মেইন ম্যেনু

রাণীনগরে প্রাচীনতম আবাদপুকুর হাট হাটুরিয়াদের চরম দূর্ভোগ উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত

নওগাঁর রাণীনগরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজরিত উপজেলার সবচে প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী আবাদপুকুর হাট। ধানের সবচে বড় মোকাম হিসেবে এই হাটের বেশ সুনাম আছে। প্রতি বছর এই হাট থেকে সরকার প্রায় কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করলেও এর উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি চোখে পড়েনা। রাস্তা-ডেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিপাতে কাদা-পানি একাকার হয়ে নোংড়া পরিবেশে হাটে আসা মানুষদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

উপজেলার সদর থেকে ১৪ কিলোমিটার পূর্বে নওগাঁ জেলার সীমান্তবর্তী স্থানে আবাদপুকুর দীঘির নামকরণের সাথে যুক্ত হয়ে এই হাটটির নাম হয় আবাদপুকুর হাট। উত্তরে বগুড়া জেলার আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া, পূর্বে নন্দীগ্রাম ও দক্ষিনে নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলা মাঝামাঝি স্থানে কালিগ্রাম মরুপাড়া মৌজায় ৯.৯৩ একর জমির উপরে এই হাটের অবস্থান। উপজেলার এই বৃহত্তম হাটটি তৎকালীন সময়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালিগ্রাম পরগনায় আওতাধীন থাকায় বর্তমান এর বিভিন্ন এলাকায় আবাদপুকুর হাটের নাম ডাকের পরিচিত বেশি। এক সময়ের উত্তাল নাগর নদী ও সড়ক পথে সুষ্ঠ যোগাযোগ থাকায় সপ্তাহে দুই দিন (রবি ও বুধবার) এখানে হাট বসে।

প্রতি হাটেই নওগাঁ সদরসহ পার্শ্ববর্তী কয়েক জেলা উপজেলার প্রায় ১লক্ষ হাটুরিয়া হাটবারের দিনে সমাগত হয়। প্রতিদিন এখানে সকাল সন্ধা বাজারও বসে। স্থায়ী বাজারে শ্রেণী ভেদে বিভিন্ন মানের প্রায় ২শ’ দোকান আছে। সকাল থেকে দিন ভর বাজার বসার কারণে প্রতিদিন এলাকাবাসী নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনা কাটা করার জন্য শত শত বাজার মুখী মানুষের সমাগম ঘটে।

এলাকাবাসী জানান, হাটে আসা যাওয়ার রাস্তাগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। প্রধান সড়ক হতে চারটি রাস্তা জবর দখলকারীদের কবলে পড়ে আস্তে আস্তে সরু হয়ে পড়ায় মালবাহী ট্রাক, ট্রাক্টর, গরু-মহিষের গাড়ী হাটের মধ্যে প্রবেশ করতে না পারার ফলে কৃষকদের উৎপাদিত ধান বিক্রয়ের জন্য সরাসরি বাজারে নিতে না পারায় দু’দফা পরিবহণ খরচ গুনতে হয়।

হাটের ভিতরে মাটির রাস্তাগুলো পাকাকরণ না হওয়ায় সামান্ন বৃষ্টিতেই হাঁটু পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, সৌচাগার, সেড না থাকায় রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হাটুরিয়াদের কেনা বেচা করতে হয়। ভারি বর্ষন হলেই যথাযথ ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় হাটের মধ্যে হাঁটু পানি ও কাদা জমে একাকার হয়ে যায়। এক পট্রি থেকে আরেক পট্রি যাওয়া কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ে।

উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় নংড়া আর্বজনার স্তুপ যত্রতত্র পরে থাকায় দুগন্ধের কারণে হাটে আসা মানুষের নাক বন্ধ করে চলাচল করতে হয়। নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বৃষ্টির পানি উপচে পড়ে অলিগলিতে মলমূত্র আর্বজনা ঢুকে পড়ে। হাটে আসা দোকানীদের নিজ খরচে ছোট ছোট বাঁশ ও খড়ের তৈরী ঘরগুলো সরকারি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় একটু ঝড় বৃষ্টিতেই ভেঙ্গে পড়ে ছোট বড় দূর্ঘটনা মাঝে মধ্যেই ঘটে।

হাটের পাশেই অবস্থিত আবাদপুকুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও জনসাধারণের চলাচলের সময় হাটের মধ্যে রাস্তাগুলো পানি কাদায় জমে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাস্তা, সেডের ছাওনীগুলো সংস্কারের অভাবে ধান পাট গরু ছাগল হাঁসমুরগী তরিতরকারীসহ অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে ব্যবসায়ীরা অনেক সময় রাস্তার উপর বসে থাকতে দেখা যায়।

ফলে যানবাহন চলাচলের মারাতœক অসুবিধা সহ যানজোটের সৃষ্টি হয়। যথাযথ সংস্কার, হাটের জায়গা বেদখল হওয়ার কারণে ঐ হাটের ইজারাদার স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে আর্থিক সমন্বয় করে গরু হাটি স্কুলের মাঠে বসাতে হচ্ছে। হাটের জায়গা জবর দখলকারেীদের কবল থেকে উদ্ধার, সৌচাগার নির্মান, পট্টী ভেদে টিনের সেড তৈরিসহ সরু প্রবেশ পথগুলো প্রসস্ত করে হাটুরিয়াদের দুর্ভোগ নিরসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসি দাবি নানান।

গত বছর এই হাটটি ৯০ লক্ষ টাকা ইজারা হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া না থাকায় চলতি বছরে ৭০ লক্ষ টাকা ইজারা হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যেই দীর্ঘদিন হাটের অবকাঠামো উন্নয়ন না করায় বিপুল অংকের রাজস্ব হারাতে বসেছে।

বিশিষ্ট ধান ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানান, এই হাটের সবচে বেশি বেচা-কেনা হয় ধান কিন্তু হাটের প্রবেশ পথের রাস্তা দখলবাজদের কারণে কৃষকরা যানবাহণে করে ধান নিয়ে সরাসরি হাটের ভিতর প্রবেশ করতে না পারায় বড় বড় কৃষকরা হাটে না এসে বাড়িতে বসে ধান বিক্রির চিন্তা করে। ফলে আমরা যারা ব্যবসায়ী আছি বাজার দর মতো কৃষকদের ধানের মূল্য দিতে পারিনা। যার কারনেই একদিকে ধান আমদানি কম হওয়ায় ইজারদার হাটের টোল আদায় থেকে বঞ্চিত হয় আপর দিকে আমরাও চাহিদা মতো ধান কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ইজারাদার দেলোয়ার হোসেন জানান, হাটের মধ্যে এক শ্রেনীর দখলবাজরা ঘর নির্মান করে হাটের জায়গা দখল করছে। নির্মান সামগ্রী যত্রতত্র রেখে হাটুরিয়াদের অসুবিধে করছে। নানান অসুবিধার কারণে টোল আদায় যথাযথ আদায় না হওয়ায় আস্তে আস্তে এই হাটটি রাজস্ব হারাতে বসেছে।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী আফিসার মুনিরুল ইসলাম পাটওয়ারি জানান, রাণীনগর উপজেলার মধ্যে সবচে বড় হাট আবাদপুকুর। এর রাজস্ব আদায়ও বেশি। তবে অবকাঠামোগত কিছু সুযোগ-সুবিধার অভাব থাকলেও পর্যায়ক্রমে তা সংস্কারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংযোগ সড়কের কাজগুলো কিছু ইট সলিং করা হয়েছে। হাটের মধ্যে অবৈধ অবকাঠামো নির্মানের কোন অভিযোগ পাইনি। সুর্নিদিষ্ট অভিযোগ পেলে দখলবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






মন্তব্য চালু নেই