মেইন ম্যেনু

রিজার্ভ চুরিতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের অদক্ষতাও দায়ী : ড. ফরাসউদ্দিন

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের অদক্ষতা এবং গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি। কমিটি বলছে, এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের কিছু কাজ ছিল অবিবেচনাপ্রসূত এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন।

অবশ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা চুরিতে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন কি না তা উল্লেখ করেনি গঠিত কমিটি।

তবে রিজার্ভ অ্যাকাউন্টের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা এ চুরিতে কতটা ছিল তা খতিয়ে দেখার কাজ চলছে বলে জানান কমিটি প্রধান।

একই সঙ্গে এ চুরিতে বেলজিয়াম ভিত্তিক ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশনের (সুইফট) দায় বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কও এ চুরির দায় এড়াতে পারে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে।

রোববার দুপুরে রিজার্ভ চুরির ঘটনা তদন্তে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বেরিয়ে আসার সময় তদন্ত কমিটির প্রধান ড. ফরাসউদ্দিন উপস্থিত সংবাদিকদের এসব কথা জানান।

তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে জমা দেয়ার সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিলে। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দিল কমিটি। তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলের অন্য দুই সদস্য হচ্ছেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব গোকুল চন্দ্র দাস।

উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে সুইফট সিস্টেমে প্রতারণামূলক নির্দেশনা পাঠিয়ে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তুলে নেয় দুর্বৃত্তরা। এর ৮১ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয় ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের মাকাতি সিটির জুপিটার শাখার ক্যাসিনো জাংকেট কিম অংয়ের অ্যাকাউন্টে। পরে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে চলে আরো চার ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্টে।

বাকি ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠানো হয় শ্রীলংকার সেচ্ছাসেবী সংগঠন শালিকা ফাউন্ডেশনের অ্যাকাউন্টে। প্রাপকের নামের বানানে ভুল থাকায় ওই টাকার পেমেন্ট আটকে দেয় ব্যাংক কর্মর্তারা। পরে সেটি ফিরিয়ে আনা হয়।

এ ঘটনার দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান। চাকরি গেছে তিন জন ডেপুটি গভর্নরের।






মন্তব্য চালু নেই