মেইন ম্যেনু

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে

রাণীনগরে খাল খননের নামে ভূমিহীনদের বসত বাড়ী গুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা : নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার মিরাট ইউপি’র ধনুপাড়া মৌজায় তিন নাম্বার সুইচ গেট থেকে শ্রীমতখালী খাল খননের নামে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার নোটিশ না দিয়ে হঠাৎ পাড়া গ্রামে বসবাসরত গরীব অসহায় ভূমিহীনদের প্রায় ১শ’ ৮০ টি বসত বাড়ির মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় শতাধিক ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাদের এই তান্ডব লীলায় অসহায় মানুদের ঘর-বাড়ি, আসবাবপত্র সহ অন্যান্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। হঠাৎ ঘর-বাড়ি ভাংচুর ও মাটি দিয়ে বাড়ির জায়গা ভরাট করে দেওয়ায় ভয়ে আতংকে যার যতটুকু আসবাবপত্র সহ অন্যান্য সামগ্রী আছে তা হেফাযত করার জন্য অনেকটা বাধ্য হয়ে বাড়ি-ঘর গুটিয়ে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে তিন দিন ধরে অনাহারে-অর্ধহারে নারী-শিশু সহ প্রায় ৬শতাধিক মানুষ মানবেতর জীবন-যাপন করছে। স্থাণীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনোও কেউ তাদের খোঁজ নিতে এগিয়ে আসেনি বলে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান।

জানা গেছে, উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের ধনুপাড়া তিন নাম্বার সুইচ গেট থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড হতে সদ্য হস্তান্তরিত শ্রীমতখালী খালে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাণীনগর জোনের তত্ত্বাবধানে খনন কাজের জন্য জিওবি তহবিল থেকে বরাদ্দকৃত প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকার প্রথম গ্র“পের ৬৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এক কিলোমিটার খাল খনন কাজের জন্য গত ২৮ ফেব্র“য়ারি ২০১৬ইং তারিখে রাজশাহীর লক্ষীপুর মহল্লার মেসার্স তাহ্মিদ এন্টারপ্রাইজকে খনন কাজের কার্য্য আদের্শ প্রদান করলে ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ খনন কাজ শুরু করায় হঠাৎ পাড়া নামক স্থানে বসবাসরত অসহায় ভূমিহীনদের কোন প্রকার উচ্ছেদ নোটিশ না দিয়ে প্রায় ১শ’ ৮০টি বাড়ির মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় শতাধিক ঘর-বাড়ি গুড়িয়ে দিয়ে খালের মাটি দ্বারা বাড়ির জায়গা গুলো ভরাট করে দেওয়ায় প্রায় ৬শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষ খোলা আকাশের নিচে ছোট-বড় ছেলে-মেয়েদের নিয়ে তিন দিন যাবৎ মানবেতর জীবন-যাপন করছে। ওই গ্রামের অসহায় ভূমিহীনদের কান্নার আওয়াজ যেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের কাছে পৌছাতে পারছে না বলে এখন পর্যস্ত কেউ তাদের খোঁজ-খবর নিতে আসেনি। বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের আগ্রাসী কর্মকান্ডে ওই গ্রামের বাসিন্দারা শেষ মহুর্তে সামান্যটুকু সম্বল রক্ষার জন্য ভয়ে-ভীতে বাধ্য হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হচ্ছে।

হঠাৎ পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফরিদা বেগম, রেজাউল ইসলাম, সাহেব আলী, আশরাফুল সহ আরো ক্ষতিগ্রস্তরা কান্না বিজড়িত কন্ঠে জানান, আমরা ভূমিহীন বড় অসহায়! আমাদের বাপ-দাদার কোন সম্পত্তি নেই। তাই খালের উপরে প্রায় ১৬/১৭ বছর ধরে বসবাস করে আসছি। হঠাৎ গত দুই-তিন দিন ধরে রাণীনগর বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নিয়োজিত খাল-কাটা ঠিকাদার কোন প্রকার উচ্ছেদ নোটিশ ছাড়াই খাল কাটার নামে মেশিন দিয়ে আমাদের বসত বাড়ি গুড়িয়ে দেওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বাঁধা দিতে গিলে মামলা-হামলা ও পুলিশের ভয়-ভীতির হুমকি দিচ্ছে। আমরা এখন কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো?

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাণীনগর জোনের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ তিতুমীর রহমান জানান, আমি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের এই খাল খনন সম্পর্কে কোন তথ্য দিতে পারবো না। তবে পিড়াপীড়ির এক পর্যায়ে তিনি জানান, সরকারী জমিতে রাস্ট্রের কাজ চলছে, সেখানে বসত বাড়ি করে ভূমিহীনদের বসবাসের জন্য সরকারি কোন অনুমতি না থাকায় আমরাও তাদের উচ্ছেদ নোটিশ করিনি। কাজের স্বার্থে তারা স্বেচ্ছায় সড়ে গেলে তাদের বাড়ি-ঘরের ক্ষতি হত না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোনিয়া বিনতে তাবিব জানান, বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের শ্রীমতখালী খাল খননের কারণে হঠাৎ পাড়া গ্রামে অসহায় গরীব ভূমিহীনদের বসত বাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে এবং খোলা আকাশের নিচে তারা বাস করছে এটা অমানবিক। বিষয়টি গতকাল বুধবার মিরাট ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিনের মাধ্যমে আমি শুনেছি। তাদের কিভাবে পূর্ণবাসন করা যায় সে ব্যাপারে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।






মন্তব্য চালু নেই