মেইন ম্যেনু

রিকশা চালকের ছেলে থেকে প্রশাসনিক ক্যাডার

আনসার আহমদ শেখ। একজন অটো রিকশা চালকের ছেলে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসেছেন তিনি। প্রতিনিয়ত টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে এসেছেন তিনি। মাত্র ২১ বছর বয়সের এই মুসলিম তরুণ গড়েছেন অনন্য এক রেকর্ড।

ভারতের প্রশাসনিক ক্যাডার ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের পরীক্ষায় (আইএএস) ৩৭১তম স্থান দখল করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে কমবয়সী হিসেবে প্রশাসনিক ক্যাডারে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন আহমদ শেখ।

ভারতে মুসলিমরা সংখ্যালঘু এ তথ্য অনেক পুরাতন। কিন্তু আহমদের রয়েছে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। মহারাষ্ট্রের জালনা জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা তিনি। গত বছর আইএএস পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। সম্প্রতি ফল প্রকাশিত হয়েছে। এর অাগে, ২০১৩ সালে রোমান সাইনি (২২ বছর) নামের এক তরুণ দেশটির সবচেয়ে কমবয়সী হিসেবে আইএএস ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এবার সে রেকর্ডে ভাঙলেন আনসার আহমদ শেখ।

মুসলিম মিরর ডটকমকে আনসার বলেন, তিনি পশ্চিমবঙ্গে আইএএস ক্যাডার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রশিক্ষণ শেষে আগামী ২৭ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে যোগ দেবেন তিনি।

আনসার আহমদ শেখ বলেন, স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। আমার কঠোর পরিশ্রমের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার দেয়ায় সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি বলেন, তার এই সফলতার পেছনে আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করেছে পিতা ও ছোট ভাই আনিসের আত্মত্যাগ।

‘আমার ভাই, গ্যারেজে কাজ করেন, সব সময় আমাকে সহায়তা করেছেন, এই সহায়তা ছাড়া কখনো এটি অর্জন করা সম্ভব হতো না। আমি তার কাছে ঋণী’- তিন মাস আগে আইএএস ফল প্রকাশের পর আবেগভরা কণ্ঠে বলেন আহমদ।

আনসার আহমদের বাবা অটো রিকশা চালক। পুরো পরিবারের বেঁচে থাকার লড়াই চলে একমাত্র বাবার আয়ে। আনসার বলেন, আমি তিনটি দিক থেকে বৈষম্যের শিকার হয়েছিলাম। আমি একটি অনগ্রসর অনুন্নত অঞ্চল থেকে এসেছি, আমি একটি দরিদ্র পরিবার থেকে এসেছি; সর্বশেষ আমি সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের। আমি একদম কাছে থেকে এসব বিষয় প্রশাসকের মতো মোকাবিলা করেছি।

ভিন্ন ধরনের এক অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে আনসার আহমদ বলেন, তিন বছর আগে পুনের ফার্গুশন কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। সে সময় নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘শুভম’ রেখেছিলেন তিনি। এর কারণ একটিই, যাতে কোনো ধরনের বাধা-বিপত্তি ছাড়া বিনামূল্যে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা হয়।

এরকম প্রতিকূল পরিবেশেও জীবনের লক্ষ্যে অবিচল থেকেছেন আনসার। দৃঢ় সংকল্প থাকলে যেকোনো কিছুই যে অর্জন করা সম্ভব তার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন তিনি। আইএএসের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের অন্তত ২২ জেলা ও শতাধিক এনজিও তাকে সংবর্ধনা দিয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই