মেইন ম্যেনু

রামপালের পক্ষে যে ‘বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা’ দিলেন হাছান মাহমুদ

বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের দাবি জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের জবাব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ সকালে ধানমন্ডিতে দলের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই জবাব দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই হাছান মাহমুদ বলেন, ‘খালেদা জিয়া রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে বিভ্রান্তমূলক কথা বলেছেন। এরপরই আমাদের দলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছিল। আজকের দলের পক্ষ থেকে তাঁর বক্তব্যের বিপক্ষে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং তথ্য উপাত্তসহ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরবো।’

রামপাল নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের অবস্থানের সমালোচনা করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বেগম জিয়া আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে, এখন অন্যের ইস্যু হাইজ্যাক (ছিনতাই) করার চেষ্টা করছেন। যারা এতদিন ধরে এই নিয়ে আন্দোলন করেছে তাদের সেই ইস্যুকে হাইজ্যাক করে এর উপর আশ্রয় নিয়ে রাজনীতিতে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি এখন একটি পরগাছা দলে পরিণত হয়েছে। পরগাছা যেমন নিজের জীবনের জন্য অন্য গাছের উপর নির্ভর করে, তেমনি বিএনপিও এখন অন্যের ইস্যুকে হাইজ্যাক করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে।’

সংবাদ সম্মেলনে রামপালবিরোধী বামপন্থি ও পরিবেশবাদী আন্দোলনকারীদের বক্তব্যকে অতি উদ্বেগ আখ্যা দেন হাছান মাহমুদ।

খালেদার বক্তব্যের ‘বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা’

আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) যেভাবে বিশেষজ্ঞের মত কথা বলেছেন তাতে আমরা আতঙ্কিত হয়েছি। কারণ অল্প বিদ্যা ভয়ানক হয়। তিনি এ প্রকল্প নিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার জন্য কিছু ভুল তথ্য পরিবেশন করেছেন।’

খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে বলেছেন, রামপাল প্রকল্পের কারণে সুন্দরবন ফ্লাইএ্যাশ ভরে যাবে, সালফার ডাই-অক্সাইডে সুন্দরবণ বিষাক্ত হবে, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডে সুন্দরবনের বাতাস ভারী হয়ে যাবে, পশুর নদীর পানি গরম হয়ে যাবে। এর জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই প্রকল্পের ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ ফ্লাইএ্যাশ নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এগুলো বাংলাদেশের সিমেন্ট কারখানায় ব্যবহার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’

সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, ‘৯৬ শতাংশ সালফার ডাই অক্সাইড নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নাইট্রোজেন অক্সাইড, লো নাইট্রোজেন অক্সাইড ব্যবহারের মাধ্যমে এখানে নাইট্রোজেন অক্সাইড নিয়ন্ত্রণ করা হবে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বেগম জিয়া বলেছেন, রামপালের বাতাস গিয়ে সুন্দরবনের পরিবেশ বিনষ্ট করবে। কিন্তু প্রায় ৯০০ ফুট উঁচু চিমনি ব্যবহার করা হবে। আর এই প্রকল্প এলাকায় বছরে নয় মাস বাতাস সুন্দরবনের বিপরীতে প্রবাহিত হয়। তাই এতে করে কোন ক্ষতি হবে না।’

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘রামপাল প্রকল্প সুন্দরবনের তীর থেকে ১৪ কিলোমিটার এবং ইউনেস্কো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট থেকে এই এলাকা প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কোন কৃষি জমি এবং বসত-বাড়ি উচ্ছেদ করা হয়নি। শুধু ১৫০টি স্থাপনা পূর্নবাসন করা হচ্ছে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তিনি তার (খালেদা জিয়া) আমলে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়াতে পারেননি। তার আমলে বিদ্যুৎ খাতেই ২১ হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। জনগণ সে সময় বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলন করেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে গুলিতে ১৮জন নিহতও হয়েছে। এখন কোন মুখে তিনি বিদ্যুৎ নিয়ে কথা বলেন?’

বামপন্থিদের অতি উৎকণ্ঠিত না হওয়ার পরামর্শ

রামপাল বিদ্যুৎপ্রকল্প বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যারা এইগুলো নিয়ে আন্দোলন করেন তাদের অনেকেই সঠিক তথ্য না জেনে কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে অনেক ভুল তথ্য উপস্থাপন করছেন।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে পশুর নদীর শূন্য দশমিক ০৫ শতাংশ পানি ব্যবহার করা হবে। বর্ষা মৌসুমে সেটা আরও কম হবে। এই পানি কুলিং সিস্টেমে ঠান্ডা করেই নদীতে ফেলা হবে। সুতরাং এইখানে ব্যপকভাবে নদীর পানি ব্যবহারের কোন সম্ভাবনাই নেই।’

পরিবেশবাদী ও বামপন্থি সংগঠনের নেতাকর্মীদের নানা বক্তব্যকে ‘অতি উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা’ বলেছেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। কিন্ত অতি উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা কখনোই ভালো নয়। ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করে আবেগপ্রবণ হয়ে বক্তব্য রাখা জাতির জন্য ঠিক নয়।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আপনাদের কোন বক্তব্য থাকলে তা সরকারের কাছে উপস্থাপন করুন। কিন্তু এমন কোন পরিবেশ সৃষ্টি করবেন আপনাদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে যারা দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসাবে পরিচয় করিয়ে দিতে চায় তাদের হাতে হাতিয়ার তুলে দেবেন না।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, কার্যনির্বাহী সদস্য আমিনুল ইসলাম আমিন, সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।






মন্তব্য চালু নেই