মেইন ম্যেনু

রাণীনগরের সদর-আবাদপুকুর-কালীগঞ্জ সড়ক বিপদজনক খানাখন্দ

নওগাঁর রাণীনগরের সদর-উপজেলা বাসষ্ট্যান্ড-আবাদপুকুর-কালীগঞ্জ সড়কের সাড়ে ২২ কিঃমিঃ পাকারাস্তার মাঝে অসংখ্য বড় বড় খানা-খন্দকে ভরা। দেখে মনে হবে এ যেন রাস্তা নয় ছোট ছোট জলাশয়। এতে প্রতিনিয়তই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এই সড়কের চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীদের আর ঘঠেই চলেছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। দুই দপ্তরের রশি টানা-টানির কারণে বেশ কিছু দিন ধরে এই সড়কটি চলাচলের উপযুগী করার জন্য স্বল্পকালীন মেরামতেরও কোন উদ্দ্যোগ চোখে পড়ছে না। গত ২০১৪-১৫ইং অর্থ বছরে উপজেলার অভ্যন্তরীন চলাচলের সবচেয়ে বড় এই সড়কটি স্থাণীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর হতে নওগাঁর সড়ক ও জনপদ বিভাগকে গেজেটের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে। এতেই যেন কপাল পড়ছে রাণীনগর বাসীর।
জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলা বাসষ্ট্যান্ড, সাফা কোল্ড ষ্টোর মোড়, বিজয়ের মোড়, রাণীনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে, হাতির ব্রীজ, সোনাকানিয়া-সিম্বা বাজার, বেলঘড়িয়া বাজার, বনমালিকুড়ি নামক স্থান সহ উপজেলার প্রায় সাড়ে ২২ কিঃমিঃ প্রধান প্রধান সড়কগুলোর মাঝে মাঝে পাঁকা কার্পেটিং উঠে যাওয়াই বৃষ্টির পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানা-খন্দের। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারী না থাকায় দীর্ঘদিন যাবত বড় বড় গর্ত ভরাট ও রাস্তা সংস্কার না করায় কাদা-জলে একাকার হয়ে জনগনের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
দেশের উত্তরাঞ্চলের খাদ্য ভান্ডার হিসাবে পরিচিত নওগাঁ জেলা। এই জেলার অন্য উপজেলার মত রাণীনগর উপজেলা ধান চাষের জন্য বিখ্যাত বলে উপজেলার এই রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত বিশেষ করে আবাদপুকুর হাটের দিনেই ধানবোঝাই শত শত ভারী যানবাহন ট্রাক, ট্রাক্টর, মিনি ট্রাক, ভটভটি-লছিমন, অটোভ্যান চলাচল করে। এতে করে রাস্তাগুলোর সমস্যা দিন-দিন আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। প্রতি বছর উপজেলার বিভিন্ন রাস্তা সংস্কারের কাজ চললেও উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রের বাস্ততম রাস্তাগুলোর সংস্কারের দিকে নজর নেই কর্তৃপক্ষের। বিশেষ করে রাণীনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনের রাস্তায় বড় বড় খানা-খন্দক হওয়াই এই বিদ্যালয় সহ মহিলা অনার্স কলেজে যাতায়াত করতে প্রতিক্ষণই নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
কালীগঞ্জ-আবাদপুকুর-রাণীনগর হতে জেলা শহর নওগাঁ যাওয়ার একমাত্র নির্ভরযোগ্য সড়কটি হওয়ায় শত দূর্ভোগকে উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে যাত্রী সাধারণদের। অচিরেই এই দুর্ভোগ হতে উত্তোরণ পেতে চান যাত্রী সাধারণ ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
উপজেলা প্রকৌশলী আবু মোঃ শফিউল আজম জানান, বর্তমানে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কগুলোর বেহাল দশা, কিন্তু আমাদের দপ্তর থেকে রাস্তাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগে হস্তান্তর হওয়ায় জনগনের ভোগান্তি দেখেও আমাদের করার কিছু নেয়।
নওগাঁ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহঃ আঃ আলীম খান জানান, গত অর্থ বছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে গেজেটের মাধ্যমে ২২.১৮ কিঃমিঃ রাণীনগর-আবাদপুকুর-কালীগঞ্জ-নন্দীগ্রাম সড়কটি আমার বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই সড়কটি জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচলের উপযুগী করতে খুব শীঘ্র স্বল্প মেয়াদী কিছু সংস্কার ও মেরামতের কাজ শুরু করা হবে। স্থায়ী ভাবে সড়কটি কাজ শুরু করার জন্য ইতিমধেই আমার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছে। বরাদ্দ প্রাপ্তী স্বাপেক্ষে এই সড়কটির দরপত্র আহবান করা হবে।






মন্তব্য চালু নেই