মেইন ম্যেনু

রিজার্ভ চুরি : ব্যবস্থা নেবে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ পাচারের ঘটনায় ফিলিপাইনের কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নেস্টর এসপেনিল্লা রোববার এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘যদি সত্যিকারার্থে আইনের কোনো বিধির গুরুতর লঙ্ঘন হয়ে থাকে, তাহলে ওই ব্যাংককে শাস্তি দেওয়া হবে।’

এদিকে, শ্রীলঙ্কার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থ চুরির বিষয়ে যেসব তথ্য ছিল, তার সবই তারা বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এখন বিষয়টি তদন্ত করবে কি না, তা বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ব্যাপার। সোমবার শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যম ডেইলি নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গোপন সুইফট কোড ব্যবহার করে ১০১ মিলিয়ন মার্কির ডলার তুলে নেয় হ্যাকাররা। এর মধ্যে ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের পাঁচটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তুলে নেওয়া হয়। বাকি ২০ মিলিয়ন ডলার শ্রীলঙ্কার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে পাঠানো হলেও বানান ভুলের কারণে ওই দেশের ব্যাংক থেকে তা ফেরত পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ নিজেদের উদ্যোগে তদন্তের ঘোষণা দেয়।

অর্থ পাচারে জড়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শাস্তির বিষয়ে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক-ব্যাংকো সেন্ট্রাল এনজি ফিলিপিনসের ডেপুটি গভর্নর এসপিনিল্লা বলেন, ‘তাদের জরিমানা অথবা কার্যক্রম বন্ধ অথবা কিছু ব্যবসা সীমিতকরণের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। ব্যাংকের বোর্ডের পরিচালক থেকে শুরু করে শাখা ব্যবস্থাপকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এসপিনিল্লা অবশ্য কোনো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেননি। তবে অর্থ পাচারের ঘটনাটি তদন্ত করছে দেশটির সিনেটের ব্লু রিবন কমিটি। কমিটির শুনানিতে রিজাল ব্যাংকের মাকাতি সিটি শাখা ব্যবস্থাপক ও বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়কারী প্রতিষ্ঠান ফিলরেমের জড়িত থাকার বিষয়টি অভিযুক্তরা জানিয়েছেন।

ডেপুটি গভর্নর আরো জানান, অর্থ পাচারের বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে তদন্ত করছে, তার ফলাফল অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের কাছে পাঠানো হবে তাদের তদন্তের সুবিধার জন্য। তবে ব্যাংকিং খাতে যাতে কোনো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য তদন্ত প্রতিবেদনের কতটুকু জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে, তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকই নির্ধারণ করবে।

তিনি বলেন, ‘লোকজন অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে এবং এর ফলে অনেক বড় সমস্য দেখা দিতে পারে।’

বল বাংলাদেশের কোর্টে : শ্রীলঙ্কার একটি প্রতিষ্ঠানের নামে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ মিলিয়ন অর্থ যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি তদন্ত করে বাংলাদেশের তদন্ত কর্মকর্তাদের তথ্য প্রদান করেছেন। এখন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা আরো তদন্ত করবেন কি না, এটা তাদের বিষয়।

সিআইডির পরিচালক এসএসপি বি আর এস আর নাঘামুল্লা বলেন, ‘আমাদের কাছে যেসব তথ্য ছিল সেগুলো বাংলাদেশিদের কাছে হস্তান্তর করেছি। এখন তদন্ত করা তাদের বিষয়।’

এদিকে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর অর্জুনা মহেন্দ্রান গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘বাংলাদেশই এই টাকার মালিক। তাদের এই তদন্ত চালিয়ে যেতে হবে।’

ওই সময় বাংলাদেশের তদন্তকারী দলের এক সদস্য জানিয়েছেন, ঘটনা আরো জটিল হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সমাধানের দিকে যাওয়ার আগে সমস্যাটিকে চিহ্নিত করতে চাই। এ জন্যই আমরা এখানে এসেছি।’






মন্তব্য চালু নেই