মেইন ম্যেনু

রাণীনগরে খাদ্যগুদামে জায়গা না থাকায় ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান ব্যহত হওয়ার আশংকা

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় গত মে মাস থেকে সরকারি ভাবে ধান-চাল ক্রয় সংগ্রহ অভিযান শুরু হলেও বাজারে ধান চালের দামের কোন প্রভাব পড়েনি। গুদামের জায়গা না থাকায় প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে এক ছটাক ধান ক্রয় করা সম্ভব হয়নি। বাজারে এখন প্রতিমণ চিকন ধান বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭০০ থেকে ৭১০টাকা এবং মোটা জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫২০টাকা মন দরে।

এলাকার কৃষকের প্রতিমণ ধান উৎপাদন খরচ অনুযায়ী লোকসান হচ্ছে ১৫০ থেকে ২২০টাকা পর্যন্ত। বাজারের ধানের দাম কম থাকায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এবার সরকারি খাদ্য ক্রয় অভিযানে সবচে বেশি লাভবান হচ্ছে চাল কল মালিকরা।

রাণীনগর খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে চলতি মৌসুমে সরকারি ভাবে মিলারদের কাছ থেকে সরাসরি চাল ক্রয়ের বরাদ্দ এসেছে ৪ হাজার ৩৬৮ মেট্রিক টন আর ধান ক্রয়ের বরাদ্দ এসেছে মাত্র ৩৯২ মেট্রিক টন। কিন্তু রাণীনগর কৃষি অফিস বলছে এবারে ইরি-বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদন হয়েছে ১লক্ষ ১৫ হাজার ১৪৪ মেট্রিক টন। যা চাল আকারে হবে ৭৬ হাজার ৭৬২ মেট্রিক টন যাহা সরকারি ক্রয় বরাদ্দের অনেক কম।

এবার প্রতি কোজ চাল ৩২টাকা মূল্যে সংগ্রহ করার জন্য ১৩২টি লাইসেন্সকৃত চালকল মালিকের সাথে সরকারি চুক্তি হয়েছে । সে অনুযায়ী মে মাস থেকে চাল সংগ্রহ অভিযান চললেও গুদামে জায়গা না থাকার অযুহাতে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি এছটাক ধান ক্রয়ের আলামত ছোখে পড়েনি। অথচ মিলারদের কাছ থেকে বরাদ্দের প্রায় ৪০ভাগ চাল কেনা শেষ হয়েছে। আথচ গুদামের ধারণ ক্ষমতা ১হাজার ৫শ’ মেট্রিক টন হলেও ধারণ ক্ষমতার অধিক চাল ক্রয় করা হয়েছে।

গুদামের জায়গা সংকট হওয়ায় সরাসরি ধান ক্রয় করা সম্ভব হচ্ছেনা। গুদাম ভর্তি চালগুলো খাদ্য বিভাগের তালিকাভূক্ত ঠিকাদারের মাধ্যমে পার্শ্বে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার সিএসডিসহ দেশের চাহিদার আলোকে বিভিন্ন গুদামে স্থানান্তরের গড়িমসির কারণে রাণীনগরে চাল সংগ্রহ অভিযান যথা সময়ে শেষ না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

কেননা যে কোনো সময়ের মধ্যে বৃষ্টিপাত শুরু হলে মিলাররা আর মানস্পন্ন চাল তৈরি করতে না পারলে সম্ভুক গতিতে চাল সংগ্রহ করতে হবে। ফলে এবার ইরি-বোরো মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান ব্যহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট মিলাররা। হরিশপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আহাদ বলেন, প্রতি বছর আমি সাংসারিক প্রয়োজনে কমবেশি কিছু ধান সরকারি গুদামে বিক্রি করে বেশ লাভবান হয়েছিলাম।

এবার গুদামের জায়গা না থাকার অযুহাতে সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে ধান কিন্তে না পারায় উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় মণপ্রতি ১০০থেকে ২০০টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছ। রাণীনগরের কৃষকরা এ নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।

উপজেলার চাউল কল মালিক গ্র“পের সাধারণ সম্পাদক সীতানাথ ঘোষ জানান, সরকারি চাল ক্রয়ের বরাদ্দের তুলনায় এই উপজেলায় যে ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন গুদাম রয়েছে প্রয়োজনীর তুলনায় অনেক ছোট। গুদাম থেকে চাল বহনকারি ঠিকাদাররা যথা সময়ে চাল অন্যত্র স্থান্তর না করায় চলতি মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পাবে না। তাই চাহিদার কথা মাথায় রেখে খুব শিঘ্রয় আরো ৩ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন গুদাম নির্মানের দাবি জানান।

উপজেলা খাদ্য অফিসার মোহাজের হোসেন জানান, আমাদের গুদামের ধারন ক্ষমতা ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। আর চলতি সংগ্রহ অবিযানে চাল ক্রয় করা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করার ইচ্ছা থাকলেও গুদামে জায়গা সংকটের করণে তা সম্ভব হচ্ছে না। এলাকার চাহিদা অনুযায়ী আরো সমপরিমান ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি গুদাম তৈরি করা হলে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।#






মন্তব্য চালু নেই