মেইন ম্যেনু

রিজার্ভ চুরি : ‘কিম’কে বাঁচাতে মরিয়া ফিলিপিনো বিচার সচিব

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিতে জড়িত এক ব্যবসায়ীকে বাঁচাতে ফিলিপাইনের বিচার বিভাগের সচিব মরিয়া হয়ে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরিতে জড়িত ওই ব্যবসায়ীকে বাঁচাতে ফিলিপিনো বিচারবিভাগের সচিব ভিটালিয়ানো অ্যাগুইরো ‘রক্ষাকারী’র ভূমিকায় কাজ করছেন বলে অভিযোগ এনেছেন দেশটির একটি ক্যাসিনোর অপারেটর চার্লি অ্যাটং অং।

দেশটির রেডিও ডিজেডএমএম’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যাসিনোর অপারেটর চার্লি অভিযোগ করে বলেন, অ্যাগুইরো একজন গডফাদার অথবা ক্যাসিনো জাঙ্কেট অপারেটর কিম অংয়ের পরিবারের রক্ষক।

তিনি বলেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চুরি যাওয়া রিজার্ভের ৩৫ মিলিয়ন ডলার অর্থ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন কিম অং। কিন্তু এই কিমকে বাঁচাতে অভিভাবকের ভূমিকায় কাজ করছেন অ্যাগুইরো।

ক্যাসিনো অপারেটর চার্লি বলেন, কিম অংয়ের ধর্মপিতা হচ্ছেন অ্যাগুইরো। চার্লি এই দাবি করার পর মন্ত্রিসভার কর্মকর্তা, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হারমোজেনেস এসপেরন ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা জেনারেলরা তাকে (চার্লি) হত্যা করতে চেয়েছিলেন বলেও অভিযোগ এনেছেন এই ক্যাসিনো অপারেটর।

তবে ফিলিপিনো বিচারবিভাগের সচিব অ্যাগুইরো বলেছেন, কিম আমার সন্তান নয়। এমনকি তার কোনো সন্তানেরও ধর্মপিতা নই। তবে কিম অংয়ের সঙ্গে তার কোনো পরিচয় ছিল কিনা সেবিষয়ে কোনো জবাব দেননি অ্যাগুইরো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির সঙ্গে ক্যাসিনো অপারেটর কিম অংয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা পায়নি বলে দেশটির বিচার বিভাগের তদন্তে উঠে এসেছে। এতে বিচারবিভাগের প্রধান অ্যাগুইরোর ক্ষমতার অপব্যবহার করে কিমকে বাঁচিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে অ্যাগুইরো বলেছেন, বিচারবিভাগের তদন্তে তার কোনো হাত ছিল না। এছাড়া অর্থ পাচারের সঙ্গে তার বিরুদ্ধে কোনো সংশ্লিষ্টতাও পাওয়া যায়নি। আইনজীবীদের তদন্তে অর্থ-পাচারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।

তদন্তে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে অ্যাগুইরো বলেছেন, তিনি যেকোনো ধরনের তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত রয়েছেন। বিচারবিভাগের তদন্তে ইস্টার্ন হাওয়াই লেইজার কোম্পানি লিমিটেডের মালিক কিম অংয়ের বিরুদ্ধে রিজার্ভ চুরিতে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ার কথা বলা হলেও গত বছরের মার্চে দেশটির সিনেটের শুনানিতে অং নিজেই বাংলাদেশের চুরি যাওয়া রিজার্ভের এক বিলিয়ন ফিলিপিনো পেসো তার কোম্পানি পেয়েছিল বলে স্বীকার করেছিলেন। তবে এই অর্থ যে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া রিজার্ভের সেই তথ্য তিনি জানতেন না বলে জানিয়েছিলেন।

এই এক বিলিয়ন ফিলিপিনো পেসো দেশটির রিজার্ল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের জুপিটার শাখা হয়ে কিমের ক্যাসিনো ইস্টার্ন হাওয়াই লেইজারে যায়। ফিলিপিনো সরকার ইতিমধ্যে বাংলাদেশকে ১৫ মিলিয়ন ডলার ফেরত দিয়েছে। এই ১৫ মিলিয়ন ডলার কিমের কোম্পানি থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।






মন্তব্য চালু নেই