মেইন ম্যেনু

রাবিতে ছাত্রলীগের দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সাংবাদিকের সাথে দুর্ব্যবহার সাধারণ সম্পাদকের

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবাব আব্দুল লতিফ হলে মারামারির ঘটনার জের ধরে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সোমবার রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখ্শ হলে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বিপ্লব এবং সদস্য সাকিবুল হাসান বাকির মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় বড় ধরণের হামলার আশঙ্কায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের এক ছাত্রীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হলে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বন্ধুদের সঙ্গে অভিযুক্ত লাঞ্ছনাকারী শিক্ষার্থীদের মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অভিযুক্তকারীদের পক্ষ নেয়। অন্যদিকে ছাত্রলীগের সদস্য সাকিবুল হাসান বাকি ওই ছাত্রীর বন্ধুদের পক্ষে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে রাবি ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জু, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা এবং এবং পুলিশের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষ শান্ত হয়।

ছাত্রলীগ নেতা সাকিবুল হাসান বাকি দাবি করেন, ওই ঘটনায় একটি পক্ষ আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করে। তারা ছাত্রী লাঞ্ছনাকারী দুই শিক্ষার্থী আলম ও সাকিবকে আমার নামে মামলা করার পরামর্শ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য সোমবার সন্ধ্যায় আলম ও সাকিবকে মাদার বখ্শ হলের নীচে ডেকে আনি। তারা স্বীকার করে রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বিপ্লব ভাই তাদের মামলা করার পরামর্শ দিয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর আমার সংগঠনের সভাপতির (ভারপ্রাপ্ত) রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জু ভাইয়ের সামনেই বিপ্লব ভাই আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন ও আমাকে মারার জন্য বারবার তেড়ে আসেন। এমনকি বিপ্লব ভাইয়ের সাথে তর্ক করার কারণে আমাকে ক্যাম্পাস থেকে আমার বাড়ি বানেশ্বর (রাজশাহী) পর্যন্ত যেতে দিবে না বলে হুশিয়ারি করে দেন তিনি। ঘটনার মুহূর্তের মধ্যে হলের নিচে ছাত্রলীগের কয়েকশ নেতা কর্মী জড় হয়। এসময় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েক সাংবাদিকের সাথে দূর্ব্যবহারও করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব।

জানা যায়, ঘটনার মীমাংসা জন্য ছাত্রলীগের দুই পক্ষ ও মতিহার থানার প্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর হলের অতিথি কক্ষে বসার সময় ওই কক্ষে দুই জন সাংবাদিক প্রবেশ করলে তাদের সাথে অসৌজন্যমুলক আচরণ করে ওই সাংবাদিকদের কক্ষ থেকে বের করে দেন বিপ্লব। এমনকি ঘটনার বিষয়ে জানার জন্য সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন বিপ্লব।

পরিবারের সদস্যদের মাঝে একটু ভুল বুঝাবুঝি হতেই পারে, সব বিষয়ে সাংবাদিকদের জানাতে হবে নাকি বলে উল্লেখ করে বিপ্লব বলেন, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমাদের মধ্যে একটু ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিলো। পরে মীমাংসা করা হয়েছে।

জানতে চাইলে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, কোনো এক বিষয় নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মাঝে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিলো।এসময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।






মন্তব্য চালু নেই