মেইন ম্যেনু

রিজার্ভের টাকা চুরির সঙ্গে ক্ষমতাসীনরা জড়িত: আ স ম আবদুর রব

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, যারা ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরির কলকাঠি নেড়েছেন, তারাই এ দেশের ক্ষমতায় রয়েছেন। এদের ধরলেই চুরির টাকা ফেরত পাওয়া যাবে।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফরেন্স লাউঞ্জে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক স্মরণে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আবদুর রব বলেন, গভর্নরকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। নিয়ম অনুযায়ী তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করবেনও তিনি। কিন্তু আতিউর রহমান কেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এক মাস কেন তিনি এ বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। চুরির সঙ্গে এমন কিছু কর্মকর্তা জড়িত যাদের নাম প্রকাশ করতে আতিউর রহমানও ভয় পাচ্ছেন। এদের ধরতে পারলেই চুরির টাকা ফেরত আনা যাবে।

তিনি বলেন, চুরির দুই সপ্তাহ আগে থেকে কারা সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে রেখেছিল। ব্যাংক বন্ধের দিন কারা কাজ করতে এসেছিল, তাদের আগে ধরতে হবে। ফেডারেল ব্যাংকের নিরাপত্তা এত কঠিন যে নির্দিষ্ট বাহকের আঙুলের ছাপ ছাড়া কোনো ধরনের লেনদেন হয় না। তাহলে সেখানে কার আঙুলের ছাপ রয়েছে।

চুরির তদন্তে চোরকে তদন্তকারী হিসেবে রাখা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ব্যক্তিগত বাহিনী শেখ মুজিবকেও বাঁচাতে পারেনি বরং দেশকে অশান্তির দিকে ঠেলে দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের রাষ্ট্রীয় বাহিনী দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করালে সে দেশে শান্তি আনা যায় না। আজকে এটিএম কার্ড জালিয়াতির জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জড়িত, বাসে ধর্ষণেও এই বাহিনী জড়িত, এমনকি বিদেশে শান্তি রক্ষায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও রয়েছে অভিযোগ।

তিনি বলেন, শেখ মুজিবকে হত্যার আগে কোথায় ছিল তার রক্ষীবাহিনী, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তারা কেউই তাকে রক্ষা করতে পারেনি।

যাদের জন্য দেশ স্বাধীন তাদেরই বাঙালিরা সম্মান করে না অভিযোগ করে তিনি বলেন ‘বিগত ৪৫ বছরে যারা এ দেশে ক্ষমতায় এসেছেন তারা কেউই স্বাধীনতার জন্য যাদের অবদান ছিল, তাদের স্মরণ করেনি। কষ্টের বিষয় ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেই আগরতলা মামলায় জড়িতদের বা শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হককে সম্মান জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, আগরতলা মামলা না হলে বা সার্জেন্ট জহুরুল হক শহীদ না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না।

একই আলোচনা সভায় সার্জেন্ট জহুরুল হকের পরিবারের সদস্য ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনার নাজনীন হক মিমি বলেন, ‘আমরাই আমাদের ইতিহাসকে বিকৃত করছি। আগরতলা মামলাকে আমরা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বলি। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে একে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বলা উচিত না। এ মামলাকে ষড়যন্ত্র মামলা বলবে শুধু পাকিস্তানিরা।’

মাসিক উর্মির সম্পাদক শাহাদত হোসেন সেলিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন শাজাহান সিরাজ, নূরে আলম সিদ্দিকী প্রমুখ।






মন্তব্য চালু নেই