মেইন ম্যেনু

রিজার্ভ চুরির তদন্ত করছেনা এফবিআই

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই)। এ ঘটনার শুরুতে তদন্ত কাজে তাদের সহায়তা চাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক ও অপরাধ বিভাগ (সিআইডি) থেকে।

এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সিআইডির পক্ষ থেকে তাদের সাথে বৈঠকও করা হয়েছিল। কিন্তু এখন আর এ বিষয়ে এ দু’টি প্রতিষ্ঠান এফবিআইয়ের সহায়তা নিচ্ছে না। তবে এফবিআই যুক্তরাষ্ট্রে ও ফিলিপাইনে তদন্ত কাজ অব্যাহত রেখেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। খবর নয়া দিগন্ত।

সূত্র জানায়, কোনো বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশে কোনো ঘটনার তদন্ত করতে হলে সরকারের সম্মতি লাগবে। কিন্তু এ ঘটনার তদন্তের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের কোনো সম্মতি পাওয়া যায়নি, যে কারণে এফবিআই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনার তদন্ত করতে পারছে না।

এ বিষয়ে তারা কোনো সংস্থার সাথে বৈঠকও করতে পারছে না। তবে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে এফবিআইয়ের একটি শাখা রয়েছে। তারা তাদের নিজস্ব কূটনৈতিক সূত্রের মাধ্যমে খোঁজখবর রাখছে বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ডলার চুরির ঘটনা প্রথমে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ফিলিপাইনের প্রভাবশালী দৈনিক ইনকোয়ারারে প্রকাশিত হয়। ইনকোয়ারারের সূত্র ধরে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ পায় গত ২ মার্চ। ৭ মার্চ থেকে আরো জানাজানি হয়।

এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থমন্ত্রী স্বয়ং ঘটনাটি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে গণমাধ্যমে তার প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন। এরপর ব্যাপক চাপে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পর থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত করতে বিভিন্ন সংস্থার সাথে যোগাযোগ করতে শুরু করে।

ড. আতিউর রহমান থাকাবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তারা ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে অবস্থিত এফবিআইয়ের কর্মকর্তাদের সাথে দুই দফা বৈঠক করেছেন। সিআইডিও এক দফা বৈঠক করেছে। কিন্তু এর পর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

কিন্তু এখন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তদন্ত কাজে এফবিআইয়ের সহযোগিতা চাওয়া তো দূরের কথা তাদের সাথে বৈঠক করার কথাও অস্বীকার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থাকে ডাকা হয়নি; সুতরাং তাদের কোনো সহযোগিতাও নেয়া হচ্ছে না। তবে কী কারণে এফবিআইয়ের সহযোগিতা নেয়া হচ্ছে না, সে বিষয়ে কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ইস্যুতে ঢাকায় এফবিআইয়ের দৃশ্যমান তৎপরতা দেখা না গেলেও; মার্কিন এই তদন্ত সংস্থার ঢাকা অফিস থেকে পুরো বিষয়ের ওপর গভীর নজর রাখা হচ্ছে। ফিলিপাইনে তদন্তে কী পাওয়া গেল এ বিষয়ে এফবিআইয়ের ঢাকা অফিসের কর্মকর্তারা চোখ রাখছেন বলে জানা গেছে।

এ দিকে এফবিআই রিজার্ভ চুরির ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে ও ফিলিপাইনে তদন্ত করছে। তারা এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঠানো বার্তাগুলো সংগ্রহ করেছে। একই সাথে তারা সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, লেনদেনের সাথে জড়িত, ওয়েলস ফার্গো, সিটি ব্যাংক এন এ, ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক সিলোনের সাথে কথা বলেছে।

এর সূত্র ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফবিআইয়ের একটি প্রতিনিধিদল ফিলিপাইনে গেছে। তারা সেখানে তদন্ত করছে। তাদের তদন্তে সেখানকার ক্যাসিনো থেকে অর্থের একটি অংশ হংকংয়ে গেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে তারা ওই ঘটনার তদন্তও হংকংয়েও যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, প্রচলিত নিয়মানুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বা বিশ্বের অন্য কোনো স্থানে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে স্বাভাবিক নিয়মেই এফবিআই সেই ঘটনার তদন্ত করে থাকে। রিজার্ভ চুরির ঘটনার সাথে যেহেতু মার্কিন চার ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট রয়েছে, সেই কারণে এফবিআই ঘটনা জানার পর থেকেই এর তদন্ত শুরু করেছে।






মন্তব্য চালু নেই