মেইন ম্যেনু

রিজার্ভ চুরি: সুযোগ পেয়েও জড়িতদের ধরতে পারেনি কর্তৃপক্ষ

নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরির ঘটনায় জড়িতদের আটকের সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ।

দেশটির ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণ সংস্থাসহ অন্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অর্থ পাচারবিরোধী কাউন্সিলের (এএমএলসি) সমন্বয় ব্যর্থতার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন অর্থ পাচারের ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে থাকা ব্লু রিবন কমিটির সদস্য সিনেটর রালফ রেক্টো।

মঙ্গলবার সিনেটরের বরাত দিয়ে ফিলিপাইনের সংবাদমাধ্যম ইনকোয়েরার এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে অর্থ পাচারের ঘটনায় অন্যতম প্রধান সন্দেহভাজন ক্যাসিনো জাঙ্কেট কিম অংয়ের আইনজীবী জানিয়েছেন, তার মক্কেল চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উদ্ধারে এএমএলসিকে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অংয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল কর্তৃপক্ষ।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকে পাঠানো হয়। ব্যাংকের চারটি অ্যাকাউন্ট থেকে এ অর্থ পরবর্তী সময়ে তুলে নেওয়া হয়। ফিলিপাইনের ইতিহাসে অর্থ পাচারের সবচেয়ে বড় এ ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিনেটের ব্লু রিবন কমিটিকে। কমিটির শুনানিতে চীনা বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী কিম অং জানিয়েছেন, দুই চীনা ব্যক্তি এ ঘটনায় জড়িত। এই অর্থ বেশ কয়েকটি ক্যাসিনো হয়ে ফিলিপাইনের বাইরে পাচার করা হয়েছে।

এএমএলসির কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সিনেটর রালফ রেক্টো বলেছেন, ‘এএমএলসি কেবল আরো অর্থই জব্দ করতে পারত না বরং জড়িতদেরও খোঁজ দিতে পারত। আদালত জড়িতদের দেশ ছাড়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারত। এটাই হতে পারত পরিকল্পনা। তারা আমাদের হাতের মুঠোয় ছিল। অর্থ পাচারের ঘটনা যখন সংবাদমাধ্যমে চলে এসেছিল, তখনো তারা (জড়িতরা) ক্যাসিনোতে জুয়া খেলছিল। সুযোগের কত বড় অপব্যবহার!’

এদিকে এএমএলসির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন কিম অংয়ের আইনজীবী ইন্নোসেনসিও ফেরার জুনিয়র। তিনি বলেছেন, যারা ফিলিপাইনে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ নিয়ে এসেছিল, পালিয়ে যাওয়ার আগেই কর্তৃপক্ষকে তাদের চিহ্নিত করতে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন অং। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তার সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল।

তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে অংয়ের সাহায্যের বার্তা নিয়ে ৭ মার্চ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকো সেন্ট্রাল এনজি ফিলিপিনাসে (বিএসপি) গিয়েছিলাম এবং এর মূল হোতাদের আটকে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম। আমরা তাদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাইনি।’

সূত্র জানিয়েছে, প্রাক্তন অর্থবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ফেরার প্রথমে বিএসপির ডেপুটি গভর্নর ও এএমএলসির প্রাক্তন নির্বাহী পরিচালক ভিক অ্যাকুইনোকে টেলিফোন করেছিলেন। ফেরারকে সঙ্গে নিয়ে অ্যাকুইনো এএমএলসির কার্যালয়ে যান এবং সেখানে ফেরার অর্থ চুরির ঘটনায় সহায়তার প্রস্তাব দেন।

ইনকোয়েরারকে ফেরার জানিয়েছেন, কী কারণে এএমএলসির কর্মকর্তারা তার প্রস্তাবকে ফিরিয়ে দিয়েছিল, সেই কারণ তিনি জানেন না।

অর্থ পাচারের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত ও ক্যাসিনো থেকে অর্থ উদ্ধারে অংয়ের সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় তার বিরুদ্ধে মামলা করে এএমএলসি।

এদিকে অংয়ের আইনজীবীর অভিযোগ অস্বীকার করে এএমএলসির নির্বাহী পরিচালক জুলিয়া বাকাই-আবাদ বলেছেন, ফেরার নিজেকে অংয়ের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেননি। তিনি নিজেকে কেবল মিডাস হোটেলের আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই