মেইন ম্যেনু

রিংটোন, ওয়েলকাম টিউনে জাতীয় সংগীত নয়

মোবাইল ফোনের রিংটোন ও ওয়েলকাম টিউন হিসেবে জাতীয় সংগীতের বাণিজ্যিক ব্যবহার অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।

দেশের মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেডের করা ‘লিভ টু আপিল’ পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই রায় দেয়।

এই রায়ের ফলে মোবাইল ফোনের রিংটোন হিসেবে জাতীয় সংগীত ব্যবহার নিষিদ্ধই থাকল।

এর আগে গত মে মাসে অপর দুই মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণ ফোন ও বাংলালিংকের করা আপিলের আবেদনের নিষ্পত্তি করেও একই রায় দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত।

হাই কোর্টের রায়ে গ্রামীণফোনকে লিভার ফাউন্ডেশনে এবং বাংলালিংককে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি রিসার্চে এবং রবি আজিয়াটা লিমিটেডকে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে ‘দাতব্য অনুদান’ হিসাবে  ৫০ লাখ টাকা দিতে বলা হয়েছিল।

আপিল বিভাগের রায়ে ওই অর্থের পরিমাণ কমিয়ে ৩০ লাখ টাকা করা হয়েছে। রবিকে ওই অর্থ দাতব্য অনুদান হিসেবে মহাখালীর ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালে জমা দিতে বলা হয়েছে বলে রিট আবেদনকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার মাসুদ আহমেদ সাঈদ জানান।

আদালতে রবির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সারা হেসেন।

জাতীয় সংগীতকে রিংটোন বা ওয়েলকাম টিউন হিসেবে ব্যবহারের বিরোধিতায় কালিপদ মৃধা নামের একজন ২০০৬ সালে হাই কোর্টে এই রিট আবেদন করেন।

তার যুক্তি ছিল, সংবিধানের ৪ অনুচ্ছেদে জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় প্রতীক সংরক্ষণের কথা বলা আছে। এ ছাড়া ১৯৭৮ সালের জাতীয় সংগীত বিধানে ২০টি ক্ষেত্রে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু মোবাইল ফোনের রিংটোন হিসেবে জাতীয় সংগীত ব্যবহার সংবিধান ও আইনের পরিপন্থি।

তার আবেদনের উপর শুনানি করে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের হাই কোর্ট বেঞ্চ ২০১০ সালের ৫ অগাস্ট মোবাইল ফোনে রিংটোন ও ওয়েলকাম টিউন হিসেবে জাতীয় সংগীতের ব্যবহার অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করে।

ওই রিটের বিবাদী গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবিকে ৫০ লাখ টাকা করে দাতব্য অনুদান দিতে বলা হয় হাই কোর্টের রায়ে।

রিট আবেদনকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার মাসুদ আহমেদ সাঈদ জানান, হাই কোর্টের শুনানিতে মোবাইল কোম্পানিগুলোর পক্ষে কোনো আইনজীবী না আসায় বিচারক ওই দাতব্য অনুদান দেওয়ার নির্দেশনা দেয়।

গ্রামীণ ফোন ও বাংলালিংক হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের আবেদন করলে চলতি বছরের ১১ মে সর্বোচ্চ আদালত তা নিষ্পত্তি করে রায় দেয়।






মন্তব্য চালু নেই