মেইন ম্যেনু

রিভিউ নাকচ, সাকা-মুজাহিদের ফাঁসি বহাল

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার পৃথক আবেদন আজ বুধবার খারিজ করে দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এতে দুজনেরই ফাঁসির আদেশ বহাল থাকল।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পর পর পৃথক এ দুটি আদেশ দেন। এই বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

এটি সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার চূড়ান্ত আদেশ।

এখন এই দুজনের সামনে আর একটি সুযোগ আছে, তা হলো রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়া। এরপরই আসবে দণ্ড কার্যকরের বিষয়টি।

সাকা চৌধুরীর ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের ওপর শুনানি হয় আজ সকালে। শুনানি শেষে আদালত আজই বেলা সাড়ে ১১টায় এ বিষয়ে আদেশের সময় নির্ধারণ করেন।

গতকাল মঙ্গলবার ওই আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু সাকা চৌধুরীর আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি এক দিন পিছিয়ে দেন আদালত।

১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সাকা চৌধুরীকে ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। পরে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেন সাকা চৌধুরী। আপিলের রায়ে তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকে।

আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় ৩০ সেপ্টেম্বর। এর ১৪ দিনের মাথায় ওই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেন সাকা চৌধুরী।

২০ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন চেম্বার আদালত ওই আবেদন শুনানির জন্য ২ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করেছিলেন। পরে সাকা চৌধুরীর আইনজীবীর সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির তারিখ ১৭ নভেম্বর পুনর্নির্ধারণ করেন আপিল বিভাগ।

এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার একই বেঞ্চে মুজাহিদের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানি শেষ হয়। আদালতে মুজাহিদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। তাঁকে শুনানিতে সহযোগিতা করেন আইনজীবী শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

মুক্তিযুদ্ধকালে বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সে সময়কার আলবদর বাহিনীর নেতা মুজাহিদকে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন মুজাহিদ। চলতি বছরের ১৬ জুন ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ। ৩০ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে মুজাহিদের আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এরপর ওই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন মুজাহিদ।

মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী এই দুই অপরাধীর ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার শুনানিকে কেন্দ্র করে গতকাল মঙ্গলবার থেকেই রাজধানীতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের সূত্র বলেছে, রায়ের বিরোধিতাকারী চক্রটি নাশকতা চালাতে পারে বলে তথ্য রয়েছে। এ জন্যই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম আজ সকালে বলেন, গতকাল থেকে রাজধানীতে অতিরিক্ত সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া সাদা পোশাকে গোয়েন্দারাও মাঠে আছেন।






মন্তব্য চালু নেই