মেইন ম্যেনু

রাণীনগরে শেষ মহূর্তে রোপা-আমন ধান লাগানোর ধুম

নওগাঁর রাণীনগরে শেষ মহূর্তে রোপা আমন ধান লাগানোর ধুম পড়েছে। গত কয়েকদিন অবিরাম বৃষ্টিপাত নিম্নচাপের প্রভাবের কারণে অতি বৃষ্টিতে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের রোপা-আমনের আবাদযোগ্য ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় যথা সময়ে কৃষকেরা ধান লাগাতে না পারায় শেষ মহূর্তে অতি খরার কারণে পানি কমতে থাকায় উপজেলা প্রতিটি ইউনিয়নে বিশেষ করে উঁচু এলাকায় রোপা-আমন ধান লাগানো পুরো দমে শুরু হয়েছে।

রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি রোপা-আমন মৌসুমে উপজেলায় ১৮হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অতি বৃষ্টিপাতের কারণে রক্তদহ বিল, বিল মুনসুর, বিল চৌর ও রতন ডারির পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন অঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় কৃষকরা তাদেরহাল মই দেওয়া তৈরি জমিতে ধান লাগাতে পারেনি। এমনকি সেই সময় লাগাতার বৃষ্টি পাতের কারণে বেশ কিছু বীজতলা ও তলিয়ে যায়।

গত ইরি-বোরা ধানের মৌসুমে রাণীনগর খাদ্রগুদামের ক্রয় কেন্দ্রে চাষী পর্যায় থেকে সরাসরি ধান না কেনায় লোকসানের ধকলের রেশ কাটতে না কাটতেই চলতি রোপা-আমন চাষের শুরুতেই আবারো কৃষকরা হুচোট খেয়েছে। একই জমিতে চারা রোপন যোগ্য করতে দু’দফা হাল চাষ ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করার পর ক্ষতির কথা চিন্তা না করে পুরো দমে ধান লাগাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে এলাকার কৃষকরা।

ইতোমধ্যেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০হাজার হেক্টর জমির ধান লাগানো শেষের পথে। বাকি জমিতে বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে কৃষকরা ধান লাগানোর চেষ্টা করছে। তারা আশাবাদি একটু দেরিতে হলেও আবাদি জমি ফেলে রাখতে রাজি না। উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার জানান, বর্ষার আগেই আমি জমি তৈরি করেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ অবিরাম বৃষ্টি বাদলের কারণে আমার প্রায় ৪ বিঘা পানিতে তলিয়ে যায়।

ঢলের পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে ধান লাগানো শুরু করেছি। তবে রতন ডারির কাছে জমিগুলো জলাবদ্ধতার কারণে হয়তো লাগাতে পারবো না। হরিশপুর গ্রামের কৃষক জাহিদ হোসেন জানান, প্রায় ২ বিঘা জমিতে ধান লাগানোর পর বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে আবারো ধান লাগাতে শুরু করেছি।

উপজেলা কৃষি অফিসার গোলাম সারওয়ার জানান, অবিরাম বৃষ্টিপাত শেষে লাগাতার খরার কারণে ঢলের পানি নামতে শুরু করায় এলাকা ভেদে আবাদযোগ্য জমিতে কৃষকেরা শেষ মূহূর্তে কোমর বেধে রোপা-আমন ধান লাগানো শুরু করেছে। যদিও ধান লাগানোর সময় শেষ পর্যায় থাকায় আমার কৃষি বিভাগের লোকজন কৃষকের ধান লাগানোর পর ভালো মতো বেড়ে উঠতে পারে সে জন্য মাঠ পর্যায়ে নানা ধরণের পরামর্শ দিয়ে আসছি।

ধান লাগানোর সময় বিশেষ করে টিএসপি এবং পটাশ জাতীয় সার প্রয়োজন মতো ব্যবহারের জন্য কৃষকদের উৎসাহ দিচ্ছি। এতে করে ধানের শিকড় বৃদ্ধিসহ কোনো প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা না দিলে ফলন বেশি হবে। এ পর্যন্ত মাঠ পর্যায় জরিপ শেষে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের প্রায় ১০হাজার হেক্টর জমিতে রোপা-আমন লাগানোর তথ্য আমরা পেয়েছি।






মন্তব্য চালু নেই