মেইন ম্যেনু

রাণীশংকৈল বিদ্যালয়ের মাঠ জবর দখলহামলায় আহত ১০, আটক ৩

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল কাতিহার উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ জবর দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রছাত্রীরা উপজেলা নির্বাহী অফিস ঘেরাউ করে । দূর্বৃত্তরা জবর দখল করে স্কুলের মাঠে প্রাচীর নির্মান করার সময় স্কুল কর্তৃপক্ষ বাঁধাদিলে একপর্যায় উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারীর ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয় কমপক্ষে ১০ জন। আহতরা হলেন-প্রধান শিক্ষক হুমায়ন কবির, দাতা সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক নূরুল ইসলাম মনিব, সহকারী শিক্ষক পয়গাম, বিদ্যালয়ের ছাত্রী খুশি আক্তার, রিত্তা আক্তার, আলিম, ফিরোজা এবং রওসনারা। তারা রাণীশংকৈল হাসপাতালে ভর্তি হয়।

সরে জমিনে গিয়ে জানা যায়, ১৫ মার্চ (মঙ্গলবার) সকাল ১১টায় স্কুল মাঠ জবর দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্র-ছাত্রীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ ও থানা ঘেরাউ করে। তারা দাবী জানান, স্কুল মাঠে জবর দখল করে অবৈধ ভাবে প্রাচীর নির্মান করা হয়েছে। এসময় উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন তাদের প্রতিশ্রুতি দেন ঘটনা স্থল তদন্তকরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাৎক্ষনিক ভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার নাহিদ হাসান, সহকারী কমিশনার ভূমি মাসফিকুর রহমান, (ওসি) রেজাউল করিম ঘটনা স্থলে গিয়ে পুলিশ পটেকশন দিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ নির্মানকৃত প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে নাসির উদ্দীনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক, রাজ্জাকের স্ত্রী শুমি আক্তার ও জলিলের ছেলে দেলোয়ার হোসেন কে পুলিশ আটক করে। আটকৃতরা হলেন উপজেলার রাজর গ্রামের বাসিন্দা।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার নাহিদ হাসান বলেন, জমিটি স্কুলের, দাবী করছেন নাসিরউদ্দীন নামে একব্যক্তি। বিষয়টি সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে শুনানি চলছে। ইতো মধ্যে উভয় পক্ষের অঙ্গিকার রয়েছে তারা বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কেউ যাবেনা। শুনানিকে উপেক্ষা করে নাসির উদ্দীনের লোকজন স্কুল মাঠে প্রাচীর নির্মান করে এলাকায় অশান্তী সৃষ্টি করে। ফলে ঘটনা স্থলে দিয়ে প্রশাসন প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলেছে । তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, বিষয়টি নিয়ে গত ৮মার্চ পুলিশিং কমিউটির মাধ্যমে স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং নাসির উদ্দীন একটি অঙ্গিকার নামায় সই স্বাক্ষর করেন। মামলার হিয়ারিং চলাকালিন সময় উভয় পক্ষ কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাবেনা। তিনি বলেন ঘটনাটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক হুমায়ন কবির জানান, কাতিহার উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৭২ সালে স্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি ২একর ১০ শতক জমির উপর অবস্থিত। তিনি বলেন-হঠাৎ করে ১৫ মার্চ সকাল ১১ টায় সাবেক ইউপি সদস্য নাসির উদ্দীন তার লোকজন নিয়ে স্কুল মাঠ জবর দখল করে প্রাচীর নির্মান করেন। নাসির উদ্দীনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক বলেন ১৫৫৬ দাগে তাদের ৪৮ শতক জমি আছে। তার মধ্যে তার পিতা ১৯৮৭ সালে স্কুলকে ১৫শতক জমি দান করেন। বাকী ৩৩ শতক জমি স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী করেন তারা। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের জমি ছেড়ে না দেওয়ায় তারা স্কুল মাঠে প্রাচীর নির্মান করেন।






মন্তব্য চালু নেই