মেইন ম্যেনু

রাণীনগরে রাস্তার পাশে যত্রতত্র ওয়েলডিং কারখানা

কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ) : নওগাঁর রাণীনগরে রাস্তার পাশ দিয়ে যত্রতত্র ভাবে গড়ে উঠেছে ওয়েলডিং কারখানা । এসব কারখানায় ঝালাই কাজের সময় একদিকে যেমন পথ চারিদের চলা চলে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে অন্য দিকে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সংশ্লিষ্ঠ কর্তপক্ষের নজরদারি না থাকায় যত্রতত্র গড়ে উঠেছে এসব ওয়েলডিং কারখানা।

রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে,প্রতিটি রাস্তার পাশে ছোট বড় প্রায় শতাধীক ওয়েলডিং কারখানা যত্রতত্র ভাবে গড়ে উঠেছে । এসব কারখানায়, গ্রিলের দরজা,জানালা,আলমারি,বাক্সসহ বিভিন্ন লোহার আসবাবপত্র তৈরি করে স্থানীয় ভাবে অথবা এলাকার বাহিরে মালা-মাল বিক্রি করে থাকেন। রাস্তার দু’পাশে দিনে অথবা রাতে সমানে চলছে ঝালায় কাজ । ফলে পথচারিরা রাস্তাদিয়ে মটরসাইকেল অথবা যে কোন যানবাহনে চলাচল করতে চরমভাবে প্রতিবন্ধকতার স্বীকার হচ্ছে। ঝালাই মেশিন দিয়ে কাজ করার সময় কারখানার কর্মচারিরা চোখের ক্ষতি এড়াতে বেগুনি আলোকরশ্মি প্রতিরোধক গ্লাস পড়ে কাজ করলেও পথ চারিদের চোখে এমন প্রতিরোধক গ্লাস না থাকায় ঝালাই মেশিনের বেগুনি আলোক রশ্মিতে চোখের ব্যবপক ক্ষতিসাধিত সহ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন । অপর দিকে তিব্র আলোক রশ্মির কারনে অনেক সময় দূর্ঘটনার কবলে পরার আশংকায় গাড়ীর গতি কমিয়ে ওই স্থান পার হতে হচ্ছে ।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে,ওয়েলডিং কারখানা নিরিবিলিস্থানে গড়ার নিয়ম থাকলেও রাস্তার পার্শ্বে ইচ্ছে মতো যত্রতত্র ভাবে গড়ে তুলেছে এসব কারখানা। তথ্য মতে, যেখানে ঝালাই কাজ করা হয় সে স্থানটুকু কাপড় দিয়ে ঘিড়ে অথবা লোকালয়ের আড়ালে কাজ করার নিয়ম থাকলেও এসব নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে চলছে এসব কাজ। ফলে হাতুর পিটানির ঝনঝনি আর আলোক রশ্মির তিব্রতা চরম ভাবে স্থাস্থ্য ঝুকিতে ফেলে দিয়েছে পথচারিসহ সাধারণ মানুষদের। এছাড়া কারখানার আশে-পাশে গড়ে ওঠা অন্যান্য দোকানিদের চরম বিরম্বনা পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়িত।

এব্যাপারে ট্রাকচালক আরব হোসেনহর বেশ ক’জন সিএনজি ও মটরবাইক চালক এবং পথচারিরা জানান,রাতে ওয়েলডিং কারখানার ঝালাইয়ের আলোক রশ্মির তিব্রতায় দূর্ঘটনা এরাতে গাড়ীর গতি কমিয়ে পার হতে হয় ।তাছাড়া আলোক রশ্মির কারনে অনেক সময় ধরে চোখে নিল ঝাপসা দেখা যায় । ফলে গাড়ী চালাতে চরম সমস্যার সৃষ্টি হয় ।

রাণীনগর শের এ-বাংলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোফাখ্খর হোসেন পথিক জানান, ওয়েলডিং কারখানা করার জন্য যে সকল শর্ত প্রযোজ্য আমার মনে তার একটি শর্তও কেউ মেনে কারখানা করেননি। আবাসিক এলাকা বা মেইন রাস্তার পাশে এসকল কারখানার কারনে জনসাধারন চরম স্বাস্থ্য ঝুকিতে পরছে। দ্রুত এসব কারখানা অপসারন করা দরকার ।

এব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমবি,বিএস ডাঃ মুনির হোসেন জানান,প্রকাশ্য ওয়েলডিং কারখানার ঝালাইয়ের তিব্র আলোক রশ্মির কারনে চোখের ক্ষতিসহ চরম স্বাস্থ্য ঝুকি রয়েছে এতে । কোন অবস্থাতেই রাস্তার পাশে প্রকাশ্য ঝালাই করা উচিৎ নয়।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা সোনিয়া বিনতে তাবিব জানান, রাস্তার পাশে এসব কারখানার বিরুদ্ধে অচিরেই অভিযান চালানো হবে।






মন্তব্য চালু নেই