মেইন ম্যেনু

রাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বরযাত্রী!

বাসগুলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করা হতো। কিন্তু হঠাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বরযাত্রী দেখে শিক্ষার্থীদের চোখ কপালে উঠে যায়। সবাই হয়তো ভাবছিলেন বুঝি বিশ্ববিদ্যালয়ের কারও বিয়ে। আসলে তা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীর নাতির বিয়েতে বাসটি ব্যবহার করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুরের একজন টেইলার্স মালিকের বিয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে বিয়েতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ব্যবহার করাকে ভালো চোখে দেখছেন না শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত রাজ মেট্রো, ঝ-১১-০০০৩ নম্বরের বাসটি শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে বিনোদপুরের মির্জাপুর এলাকায় দেখা যায়। বাসে চেপে বরযাত্রী কনে আনতে যাচ্ছেন। ছেলের বিয়ের কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাসটি নিয়েছেন আইবিএসের মালি আক্তার আলী। তবে বাসটি ছেলের বিয়ের জন্য অনুমতি নিলেও তা ব্যবহার হয়েছে আক্তার আলীর নাতি বিনোদপুরের শান্ত ট্রেইলার্সের মালিকের বিয়েতে।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত বাস বিয়ের কাজে ব্যবহার হবে এটা ভালো বিষয় নয়। বিয়ের কাজে কখনই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ব্যবহার করতে দেয়া ঠিক নয়। সেটা যার বিয়েই হোক না কেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের সেকশন অফিসার মো. আহসান হাবিব বলেন, ‘আইবিএসের মালি আক্তার আলী মির্জাপুর থেকে মোহনপুরে তার ছেলের বিয়ের জন্য বাসটি নিয়েছেন। তিনি আইবিএসের পরিচালকের থেকে এ বিষয়ে অনুমতি নেয়ার পরই পরিবহন দপ্তর থেকে তাকে বাস দিয়েছে। তিনি কি কাজে বাসটি ব্যবহার করছেন তা আমার জানা নেই।’

পরিবহন দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক মোহা. মাইনুল হক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিয়ে কিংবা তাদের সন্তানদের বিয়ের কাজে বাস ব্যবহারের একটি নীতিমালা আছে। সিটি করপোরেশনের ভেতরে বিয়ে হলে বাসের তেল ও চালকের খরচ দিয়েই কেবল সেই বাস ভাড়া নেয়া যাবে। তবে অবশ্যই তা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের দিনে হতে হবে।’

তবে পরিবহন দপ্তরের সাবেক প্রশাসক অধ্যাপক মো. সাইয়েদুজ্জামান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর ছেলে-মেয়ে ছাড়া নাতি-নাতনি বা অন্য কারও বিয়েতে বাস দেয়ার কোনো নিয়ম নেই। যদি নাতির বিয়েতে বাস দিয়ে থাকে তাহলে তা ঠিক হয়নি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও পরিবহন দপ্তরের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য অধ্যাপক সাদেকুল আরেফিন মাতিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস বিয়ের কাজে ব্যবহার করাটা আসলেই ভালো দেখায় না। যেহেতু একটি নিয়ম আগে থেকেই চলে আসছে তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস কাউকে দেয়ার আগে অবশ্যই সব বিষয়ে খোঁজ নেয়া প্রয়োজন। কারা কি কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ব্যবহার করছে তা সঠিকভাবে না জেনে দেয়া ঠিক নয়।’






মন্তব্য চালু নেই