মেইন ম্যেনু

রাহুর গ্রাসে এক তরুণী! অতঃপর যা হলো…

যেন রাহুর গ্রাসে পড়েছেন এক তরুণী। জীবন শুরু হতে না হতেই তার জীবনে যা ঘটেছে, তা চমকে যাওয়ার মতই। শনিবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হন পশ্চিমবঙ্গের বাকুড়ার সোনামুখির এই তরুণী। মহকুমা প্রশাসকের কাছে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া যেসব অভিযোগের পাতা মেলে ধরেন, তাতে অবাক হওয়া ছাড়া উপায় কি?

ওই তরুণী জানান, বছর দুয়েক আগে তার বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস পরেই সেই বিয়ে ভেঙে যায়। তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। পরিবারের দারিদ্র অবস্থা ঘোচাতে তিনি পার্শ্বস্থ বড়জোড়ার বাসিন্দা ফুপার কাছে কাজ চান।

ফুপা তাকে সেখানের একটি ঘরে নিয়ে তোলেন। তরুণীর অভিযোগ, সেখানে ফুপা একাধিবার ধর্ষণ করে। অন্য লোকেদেরও শয্যাসঙ্গী হতে বাধ্য করে। প্রতিবাদ করতে গেলে হাতে, পায়ে, জ্বলন্ত বিড়ি, সিগারেটের ছ্যাঁকা দিত। কথা না শুনলে লাথি, থাপ্পড়ও জুটত। ফুপার লোকেরা তাকে নজরবন্দি করে রেখেছিল।

মাসখানেক অত্যাচার চলার পরে একদিন তার পালানোর সুযোগ আসে। বড়জোড়ারই একটি গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে তিনি ওঠেন। সেখানেও তার জন্য অপেক্ষা করছিল আর এক বিভীষিকা। এলাকার এক যুবকের প্রেমে পড়েন ওই তরুণী। যুবকটি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার সহবাস করে। গত জানুয়ারিতে ওই যুবক তাকে বিয়ে করবে বলে দুর্গাপুরের একটি হোটেলে ডেকে পাঠায়। একটি ভাড়া গাড়ি নিয়ে ওই যুবকেরই এক বন্ধু নিজেকে পুলিশ কর্মী পরিচয় দিয়ে ওই তরুণীটিকে নিয়ে যায় হোটেলে। সেখানে তার প্রেমিক ছিল না। তার বন্ধু হোটেলের ঘরে তরণীকে ধর্ষণ করে।

বিশ্বাসভঙ্গের যন্ত্রণা নিয়ে হোটেল থেকে বেরিয়ে তরুণীটি ভাড়া গাড়ির চালককে নিজের দুর্ভাগ্যের কথা জানান। আত্মীয়ের বাড়িতে ফিরলে প্রেমিক, বাপের বাড়িতে ফিরলে ফুপা স্বস্তিতে থাকতে দেবে না। সেই সময় পাশে এসে দাঁড়ান ওই গাড়িচালক। তিনিই ওই তরুণীটিকে নিজের এক আত্মীয়ের বাড়িতে তোলেন। কিন্তু দুষ্কৃতীদের নাগাল এড়াতে পারেননি। চালকের ফোনে হুমকি আসতে থাকে। অন্য জেলায় আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে গিয়েও হুমকি-ফোন পেতে থাকে গাড়িচালক। মোটা টাকার লোভও দেওয়া হয়।

শেষ পর্যন্ত আদালতে এসে এক আইনজীবীর পরামর্শ নেন। শনিবার বাঁকুড়ার আইনজীবী ওই তরুণী ও গাড়িচালককে নিয়ে মহকুমা প্রশাসকের কাছে যান। তরুণীটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তার ঠাঁই হয় একটি হোমে। মহকুমা প্রশাসক বলেন, ‘তরুণীটি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত। তাকে হোমে পাঠিয়েছি। অভিযোগপত্রটি পুলিশের কাছে পাঠিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’

জেলা পুলিশ জানায়, মহকুমা প্রশাসকের কাছ থেকে আসা অভিযোগকে এফআইআর হিসেবে ধরে মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তও শুরু হয়েছে। কিন্তু এরপরে কী ঘটবে জানেনা তরুণী। সে কী সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পারবে?

-আনন্দবাজার






মন্তব্য চালু নেই