মেইন ম্যেনু

রাতে অবরুদ্ধ ধানমন্ডি

নিরাপত্তার নামে রাতের ধানমন্ডিকে অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়েছে। রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে রীতিমতো তালা মেরে রাখা হচ্ছে! আপনি যত বড় বিপদেই থাকুন না কেন গভীর রাতে এই রোড ব্লকের তালা খোলার জন্য কাউকে খুঁজে পাবেন না। সিটি করপোরেশনের অনুমতির কোনো তোয়াক্কা না করেই বহুজাতিক কোম্পানির পৃষ্ঠপোষকতায় ধানমন্ডির অনেক সড়কে নির্মাণ করা হয়েছে এ সব ব্যারিকেড।

এতে সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা হচ্ছে, রাত ১১টার পর ধানমন্ডির কোন্ রাস্তা যে খোলা আর কোন্ রাস্তা যে বন্ধ সেটা বোঝার কোনো উপায় থাকে না। মিরপুর রোড থেকে ধানমন্ডিতে প্রবেশ করার সময় এ নিয়ে ধাঁধায় পড়তে হয়। অন্যদিকে সাত মসজিদ রোড থেকে প্রবেশের প্রায় প্রতিটি রাস্তাই বন্ধ থাকে। ফলে রাতে যারা এ এলাকায় চলাচল করেন তাদের খুব বড় রকমের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, নিরাপত্তার কথা বলে এভাবে অবরুদ্ধ করা হয়েছে ধানমন্ডিকে। কিন্তু পথেঘাটে ছিনতাই থামেনি। ধানমন্ডির কোন্ কোন্ রাস্তায় ছিনতাই হয় সেটা এলাকাবাসী জানে। জানে না শুধু পলিশ। ভুক্তভোগীদের দাবি, এ সব রাস্তা আটকে মানুষের ভোগান্তি না বাড়িয়ে পুলিশের টহল জোরদার করা হোক। আর যদি গেট বন্ধ করতেই হয়, তবে প্রতিটি গেটে কমিউনিটি পুলিশের ডিউটি দেওয়া হোক। রাতের বেলা প্রয়োজনে যাতে গেট খুলতে পারে।

ধানমন্ডির ১১/এ সড়কের বাসিন্দা শাহেদ আলী বলেন, রোড ব্যারিকেডে ধানমন্ডি থানার ফোন নম্বর দেওয়া রয়েছে। কিন্তু সেখান থেকে কোনো সহযোগিতা দেওয়া হয় না। রাতে কোনো রোড খোলা রাখার অনুরোধ করলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেওয়া ছাড়া ওই নম্বর আর কোনো সহায়তা করে না। সবগুলো রাস্তায় ব্যারিকেড অথচ এ সব পরিচালনার জন্য কোনো গার্ড নেই।

এ দিকে সিটি করপোরেশন বলছে, এভাবে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া মানবাধিকারের লঙ্ঘন। পাবলিক ওয়ে কেউ বন্ধ করতে পারে না। এ ব্যাপারে ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বেলাল বলেন, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার রাস্তায় স্থায়ী ব্যারিকেড দেওয়ার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে নিরাপত্তার খাতিরে পুলিশ অস্থায়ী ব্যারিকেড দিতে পারে। কিন্তু এভাবে স্থায়ী ব্যারিকেড দেওয়া তো মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে।

রাতের বেলা ধানমন্ডির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, একদিকে মিরপুর রোড অন্যদিকে সাত মসজিদ রোড, আর এদিকে ২৭ নম্বর রোড- এরই মাঝেই মূল ধানমন্ডি সীমাবদ্ধ। মিরপুর রোড থেকে ১৪টি সড়ক দিয়ে ধানমন্ডিতে প্রবেশ করা যায়। তবে রাতের বেলা ৫, ৬ ও ১০ নম্বর ছাড়া প্রায় সব সড়ক বন্ধ থাকে। অপরদিকে ২৭ নম্বর সড়কের দুইটি সড়ক দিয়ে ধানমন্ডিতে প্রবেশ করা যায়। একটি হচ্ছে এইচএসবিসি ব্যাংকের সামনে দিয়ে ৩৩ নম্বর সড়ক দিয়ে। যারা গুলশান বা উত্তরার দিক থেকে আসেন তারা প্রধানত এই রাস্তাটি দিয়ে ধানমন্ডিতে প্রবেশ করেন। কিন্তু এই সড়কটি বন্ধ রাখা হয়। অপরদিকে সাত মসজিদ রোডের ১১টি সড়ক দিয়ে ধানমন্ডিতে প্রবেশ করা যায় তবে এর মাঝে ২৫/এ, ৯/এ ও ৭/এ ছাড়া সব সড়ক বন্ধ রাখা হয়।

এ ছাড়া রাতে রোড ব্লকের কারণে ধানমন্ডির ভেতরে গাড়ি চলাচল ও মানুষের আনাগোনা কমে যায়। অনেক জায়গায় স্ট্রিট লাইট না থাকায় ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করে। এলাকাবাসী বলছেন, রাস্তা বন্ধ করে মানুষের দুর্ভোগ না বাড়িয়ে, নিরাপত্তার জন্য স্ট্রিট লাইট দিয়ে অন্ধকার দূর করার ব্যবস্থা করা হোক। অন্ধকারেই ছিনতাই হয়, উজ্জ্বল আলো থাকলে ছিনতাই হয় না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আজম মিয়া বলেন, ‘প্রতিটি বন্ধ গেটের সামনেই গার্ডের কাছে চাবি থাকে। তারা প্রয়োজনে গেট খুলে দেয়।’ কিন্তু বাস্তবে, ২৯ নম্বর সড়কের সামনে কমিউনিটি সেন্টারের গার্ডের কাছে গেটের চাবি ছাড়া আর কোথাও গেট খুলে দেবার জন্য চাবিতো দূরের কথা কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলাকার কাউন্সিলর, ধানমন্ডি আবাসিক কল্যাণ সমিতি ও ধানমন্ডি মডেল থানার যৌথ উদ্যোগে এই ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। তারা বলছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে ছিনতাই, চুরি ঠেকাতে এই উদ্যোগ। কিন্তু এলাকাবাসী বলছেন, এই ব্যবস্থা রাতের বেলা মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। এই রাস্তা আটকে রাখা শুরু হয়েছে আরো দুই বছর আগে থেকে। তবে সম্প্রতি ধানমন্ডির প্রতিটি রাস্তায় নতুন করে বিশাল বিশাল ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। এসব রাস্তায় ১১টার পরে তালা মেরে দেওয়া হয়। আর ভোর পাঁচটার পরে তা খুলে দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও ধানমন্ডি আবাসিক কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান সরকার ফিরোজ বলেন, এ রোড ব্লক তো দুই বছর আগে চালু করা হয়েছে। ধানমন্ডি থানা আমাদের সঙ্গে কথা বলেই এ ব্যবস্থা চালু করেছে। আর এ ব্যবস্থাকে এলাকার মানুষ তো স্বাগত জানিয়েছে। তবে যারা ধানমন্ডিতে বাস করেন না, বাইরে থেকে আসছেন বা বেশি রাতে এ এলাকা থেকে বের হন তাদের ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।

ধানমন্ডি ২৯ নম্বরের এক বাসিন্দার গাড়িচালক মোস্তফা বললেন, দুই বছর ধরে রাস্তা আটকে রাখা হচ্ছে। রাতের বেলা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে খুব ঝামেলায় পড়তে হয়। বিশেষ করে কোনো অসুস্থ রোগীকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নাজেহাল হতে হয়।

ধানমন্ডির ১৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ জাকির হোসেন স্বপন বলেন, ‘মানুষের সুবিধার জন্যই এ ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ গেটে গার্ড না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নতুন শুরু হয়েছে তো তাই এখনো গার্ড দেওয়া হয়নি। তবে খুব দ্রুতই প্রতিটি গেটে গার্ড রাখার ব্যবস্থা করা হবে।’ ইত্তেফাক






মন্তব্য চালু নেই