মেইন ম্যেনু

রাত পোহালেই ভোট: পোলিং এজেন্ট সংকটে বিএনপি

রাত পোহালেই প্রথমবারের মত দলীয় প্রতীকে ভোটগ্রহণ হবে খুলনার ৬৭টি ইউনিয়নে। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে প্রচার-প্রচারণা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে নির্বাচনী উৎসব রূপ নিয়েছে আতঙ্কে। গত শনিবার রাতেও পাইকগাছার সোলাদানা ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থীর বাড়িতে হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। এসময় চেয়ারম্যান প্রার্থীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। এছাড়া রূপসার শ্রীফলতলা, আইচগাতি, দিঘলিয়া, সেনহাটি, গাজিরহাটসহ দাকোপ ও অন্যান্য উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির পোলিং এজেন্ট পেতে বেগ পেতে হচ্ছে।

দলটির অভিযোগ, সরকারি দলের নেতাদের হুমকিতে পোলিং এজেন্ট হতে রাজি হচ্ছে না কেউ। যারা পোলিং এজেন্ট হয়েছেন তাদেরও বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেয়া হচ্ছে।

এদিকে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হওয়ায় নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন রূপসার শ্রীফলতলা ও আইচগাতীর রিটার্নিং অফিসার। সব মিলিয়ে সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগ-আতঙ্ক ভর করছে খুলনার ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে। এমন পরিবেশের মধ্যে নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষ করেছে জেলা নির্বাচন অফিস।

জেলা নির্বাচন অফিস থেকে জানা গেছে, খুলনার ৬৭টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৩০৬ জন, সদস্য পদে দুই হাজার ৬১২ জন এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ৭৭৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৯টি উপজেলার ৬৫০টি ভোটকেন্দ্রের তিন হাজার ৬৮৭ বুথে ভোটগ্রহণ করা হবে। কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৪২৭টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ৬৭টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ লাখ ১৪ হাজার ২৮৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ লাখ ৬ হাজার ৬২৭ জন এবং নারী ভোটার ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৭৮ জন।

ইতোমধ্যে জেলার ৬৭টি ইউনিয়নের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য ৬৫০ জন প্রিজাইডিং অফিসার, তিন হাজার ৬৮৭ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৭ হাজার ৩৭৪ জন পোলিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। নির্বাচনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে কমিশন। নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ৭ উপজেলায় ১৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবন উপকূলের কয়রা ও দাকোপ উপজেলায় কোস্টগার্ড সদস্যরা টহল দিচ্ছে।

সরেজমিনে গতকাল নগরীর আড়ংঘাটা এবং যোগীপোল ইউনিয়নে ঘুরে ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই ইউনিয়ন দুইটিতে লড়াই হবে নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের মধ্যে। শুধু এই দুইটি ইউনিয়নেই নয়, যেসব ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে ওই সব এলাকায় সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

বিভিন্ন ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে সংঘাত ও সংঘর্ষের আশঙ্কা তাদের মাঝে আরো তীব্র হচ্ছে। শনিবার গভীর রাতে পাইকগাছার সোলাদানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইয়ামিন আখতার সোমাকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি ওই ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এনামুল হকের স্ত্রী। নির্বাচনে স্বামীর সহযোগী হিসেবে মাঠে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন তিনি। বিএনপির প্রার্থী এনামুল হক অভিযোগ করেছেন, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছিল। পরে এ ঘটনাকে ডাকাতি বলে প্রচার করা হচ্ছে।

এর আগের রাতে দাকোপ উপজেলা কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থীর ওপর হামলা করা হয়েছে। ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি ঘটনা ঘটেছে।

আড়ংঘাটার চেয়ারম্যান প্রার্থী মাতলুবুর রহমান মিতুল বলেন, নির্বাচন এগিয়ে আসায় এলাকায় অপরিচিত প্রার্থীদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। বিএনপির পোলিং এজেন্টদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। এসব অভিযোগ করেও কোনো ফল পাচ্ছি না।

রূপসার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পী অভিযোগ করে বলেন, শনিবার রাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি গিয়ে পোলিং এজেন্ট না হতে হুমকি দেয়া হচ্ছে। সরকারি দলের প্রার্থীদের হুমকিতে তার কর্মীরা শেষ দিনে প্রচার চালাতে পারেনি। তারা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন।

এদিকে, অব্যাহত চাপের মুখে রিটার্নিং কর্মকর্তার পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন শ্রীফলতলা ও আইচগাতি ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ বি এম জাকির হোসেন। এই ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের সব ইউপি সদস্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছিল।

এনিয়ে নির্বাচন কমিশন শোকজ করেছিল তাকে। এবার চারটি ভোট কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়া এবং দ্বিমুখি চাপে অব্যাহতির আবেদন করেন তিনি।

এ ব্যাপারে ডা. এ বি এম জাকির হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

খুলনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, শারীরিক অসুস্থার কারণে তিনি নির্বাচন থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। এ ধরনের আবেদন করারও কোনো নিয়ম নেই। নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে। ৬৭টি ইউনিয়নে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে।

খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিভূতি ভূষণ ব্যানার্জি জানান, সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন করতে প্রতিটি কেন্দ্রে দুইজন স্বশস্ত্র পুলিশ ও ১৪ জন আনসার দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া নির্বাচনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবে।






মন্তব্য চালু নেই