাচতে তাদের ধরা থেকে দূরে থাকেন। ফলে ক্রমশই এদের পাল্লা ভারি হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে ছাত্র ও যুব সমাজসহ বিভিন্ন পেশার শিশু, কিশোর, যুবকরা।

আর বেড়ে যাচ্ছে নানা অপরাধ প্রবনতা। মাদকের টাকা জোগার করতে বিভিন্ন স্থানে ভাড়ায় গিয়ে হামলা-ভাঙচুর, চাদাবাজি ও লুটপাট এবং ফাইল ও খোটবাগি করছে। একাধিক সূত্র জানান, অনেক ক্ষেত্রে মাদক ব্যবসায়ীরাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স হয়ে ব্যবসায়ী প্রতিপক্ষকে অথবা সেবনকারীকে ধরিয়ে দিয়ে তারা বীরদর্পে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র বলছে, বিভিন্ন স্থানে চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক অঘটন ঘটিয়ে পুলিশকে ব্যস্ত রেখে চুপিসারে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যায়।

রাজপুর সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কয়েকদিনে কয়েকটি চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ভূক্তভোগীরা মনে করছে, স্থানীয় মাদকসেবীরা চুরির সাথে জড়িত এবং ডাকাতদের সোর্স হিসেবে কাজ করে থাকে এসব মাদকের সাথে জড়িতরা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এখন মাদক বিকিকিনি ও সেবনের অন্যতম স্পটগুলোর মধ্যে চর রাজাপুরের চর এলাকা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের কাছে। কারন এ স্পট থেকে রাজাপুরের সকল স্পটগুলোতে এখান থেকে যাওয়া-আসা যায়।

দিন রাত সমান তালে এ এলাকায় অপরিচিত মোটর সাইকেলের আনাঘোনাই বলে দেয় যে এরা কারা?। তাতে থানা পুলিশের চোখে পড়ার ভয় থাকে না এদের। এখান থেকে সাইউথপুর ব্রীজ হয়ে বাইপাস এলাকার বাদুরতলা মোড়, ডাকবাংলো মোড়, বাদুরতলা, বড়ইয়া, গাজিরহাট, পুটিয়াখালি, গালুয়া ও নলবুনিয়া এবং বালুর গোলা এলাকা ও বাগড়ি ব্রীজ এলাকা হয়ে বাগড়ি, পিংড়ি, বাড়ৈবাড়ি, কেওতা, হাইলাকাঠি, ইন্দ্রপাশা, সাংগর, মেডিকেল মোড়সহ বিভিন্ন স্পটে থানার সামনা ছাড়াই দ্রুত যাতায়াত করতে পারে মাদক সেবি ও ব্যবসায়ীরা। এসব স্পট থেকে পুলিশ, ডিবি ও র‌্যাব বেশ কিছু ইয়াবা, ফেনসিডিল ও বিপুল পরিমান গাঁজাসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করলেও রাগববোয়ালরা ধরা না পরায় রাজাপুর ভাসছে এখন মাদকের সাগরে।

মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় এখন গুটি বা বাবা অথার্ৎ ইয়াবা। পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে বিভিন্ন কৌশলে কাউখালি, পিরোজপুর, ভান্ডারিয়া, নলছিটি, ঝালকাঠি ও নিয়ামতি ও কাঠালিয়া থেকে মাদকের চালান ঢুকছে রাজাপুরের বিভিন্ন স্পটে। মাদকের ছোবল এখন আর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বখাটে ও ধনী পরিবারের ছেলেদের মধ্যে মাদক সীমাবদ্ধ নেই।

রিকশাচালক থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের ছাত্ররাও মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। তারা এক ধরনের মাদক গ্রহণে সন্তুষ্ট নয়। পানীয় মাদকের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকার নেশাজাতীয় ও ঘুমের ট্যাবলেট গুঁড়ো করে মিশিয়ে তারা পান করছে। এর স্থানীয় নাম ঝাক্কি।

রাজাপুরের অধিকাংশ উঠতি বয়সের ছেলেরা এখন ঝাক্কিতে আসক্ত হয়ে পড়েছে। সচেতন এলাকাবাসীর দাবি, মাদক বন্ধ করতে প্রতিটি সড়কে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে প্রতিটি মোটরসাইকেল ও সন্দেহজনক ব্যক্তিদের তল্লাশি করা জরুরি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পুলিশ সদস্যরা বলছেন, মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতরা ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থেকে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদের তো ধরা ছোয়ার বাইরেই বরং এদের বিক্রেতাদের ধরলেও পড়তে হয় নানা হয়রানিতে। এমন কি বিভিন্ন সময় মিথ্যা, অসত্য ও বানোয়াট কুরচ্ছা রটিয়ে উল্টো হয়রানি করে থাকে। রাজাপুর থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস জানান, গত এক মাসে ১০ জনেরও বেশি মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ওসি জানান, সেবীরাই বিভিন্ন স্থানে চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতর অভিযানের মাধ্যমে এদের আইনের আওতায় এনে নির্মূল সচেষ্ট রয়েছে পুলিশ।






মন্তব্য চালু নেই