মেইন ম্যেনু

‘রিশা হত্যার দায় এড়াতে পারে না স্কুল কর্তৃপক্ষ’

উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তার রিশা হত্যাকাণ্ডের দায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এড়াতে পারে না বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সামনে রিশা ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার পরও তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে এগিয়ে আসেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ। উল্টো মামলা সংক্রান্ত জটিলতার ভয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে তারা। এমন অভিযোগ রিশার অভিভাবক ও রিশার সহপাঠীদের। নারী ও শিশু অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘স্কুলে সন্তানদের শুধুমাত্র পড়ালেখা করতে পাঠানো হয় না। স্কুল কর্তৃপক্ষেরও কিছু দায় আছে। উইলস লিটল ফ্লাওয়ারের মত একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এমন উদাসীন আচরণ কারোরই কাম্য নয়।’ রিশা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা বিষয়েও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।খবর পরিবর্তনের।

রিশা হত্যাকাণ্ডের পর অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, ‘রিশা ছুরিকাহত হয় স্কুলের সামনের ফুটওভার ব্রিজের কাছে। সেখান থেকে সে রক্তাক্ত অবস্থায় এসে দাঁড়ায় স্কুলের ভেতরে, তখন তার পেটের বাম দিক থেকে রক্ত পড়ছিল। স্কুলের গাড়িটা পাশেই ছিল, কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাকে হাসপাতালে পাঠাতে গাড়িটা দেয়নি। কোনো শিক্ষক এগিয়ে আসেননি। এ অবস্থায় প্রথম কলেজ সেকশনের দুজন শিক্ষার্থী এসে ওর ওড়না খুলে পেটে বেঁধে রক্ত থামানোর ব্যবস্থা করে, তারা নিয়ে যায় পাশের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে নেওয়ার পর গুরুতর আহত বলে ঢাকা মেডিকেলে পাঠিয়ে দেয়। রিকশায় করে এখান থেকে রিশাকে তারা নিয়ে যায়। পুলিশ কেস (মামলা) হবে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসেনি। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল বলেছেন, মামলা হবে, ধরা যাবে না।’

রিশার মা অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আমার বাচ্চার রক্ত পড়তেছিল, কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপালসহ কেউ এগিয়ে আসেননি। শিক্ষার্থীরা কোলে করে হাসপাতালে নিয়ে গেছে, পেটের ভেতর থেকে নাড়ি বের হয়ে গিয়েছিল।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত বলে মনে করছেন নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘নিজেরা করি’ এর নির্বাহী পরিচালক খুশী কবীর।

তিনি বলেন, ‘উইলস লিটল ফ্লাওয়ারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ শোনা যাচ্ছে তার সঠিক তদন্ত প্রয়োজন। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মামলা তো হবেই, যে কোনো অপরাধেরই তো মামলা হবে। কিন্তু এর জন্য একটা শিশু চোখের সামনে মারা যাবে, তারা চুপ করে থাকবে, সেটা মেনে নেওয়া যায় না। এটা এক ধরনের অপরাধ।’

খুশী কবীর বলেন, ‘অভিভাবকদের এমন অভিযোগ আমলে নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষেরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত। আমরা তো ছেলে মেয়েকে স্কুলে পাঠাই শুধুমাত্র পাঠ্যবই পড়ার জন্য না। তাদের দেখ-ভাল করার জন্যও। স্কুলের গেটের সামনে এমন ঘটনা ঘটেছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ তো পারত তাদের গাড়ি দিতে। এমনকি তারা তো একটা অ্যাম্বুলেন্সেরও ব্যবস্থা করতে পারত।’

তিনি বলেন, ‘রিশা হত্যাকাণ্ডের পর অভিভাবক, সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন করতে দেখেছি, কিন্তু অবাক হলেও সত্যি একজন শিক্ষককে এই আন্দোলনে দেখছি না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যাপারে যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির গাফিলতি প্রমাণিত হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

এ ব্যাপারে কথা বলা হলে মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট ফাহমিদা নাসরিন বলেন, ‘আমাদের দেশে একটা ভয়ানক বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমার চোখের সামনে একজন মানুষ মারা যাচ্ছে, আমরা এগিয়ে যাচ্ছি না মামলার ভয়ে। রিশা হত্যাকাণ্ডের পর স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা গুরুতর। এটা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। একজন অভিভাবক তার সন্তানকে স্কুলে পাঠাচ্ছে এই নিশ্চয়তায় যে সেখানে তার সন্তানের নিরাপত্তাটা স্কুল কর্তৃপক্ষ দেখবে। রিশা হত্যাকাণ্ডটি স্কুলের ভেতরে বা বাইরে যেখানেই হোক না কেন, তারা যখন অবগত হয়েছিলেন রিশা আহত, তখনই তাদের উচিত ছিল রিশার চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া। কিন্তু সেখানে তারা সেটি করেননি। আমি মনে করি রিশা হত্যা মামলায় এই বিষয়টিও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’

স্কুলটির বাংলা মিডিয়ামের ইংরেজির শিক্ষক রাকিব হাসান বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপালই এ বিষয়টি সম্পর্কে ভালো বলতে পারবেন। আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

অভিভাবকদের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে উইলস লিটল ফ্লাওয়ারের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মো. আবুল হোসাইনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।






মন্তব্য চালু নেই