মেইন ম্যেনু

রাণীনগরে বর্ষা এলেই জমে উঠে মাছ শিকারের এতিহ্যবাহী খলসানী হাটি

প্রতি বছর বর্ষা এলেই জমে উঠে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর, ত্রিমোহনী, বেতগাড়ীসহ ঐতিহ্যবাহী খলই ও খলসানি হাটি। আষাঢ়-শ্রাবনের প্রবল বর্ষনে চারিদিকে নদী-নালা, খাল-বিল যখন পানিতে থৈ থৈ করে, তখন জেলে সম্প্রদায় সদর,গ্রামবাংলার মৎস্য শিকারীদের লেগে যায় মাছ ধরার ধুম। জেলে সম্প্রদায়েরা জাল দিয়ে মাছ শিকার করলেও আজও গ্রামবাংলার অনেকেই বাঁশের তৈরি বিশেষ ধরনের এই খলই কিংবা খলসানী ব্যবহার করে নদী-নালা,খাল-বিলে মাছ শিকার করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অনেকেরই মৎস্য শিকার এক ধরনের নিশা। এজন্য আষাঢ় ও শ্রাবণ দুই মাস ধরে অস্থায়ী ভিত্তিত্বে আবাদপুকুর, ত্রিমোহনী ও বেতগাড়ীতে প্রতিবছরই এই ঐতিহ্যবাহী খলই কিংবা খলসানী হাটটি যুগযুগ ধরে ঐতিহ্য ধারণ করে আসছে। বাঁশ শিল্পের এ খলই এবং খলসানী তৈরী করে আজও বেঁচে আছে ঝিঁনা, হরিপুর, নিজামপুর, খট্রেশ্বর ও পাশ্ববর্তী চাঁপাপুরসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২শতাধিক পরিবার। তারা তাদের স্ত্রী, পুত্র কন্যাসহ পরিবারের সকল সদস্যরা মিলে এই অবসর মৌসুমে তাদের নিপুণ হাতের তৈরি এসব খলসানি তৈরি করে বাড়ি থেকে নিয়ে এসে আবাদপুকুর, ত্রিমোহনী, বেতগাড়ীসহ বিভিন্ন হাটে নিয়ে আসে এবং বেচাকেনা করে। বাঁশ কটের সুতা এবং তাল গাছের সাঁশ দিয়ে তৈরি এসব খলসানি মানের দিক দিয়ে ভালো হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অঞ্চল ভেদে বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে মাছ শিকারীরা এখান থেকে পাইকারি মূল্যে কিনে ট্রাক দিয়ে খলসানি নিয়ে যায়। ফলে এখানকার খলসানি তৈরির সাথে জড়িত পরিবারগুলো বর্ষা মৌসুমে এর কদর বেশি ও যথাযথ মূল্য পাওয়ায় মাত্র দুই তিন মাসেই খলসানি বিক্রি করেই তারা প্রায় বছরের খোরাক ঘরে তুলে নেয়। লাভ খুব বেশি না হলেও বর্ষা মৌসুমে এর চাহিদা থাকায় রাত-দিন পরিশ্রমের মাধ্যমে খলসানি তৈরি করে তারা বেজাই খুশি। এক দিকে যেমন সময় কাটে অন্য দিকে লাভের আশায় বাড়ির সকল সদস্যরা মিলে খলসানি তৈরির কাজ করে অভাবের কবল থেকে একটু সুখের নিশ্বাস ফেলে। এসব খলসানি তৈরিতে প্রকার ভেদে খরচ হয় ৭০থেকে ২শ’ টাকা, বিক্রি হয় ১০০ থেকে ৩”শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এতে করে খুব বেশি লাভ না হলেও পৈত্রিক এই পেশা ছাড়তে তারা নারাজ। আধুনিকতার উৎকর্ষের তৈরি ছোট জাতের মাছ ধরার সূতি, ভাদাই, ও কারেন্ট জালের দাপটের কারণে দেশি প্রযুক্তির বাঁশের তৈরি খলসানি সামগ্রী এমনিতেই টিকে থাকতে পারছে না। কিন্তু জীবন জীবিকার তাগিদে তারা একেবারে কর্মহীন থাকতেও চায় না। তবে সরকারি ও বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতা ও ঋণ সহযোগীতা পেলে মৌসুমের আগে বেশি পরিমাণ খলসানি মজুত করতে পারলে ভরা মৌসুমে বেশি দামে বিক্রি হলে লাভ ভালো হয়। উপজেলার নিজামপুর গ্রামের খলই বা খলসানী তৈরি ও বিক্রেতা শ্রী সুদাম জানান, আমি প্রতি হাটে প্রায় ৫০ টির মতো খলসানি বিক্রি করি। এছাড়া বাড়ি থেকেও বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা ও গৃহস্থরা এসে খলসানি কিনে নিয়ে যায়। এতে যা লাভ হয় কোন মতে পরিবার পরিজন নিয়ে ডাল ভাত খেয়ে বেঁচে থাকি। উপজেলার হরিপুর গ্রামের খিতিষ ও নিলচাঁদ জানান, বাপ দাদার আমল থেকেই এই খলসানী তৈরী তাদের পেশা। তিনি ২ যুগ ধরে আবাদপুকুর, ত্রিমোহনী ও বেতগাড়ীসহ বিভিন্ন হাটে এই খলই কিংবা খলসানী বিক্রি করে আসছেন। তবে বর্তমানে বাঁশের ঝাড় বিলুপ্ত এবং বাঁশের দু¯প্রাপ্যতায় একটি খলসানী তৈরী করে বিক্রিতে তেমন কোন লাভ হচ্ছেনা।
হাটে খলসানী কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, তুলনামূলক ভাবে খলসানীর দাম আগের তুলনায় একটু বেশী। উপরন্ত একটি খলসানীতে হাটের খাজনা ৫টাকা হওয়াটা নিতান্তই অমানবিক।
উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের আব্দুল জলিল জানান, আমি ত্রিমোহনী হাটে দু’টি খলসানি কিনেছি, বাজারে দেশী প্রজাতির ছোট মাছ প্রায় হারিয়ে গেছে। যে দু’এক জন দেশী মাছ বিক্রির জন্য হাটে আনেন, তার দাম অনেক বেশি । আমার মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের কিনে খাওয়া অসম্ভব। তাই হাট থেকে দু’টি খলসানি ২১০ টাকা দিয়ে কিনেছি ছোট মাছ ধরারর জন্য।#






মন্তব্য চালু নেই